অপহরণের পর সিরাজদিখানে ছাত্র উদ্ধার : গ্রেপ্তার ১

১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি
সুব্রত দাশ রনক: ৯ বছরের শিশু অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় ১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে সিরাজদিখান থানা পুলিশ। দুপুর ২টায় উপজেলার বয়রাগাদী ইউনিয়নের গোবরদী গ্রাম থেকে অপহরনকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত অপহরনকারী মুন্সীগঞ্জ জেলার টংগীবাড়ি উপজেলার সূবচনী রসকাঠী গ্রামের দেলোয়ারের ছেলে পাভেল (১৮)। উদ্ধার করা হয় অপহৃত শিশুকে।

পুলিশ জানায়, সিরাজদিখান উপজেলার বয়রাগাদী ইউনিয়নের গোবরদী গ্রামের কাতার প্রবাসী শেখ তাড়া মিয়ার ছোট ছেলে ইব্রাহীম খলিলকে (৯) অপহরণ করে ঢাকার যাত্রাবাড়ি নিয়ে আসে। ইব্রাহীম খলিলকে অপহরণ করা হয় গোবরদী গ্রাম থেকে। সেখানে তার বাড়ি। বাজি ফোটানো, মোবাইলে গেইম খেলা ও পেয়ারা কিনে দেয়ার কথা বলে তাকে অপহরণ করা হয়। এরপর মোবাইল ফোনে ইব্রাহীম খলিলের মেঝো চাচীর কাছে অপহরণকারীরা ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।

এ বিষয়ে বুধবার সিরাজদিখান থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন ইব্রাহীম খলিলের মা মাসুদা বেগম। এরপরই পুলিশ মোবাইল ফেনের কললিস্ট নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালালে অবস্থার বেগতিক দেখে অপহরনকারীরা শিশুটিকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ায়ে সিএনজি বেবী করে সিরাজদিখান পাঠিয়ে দেয়। সিরাজদিখানে গ্রামের সামনে আসলে শিশুটির জ্ঞান ফিরলে ওর মুখে শুনে অপহরনকারীর সহযোগী আপন ফুপাতো ভাই পাভেলকে গ্রেপ্তার করে। ইব্রাহীম খলিলের মা মাসুদা বেগম কাদঁদে কাঁদতে বলেন, পাভেল আমার আপন ভাগ্নে। ও ছোট বেলা থেকেই আমাদের বাড়িতে থাকতো। আমার স্বামী কাতারে থাকে আমার তিন ছেলে রুবেল শেখ, নয়ন শেখ ও ইব্রাহীম খলিলের সাথে পাভেলও থাকে। ইব্রাহীম খলিল বয়রাগাদী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেনীতে পড়ে।ক্লাসে ওর রোল নং-১ হওযায় সবাই ওকে খুব আদর করতো।

বাড়িতে পাভেলের সাথেই ইব্রাহীম খলিল বেশী সময় কাটাতো। এবার ঈদে পাভেলকে একহাজার টাকা ও নতুন জামা কাপড় দেই তবুও ও কি করে এ কাজ করতে পারলো। আমি দুধ ভাত দিয়ে কাল সাপ পুষেছি। আমার ছেলেকে অন্য লোক দিয়ে অপহরণ করে আবার মোবাইল করে ১০ লাখ টাকা চায়। এই কয় ঘন্টায় আমার ছেলের জন্য আমি কিছুই খাই নাই। শিশু ইব্রাহীম খলিল বলে, বাজি ফোটানো, মোবাইলে গেইম খেলা ও পেয়ারা কিনে দেয়ার কথা বলে সিএনজিতে ওঠায় পরে একটু গেলেই পাভেল ভাই লাফ দিয়ে সিএনজি থেকে নেমে যায়। দুইটা লোক আমাকে চেপে ধরে সিএনজি করে নিয়ে যায়। রাতে এক বাসায় রেখে আমাকে আম খেতে দেয়। সকালে কিছু না দিয়ে আমাকে পানি খেতে দিলে আমি ঘুমিয়ে পড়ি।

এ ব্যাপারে সিরাজদিখান থানার ওসি(প্রশাসন) মোঃ ইয়ারদৌস হাসান বলেন, শিশু অপহরনের পর ১০লাখ টাকা মোবাইল ফোনে মুক্তিপন দাবী করলে বুধবার রাতে মোবাইল নাম্বার পেয়ে আমরা কললিস্ট বের করে বিভিন্ন এলাকায় তৎপড়তা চালাই্ এ খবর পেয়ে অপেশাদার অপহরন কারীরা শিশুটিকে ঘুমের ওষধ খায়িযে সিএনজি করে গ্রামের সামনে ফেলে রেখে যায়। খবর পেয়ে আমরা তার বাড়ি যাই, শিশুটির জ্ঞান ফিরলে ওর কাছথেকে সবশুনে আমরা পাভেলকে গ্রেপ্তার করি। পাভেলকে জ্ঞিাসাবাদ চলছে। জ্ঞিাসাবাদ শেষে মামলা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.