ভোটার টানতে নতুন আইন : ভোটদানের ন্যূনতম বয়স ১৮

রাহমান মনি: বয়োঃবৃদ্ধদের দেশ জাপান। দেশটির জনসংখ্যা ক্রমশ হ্রাস পেয়েই চলেছে। কোনো উৎসাহ যেন জাপানিদের সন্তান জন্মদানে উৎসাহিত করতে পারছে না।

অন্যদিকে রাজনীতিবিমুখ হিসেবে জাপানিরা ইতোমধ্যে বিশ্বে স্থান করে নিয়েছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম। কে ক্ষমতায় আসল বা গেল তা নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। অনেক শিক্ষার্থী রয়েছেন, কোন দল ক্ষমতায় তা বলতে পারেন না। প্রধানমন্ত্রী আবের নাম জানলেও রুলিং পার্টি কিংবা কেবিনেট মন্ত্রীদের নাম জানা নেই তাদের। লেখাপড়া শেষ করে ভালো একটি চাকরি পেলেই নিজেকে ধন্য করেন এসব শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করার পর যোগ্য চাকরির আশা ছেড়ে ‘পার্ট টাইম জব’কে বেছে নিচ্ছেন অনেক তরুণ প্রজন্ম।

এসব তরুণ প্রজন্মের ভোটদানের অনীহা বলার অপেক্ষা রাখে না। অনেকের সঙ্গেই কথা বলে জানা যায়, ভোটের দিনটির কথা তাদের মনে থাকে না। টেলিভিশনে খবর দেখে কিংবা আন্তর্জালের মাধ্যমে তারা জানতে পারে যে, দিনটি ভোটের দিন ছিল। যদিও পূর্ব থেকেই স্থানীয় প্রশাসন থেকে তাদের অবহিত করা হয় স্বীয় ঠিকানায় ব্যালট নাম্বারসহ। তারপরও তাদের এত অনীহা।

ভোট প্রদান যেন বৃদ্ধ বয়সীদের কাজ। বৃদ্ধ, বৃদ্ধারাই জাপানে ভোট প্রদান করে থাকেন। তাদের সংখ্যাও নেহায়েতই কম নয়। মোট জনসংখ্যার ৮০% ভোটার। ১২ কোটি ৭০ লাখ জনসংখ্যাবিশিষ্ট জাপানের ভোটারের সংখ্যা দশ কোটিরও বেশি।

নতুন প্রজন্মকে ভোট প্রদানে আকৃষ্ট করার জন্য বিভিন্ন ক্যাম্পেইন করেও আশাপ্রদ কোনো ফল না পেয়ে আরও এক নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে জাপান। এই পদক্ষেপ অনুসারে ভোটারদের বয়স আরও এক ধাপ কমানো হয়েছে। তরুণ ভোটারদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করার জন্যই এই পদক্ষেপ।

নতুন পদক্ষেপ অনুযায়ী ভোট প্রদানে ন্যূনতম বয়স করা হয়েছে ১৮ বছর। দীর্ঘদিন যা ২০ বছর ছিল। জাপান পার্লামেন্টে এই ব্যাপারে একটি আইনও পাস হয়েছে। ১৭ জুন ২০১৫ বুধবার জাপান পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে সর্বসম্মতিক্রমে ভোট প্রদানের ন্যূনতম বয়স ২০ থেকে কমিয়ে ১৮ করা হয়েছে। আর এতে করে গত ৭০ বছর ধরে চলে আসা নিয়মের বড়সড় পরিবর্তন ঘটানো হলো।

জাপানের আইন অনুযায়ী নিম্নকক্ষে কোনো বিল অনুমোদন পাওয়ার পর উচ্চকক্ষেও তা পাস হতে হয়। উচ্চকক্ষে পাস হওয়ার পর তা আইনে পরিণত হয়। ৪ জুন ২০১৫ বৃহস্পতিবার বিলটি নিম্নকক্ষে পাস হওয়ার পর অনুমোদনের জন্য তা উচ্চকক্ষে পাঠানো হলে সর্বসম্মতিক্রমেই তা গৃহীত হয়। আর এর ফলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-উত্তর জাপানে ১৯৪৫ সালে ভোট প্রদানের ন্যূনতম বয়স নির্ধারণ ছিল ২০ বছর। এর আগে ১৯২৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কাতো তাকাআকি প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন ২৫ ঊর্ধ্ব শুধু পুরুষরাই ভোট প্রদানের যোগ্য ছিলেন। তারও আগে শুধু ৩% কর প্রদানকারী প্রাপ্ত বয়স্করা ভোট প্রদানের যোগ্য ছিল। মেয়েদের ভোট প্রদানের কোনো ক্ষমতা ছিল না। ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত জাপানে নারীরা কোনো ভোট প্রদান করতে পারতেন না।

১৯২৪ সালে হিরাৎসুকা রাইচোর নেতৃত্বে নারীরা ভোট প্রদানের অধিকার নিয়ে আন্দোলন শুরু করেন। ফুজিনসানসেইকেনকাকুতোকুকিসেইদোমেই সংগঠন নাম দিয়ে আন্দোলন শুরু করেন। ১৯২৫ সালে অর্থাৎ এক বছর পর দলের নাম পরিবর্তন করে কিছুটা সংক্ষিপ্ত করে ফুসেনকাকুতোকুদোউমেই নাম দিয়ে আন্দোলন চালিয়ে দীর্ঘ ২১ বছর পর সাফল্যের মুখ দেখেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপান আত্মসমর্পণ করার পর নারীদের ভোট প্রদান অধিকার দিতে বাধ্য হয় এবং ভোট প্রদানে ন্যূনতম যোগ্যতা ২০ বছর নির্ধারিত হয়।

নতুন আইন অনুযায়ী আগামী ২০১৬ এপ্রিল ২৫-এ যাদের বয়স ১৮ হবে তারাই পরবর্তীতে ভোট প্রদানের যোগ্যতা অর্জন করবে। নতুন আইনে ২৪ লাখ ভোটার যোগ হবেন ভোটার হিসেবে। ভোট প্রদান সহজযোগ্য করার জন্য ‘অনলাইন পদ্ধতি’ চালু করার জন্য কাজ শুরু হয়েছে। খুব শিগগিরই ঘোষণা দেয়া হবে।

rahmanmoni@gmail.com

সাপ্তাহিক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.