মুন্সীগঞ্জে পুলিশ বাহিনীর মাঝে চাঁপা ক্ষোভ!

প্রধানমন্ত্রীর আদেশের ৩ বছর পার
লাবলু মোল্লা: পুলিশের এসআই, সার্জেন্ট, টিএসআইদের ২য় শ্রেনীতে উন্নীত করলেও তাদের লাভের চেয়ে ক্ষতি হচ্ছে বেশী! শান্তি শৃক্ষলা রক্ষার অতন্ত্র প্রহরী বাংলাদেশ পুলিশ। আর এই পুলিশ বাহিনীর বেশীরভাগ কাজকে তরান্বিত করতে এই বাহিনীর এসআই, সার্জেন্ট বা টিএসআইরা প্রানান্ত দেশ সেবায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। দেশের মানুষ খুব কাছে থেকে এই সমস্ত কর্মকর্তাদের সেবা পেয়ে থাকেন। এই সমস্ত অফিসারদের বদৌলতে পুলিশ বাহীনি এখন বন্ধু বাহীনিতে পরিনত হয়েছে। এখন মানুষ পুলিশকে বন্ধু হিসেবেই চিনেন এদের কারনে।

এক সময় গ্রামান্তরে প্রবাদ ছিল দারোগার নায়ের মাঝি। অর্থাৎ একজন দারোগার কতই না ক্ষমতা ছিল। তাকে যে নায়ের মাঝি বহন করতো তার ক্ষমতাও ছিল বেশ। সে সময় পুলিশ দেখলে গ্রামের মানুষ দিকবিদিক ছুটাছুটি করতো। ভয়ে কাপতে কাপতে অনেকে বেহুশ হওয়ার ঘটনা রয়েছে বয়স্ক লোকদের জানা। কিন্তু এখন দিন পাল্টেছে। পুলিশ বাহীনির ভাবমূর্তিও উন্নত হয়েছে। এখন আর অপরাধীরা ছাড়া কেউ পুলিশ দেখলে দিকবিদিক ছুটাছুটি করে না। বরং পুলিশ দেখলে সাহশ বাড়ে। ভাল কাজ করতে উৎসাহ বোধ করে। এ সব কিছু হয়েছে পুলিশের রুট লেবেলের কর্মবকর্তাদের কাজের গুনে। তারা মানুষকে ভালবেসে আইনকে সুপ্রতিষ্টিত করতে অবিরাম কাজ করে চলছে। তাইতো একজন মানুষ পুলিশের এসআই, সার্জেন্ট বা টিএসআইকে ভাই বলেও সম্ভোধন করে থাকে। তাদের সাথে সুখ দুখের কথা জানায় অনায়াসে। পুলিশ বাহীনিকে মূলত তারাই মানুষের অতি কাছের একটি প্রতিষ্ঠানে রুপান্তরিত করতে পেরেছে।

পলিশের এসআই, এবি ইউবি, সার্জেন্ট বা টিএসআইরা দেশের ক্রান্তিলগ্মে শক্ত হাতে হাল ধরে দেশে শান্তি শৃক্ষলা রক্ষার্থে সবার আগে এগিয়ে চলে। শত ঝড়ঝঞ্জা উপেক্ষা করে তারা আইনের হাতকে মজবুত রাখতে সদা সচেষ্ট থাকে। অনেক সময় এই সমস্ত কর্মকর্তাগন আইনকে প্রতিষ্ঠিত করতে তাদের জীবন বলী দিয়ে থাকেন। তারও নজীর রয়েছে ভুরি ভুরি। তাদের এই অত্মত্যাগের মহিমায় দেশ আজ মহিমান্বিত। পুলিশ বাহিনীকে একটি শক্তিশালী বাহিনীতে পরিনত করেছে। তাদের অবদানকে স্বিকৃতি দেওয়ার মানসে তাদেরকে সম্মানিত করতে গণপ্রজাতন্ত্রি বাংলাদেশ সরকারের প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দ্যোগে ওই সমস্ত কর্মকর্তাদেরকে তৃতীয় শ্রেনীর কর্মকর্তা থেকে ২য় শ্রেনীর কর্মকর্তা পদে উন্নীত করা হয়। এই উপলক্ষে বিগত ২০১২ সালের ৩০ জুলাই স্ব:ম:/পু:-২/উন্নীতকরন-১/২০০৮/৬২৪ নং স্বারকে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব ফারজানা জেসমিনের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের বলা হয় বাংলাদেশ পুলিশের সার্জেন্ট/সাব-ইন্সপেক্টর/টিএসআই পদকে ৩য় শ্রেনী হতে ২য় শেনীতে উন্নীত করা হল। সরকারের এহেন ষোষনায় এই বাহিনীর পরিশ্রমি ওই সমস্ত অফিসারগন আরো উদ্দোমী হয়ে ওঠেন। কিন্তু দির্ঘ দিন অতিবাহিত হলেও তাদের লাভের লাভ হয় নাই কানাকড়িরও। এখন তারা হতাশ আর ব্যকুল। এতে তাদের লাভের চেয়ে ক্ষতিই হয়েছে বেশী বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক ডজন এসআই পদস্থ্য পুলিশ কর্মকর্তা।

তাদের এই উন্নীত করনের ফলে তাদের সরকারী বেতন স্কেল হওয়ার কথা ছিল ২০০৯ এর ১০ম গ্রেডের বেতন স্কেল। কিন্তু অত্যান্ত দুখের বিষয় হলেও সত্য যে আজ প্রায় ৩ বছর অতিবাহিত হলেও তাদের সেই পদের উন্নীত করনের কোন সুফল তারা পায় নাই। হয় নাই কোন নিতিমালা বা ড্রেসরুল। সময় হলেও তাদের কোন টাইম স্কেল/সিলেকশন গ্রেড দেওয়া হচ্ছে না। বরং খোজ নিয়ে জানা গেছে তারা পদে পদে ক্ষতি গ্রস্থ্য হয়ে চলেছে।

মুন্সীগঞ্জের কয়েকজন এসঅই জানান,তাদের বেতন ভাতা উত্তোলন নিয়েও বিপাকে রযেছেন তারা। দেশের অন্য সব জেলায় যে যেখানে যে উপজেলায় কর্মরত আছেন সে সেখানকার উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিস থেকেই বেতন উত্তোলন করেন। কিন্তু মুন্সীগঞ্জের এই সমস্ত অফিসারদের বেতন ভাতা উত্তোলন করতে হয় জেলা হিসাবরক্ষন অফিস থেকে। এতে করে জেলার বিভিন্ন উপজেলার ভিন্ন ভিন্ন এলাকায় কর্মরত এসআইগন সঠিক সমায়ে বেতন সহ অন্যান্ন ভাতাদি উত্তোলন করতে পারছে না। এমনকি তাদের সেই ন্যায্য ভাতাদি উত্তোলন করতে গিয়ে বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে। পুলিশের অফিসার হয়েও জেলার এজি অফিসে বকশিস দিয়েই বেতন নিতে হয়। এর পর যাওয়া আসার খরচ এবং সময় অপচয়তো রয়েছেই।

এক দিকে তারা ২য় শ্রেনীর কর্মকর্তার কোন টাইম স্কেল বা সিলেকশন গ্রেড পাচ্ছে না। অপর দিকে পূর্বে ১০০ টাকা টিফিন ভাতা পেতেন এখন তা পাচ্ছেন না। তাদের ২০০০ টাকা পোষাক ভাতা পাচ্ছে না। এ ছাড়াও ধোপা নাপিত বাবদ ১৫০ টাকার সুভিধা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে তারা। এই সমস্ত সুভিধা তো পাচ্ছেই না বরং ওই পদায়নে তাদের কাছ থেকে প্রতি মাসে সরকারী কর্মচারী কল্যান তহবিল বাবদ ৫০ টাকা এবং সরকারী কর্মচারী যৌথ বিমা বাবদ ৪০ টাকা মোট ৯০ টাকা কর্তন করে নেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া খোজ নিয়ে আরো জানা গেছে বিগত ২০১৩ সালের ৫ মে নিয়োগ/২০১২/১৮১৫(২৭) নং স্বারকে পুলিশ হেডকোয়ার্টার-ঢাকার এআইজি মো: আমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয় যে, ৩০/৭/১২ খ্রি: তারিখে বাংলাদেশ পুলিশের এসআই/সার্জেন্ট/টিএসআই পদকে ৩য় শ্রেনীর পদ থেকে ২য় শ্রেনীর পদে উন্নীতকরনের লক্ষে মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রজ্ঞাপন জারী করা হইলেও বর্নিত পদ সমুহে নিয়োগ/পদোন্নতি/ছুটি/স্থায়ীকরন, উচ্চতর বেতন স্কেল(টাইম স্কেল) এবং শৃক্ষলামূলক কার্যক্রম গ্রহন সংক্রান্তে নতুন কোন বিধি বিধান প্রণিত হয় নাই। পুলিশ বিভাগের এহেন চিঠিতে এ সমস্ত কর্মকর্তারা হতাশ এবং তাদের মাঝে চাঁপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এসআই এ প্রতিবেদকে বলেন প্রধানমন্ত্রীর সময় উপযোগি উদ্দ্যোগকে বৃদ্ধাংগুলি দেখানো হচ্ছে। এবং তাদের প্রতি অবিচার করা হচ্ছে। তাদের সম্মানের চেয়ে অসম্মানই করা হচ্ছে বেশী। এমনকি কোন একটা অনুষ্ঠানে তারা গেলে এ সমস্ত অফিসারদেরকে বসার জন্য একটি চেয়ার পর্যন্ত দেওয়া হয় না। তাদেরকে সাধারন কনস্টেবলদের সাথে দাড়িয়ে দাড়িয়ে অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহন করতে হয়। তাদেরকে ২য় শ্রেনীর কর্মকর্তা হিসেবে কোন প্রকার মর্যাদা বা সুযোগ সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে না। সরকারের একটি প্রজ্ঞাপন এ ভাবে অবমুল্যায়িত হতে পারে না। তাই তাদের ধারনা বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে গেলে এর একটা সমাধান হবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অন্যথায় তাদের এ পদোন্নতি উন্নতির চেয়ে ক্ষতির পরিমাণ বেশী হচ্ছে।

ইতোমধ্যে যারা এই পদে থেকে চাকরীর মেয়াদ শেষ করে চাকরী হতে অবসরে চলে যাচ্ছেন তারাই বেশী আক্ষেপ করছেন। তারা বলছেন আমরা না পেলাম বেহেস্ত না পেলোম দোযোখ। আমারা না পেলাম সস্মান না পেলাম কোন প্রকার সুযোগ সুভিধা। দেশের আইন শৃক্ষলা রক্ষাকারী সংস্থা পুলিশ বাহিনীর এ সমস্ত কর্মকর্তাদের পদোন্নতির বিষয়টি সত্তর বাস্তবায়িত হবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এটা হলে তাদের মাঝে ফিরে আসবে শান্তি ও চিরতরে অবসান হবে তাদের সেই ক্ষোভের। দেশ সেবার অতন্ত্র প্রহরী শান্তির রক্ষাদূত পুলিশ বাহিনীর এ সমস্ত ২য় শ্রেনীর কর্মকর্তারা ফিরে পাবে কর্মদ্দ্যোম দূর হবে সকল হতাশা।

এ সব বিষয়ে মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার বিল্পব বিজয় তালুকদারের সাথে এ প্রতিবেদক কথা হলে তিনি জানান, পদোন্নতির বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের ব্যাপর। পুলিশ বাহিনীর উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষও বিষয়টি জ্ঞাত আছেন। হয়তো এর একটা সমাধানও বের হবে। তবে জেলার সাব-ইন্সেপেক্টরদের বেতনের বিষয়টি ঢালাওভাবে সত্য নয় বলে তিনি দাবী করেন।

তিনি জানান, পুলিশের কানুন অনুযায়ী তাদের বেতন ভাতাদি পরিশোধ করা হয়। জেলা শহরের বাহির যে সমস্ত থানায় তারা আছেন তাদের মধ্যে অনেকে সংশ্লিষ্ট থানা থেকে বেতন ভাদাদি উত্তোলন করে থাকেন আর বাকীরা জেলা হিসাব রক্ষণ কার্যালয় থেকে তা নিয়ে থাকেন। তবে বিষয়টি আরো বিস্তারিত তদারকী করবেন বলেও এ প্রতিবেককে তিনি জানান।

তাজাখবর২৪

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.