পালকি : গজারিয়ায় পালকি করে বর কনের বাড়ী

মোয়াজ্জেম হোসেন (জুয়েল): বাক বাকুম পায়রা, মাথায় দিয়ে টায়রা, বউ সাজবে কালকে, চড়বে সোনার পালকে”- এ ছড়া এখনো ছোটদের অনেকেই শিখায়্ ছড়ার. … আর পালকি ছোট বাহন। সেই সময় অপেক্ষাকৃত চদুলে কলের গান/মাইক লাগিয়ে শ্বশুর বাড়িতে বিয়ে করতে যেত। পালকির আগে পিছে বরযাত্রীরা লাইন ধরে সারিবদ্ধভাবে যেত। ঐতিহ্যবাহী পালকি বর্তমান প্রজন্মের কাছে কাল্পনিক বা রূপকথার কাহিনীর মতোই অনেকটা। আধুনিক যুগে প্রযুক্তির উৎকর্ষে হারিয়ে যাচ্ছে ঋতু বৈচিত্র্যের দেশের হাজার বছরের ‘পালকি’।

গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী পালকি বিলুপ্ত হলেও গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর ইউণিয়নের নয়াকান্দি গ্রামের মো:মজিদ দেওয়ানের পুত্র মো: সালাউদ্দিন দেওয়ান গত শুক্রবার ভিটিকান্দি মুক্তিযোদ্ধা বুলু প্রধান এর কন্যা মোসা:বিথী আক্তার বিবাহে, পালকি চড়ে বর কনের বাড়ীর যাওয়ার সময়ে উৎসক এলাকাবাসী রাস্তার দু-পাশে একনজর দেখার জন্য ভীড় জমায়।

কয়েক বছর আগে গ্রামের বিয়ের বর-বধূকে বাহনের অন্যতম বাহন ছিল এই ‘পালকি’ । গায়ের পথে পালকি করে নববধূকে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখতে গ্রামের ছেলে-মেয়েরা রাস্তায় আর বৌ-ঝিয়ের বাড়ির ভেতর থেকে উঁকি-ঝুঁকি মারত, অনেক সময় মেয়ের বাবা বায়না ধরতেন, আমার মেয়েকে তুলে নিতে হলে পালকি লাগবে,পালকি বহনকারী বেয়ারাদের ‘উহুমনা উহুমনা’ শব্দে এলাকায় মুখরিত হত। আধুনিকতার ছোঁয়ায় কালের বিবর্তনে এখন আর গ্রামঞ্চলে পালকির ব্যবহার নেই বললেই চলে। এক সময় গজারিয়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে পালকির প্রচলন ছিল,বর্তমানে পালকির প্রচলন না থাকায় এ পেশার সঙ্গে জড়িতরা জীবন-জীবিকার তাগিদে অন্যান্য পেশা বেছে নিয়েছে। এই এলাকায় নতুন প্রজম্মের কাছে স্বপ্নের পালকি বললেই চলে।

গজারিয়া আলোড়ন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.