ঐতিহ্য ধরে রেখেছে মুন্সীগঞ্জের পাটি প্রস্তুতকারীরা

কলকারখানার আধুনিক যুগে পাটির ঐতিহ্য ধরে রেখেছে মুন্সীগঞ্জের পাটি প্রস্তুতকারীরা। মুন্সীগঞ্জ পাটি উৎপাদনের একটি অন্যতম অঞ্চল। মিলের চাদরের যুগেও পাটির প্রচলন এখনও ব্যাপক ভাবে গ্রাম-বাংলায় রয়েছে। গ্রীষ্ম মৌসুমে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য পাটির চাহিদা বাড়তে থাকে। টঙ্গীবাড়ি উপজেলার আব্দুল্লাপুর আখড়া বাজারে প্রতি রবিবার পাটির হাট বসে। জেলার সর্ব বৃহৎ হাট এটি।

এখানে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকাররা পাটি ক্রয় করতে আসে। এ হাটে পাটির বিক্রি হয় ভোর থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত। প্রতি হাটবারে লক্ষ লক্ষ টাকার পাটি বিক্রি হয় এই হাটে। এখানে বিভিন্ন ধরনের পাটি পাওয়া। যেমন শীতল পাটি, নকশি পাটি ও সাধারণ পাটি। শীতল পাটি দাম সাধারণ পাটির চেয়ে প্রায় তিনগুণ।

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলা ও সিরাজদিখান উপজেলার কয়েকটি গ্রামে এখনও পাটি তৈরি করে থাকে বেশ কয়েকটি পরিবার। সদর উপজেলার সুয়াপাড়া গ্রামে, টঙ্গীবাড়ির পাইকপাড়া, বাঘিয়া ও কামাড়খাড়া এবং সিরাজদিখান উপজেলার ভাটিমভোগ, বয়রাগাদি, তালতলার পাশের আরমহল গ্রামে পাটি তৈরির ঐতিহ্য অব্যাহত আছে। যদিও কালের পরিক্রমায় কল কারাখানার দাপটে অনেকে পাটি তৈরির পেশা ছেড়ে দিয়েছে।

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার আব্দৃল্লাপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের পাইট্টাল বাড়ি এ অঞ্চলে সর্ব বৃহৎ পাটি উৎপাদনকারীূ এলাকা। পাইটাল বাড়ির ঐতিহ্য কয়েকশ বছরের। বংশ পরমপরায় চারশ বছর ধরে তারা পাটি উৎপাদন করে আসছে। এখানে বর্তমানে রয়েছে ৭০টি পরিবার। যারা সকলেই হিন্দু সম্প্রদায়ভুক্ত। সদস্য সংখ্যা হবে চারশতের অধিক।

জানাগেছে, একটি ৪ ঢ ৫ হাত সাধারণ পাটি তৈরি করতে পড়ে ২শত টাকা। এ পাটি বিক্রি করা হয় ৩১৫টাকা। মূত্রা গাছ থেকে পাটি তৈরি করা হয়। মূত্রা গাছ থেকে পাওয়া যায় বেতি, আতি ও বুকা। বেতি থেকে পাটি তৈরি করা হয়। আর আতি ব্যবহার হয় পান বিড়াসহ বিভিন্ন ধরনের মুদি সদাইয়ের বাধার কাজে লাগে। বুকা লাকড়ি হিসেবে ব্যবহার করা হয়।এ মূত্রা আসে বৃহত্তম সিলেট বিভাগের গারালঘাট অঞ্চল থেকে প্রধান পাটি উৎপাদন মুন্সীগঞ্জ। এছাড়াও স্থানীয়ভাবে মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন অঞ্চল থেকেও মূত্রাক্রয় করে থাকে।

পাটি সাধারণত চার মাপের হয়ে থাকে। ৪/৫হাত, সাড়ে ৩/সাড়ে ৪হাত, ৩/৫হাত, সাড়ে৩/আড়ই হাত মাপের পাটি প্রস্তুত করা হয়। আর শীতল পাটি সাধারণত অর্ডার পেলে তারা বানিয়ে দেয়। একটি শীতল পাটি তৈরি করতে কমপক্ষে ৫০০টাকা খরচ হয়। তা বিক্রি করা হয়। ৮০০-১০০০টাকা। আর বিক্রি হয় ৮০০টাকা মণ দরে। পাইটাল বাড়ির পাটি প্রস্তুতকারী বিষ্ণু নাথ ভদ্র (৫০) বলেন, আগের চেয়ে এখন পাটি দাম ও চাহিদা ভালো।

তবে সরকারকারীভাবে ঋণ সহায়তা পেলে এর উন্নয়ন ঘটবে এবং জীবন মানের উন্নয়ন ঘটবে। আমাদের সমিতির সভাপতির শতীষ্ণ চন্দ্র ভদ্র (৮০)-র মৃত্যুর পর ১৫ বছর ধরে এ সমিতির কার্যক্রম নেই। সভাপতির মাধ্যমে আমাদের একে অপরের সহযোগিতা পাওয়া যেত। সভাপতি মারা যাওয়ার পরে তা বন্ধ হয়ে গেছে।

টু-ডে বাংলাদেশ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.