শ্রীনগরে ব্যবসায়ীকে শ্বাষরোধ করে হত্যার ঘটনায় মূল হোতা গ্রেপ্তার

আরিফ হোসেন: শ্রীনগরে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আলমগীর বয়াতী (৪৮) কে শ্বাষরোধ করে হত্যার ঘটনায় মূলহোতাকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১১। সোমবার বিকাল চারটায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে র‌্যাব-এর ভাগ্যকূল ক্যাম্প কমান্ডার মো: আমমার হোসেন জানান, মোবাইল ফোন কল লিষ্টের সূত্র ধরে ওই দিন সকাল আটটার দিকে দোহার উপজেলার শিমুলিয়া এলাকা থেকে হত্যাকান্ডের মূলহোতা আশরাফুল (৩২) কে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় র‌্যাব তার কাছে থেকে নিহতের ব্যবহৃত নকিয়া মোবাইল ফোন সেটটি উদ্ধার করে।

গত শনিবার সকাল নয়টার দিকে উপজেলার বালাশুর শিশুসদনের পাশের একটি কলাবাগান থেকে আলামগীরর বয়াতী (৪৮) এর লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত আশরাফুলের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী র‌্যাব জানায়, দুই সন্তানের জনক আশরাফুলের বাড়ি ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার জঙ্গিকান্দি গ্রামে। তার শশুড়বাড়ী বালাসুর নতুন বাজার এলাকায়। তবে তার শশুড় বাড়ীর সাথে আশরাফুলের সম্পর্ক ভাল ছিলনা। সে ঢাকার রিক্সা চোর সিন্ডিকেটের সক্রিয় সদস্য। রিক্সা চুরি নিয়ে দ্বন্দের কারনে সে ৬ মাস পূর্বে ঢাকা থেকে দোহার এলাকায় এসে বাসা ভাড়া নিয়ে অটোরিক্সা চালানো শুরু করে। এর সুবাদে বালাশুর বাসষ্ট্যান্ডের মুদি দোকানী আলমগীর বয়াতীর সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে।

গত শুক্রবার রাত আটটার দিকে বালাসুর বাজারের মুদি দোকানি আলমগীর বয়াতী উত্তর বালাসুর নিজ বাড়ীতে ফেরার পথে আশ্রাফুল তার আরো দু সঙ্গীকে নিয়ে আলমগীর বয়াতীকে তার বাড়ী থেকে এক কিলোমিটার উত্তরে জমিদার বাড়ী এলাকায় নিয়ে যায়। এসময় আলমগীর বয়াতীর কাছে দোকানের বেচা-কেনার অনেক টাকা পয়সা রয়েছে বলে তারা ধারণা করে তাকে পাশ্ববর্তী কলাবাগানে নিয়ে শ্বাষরোধ করে হত্যা করে। হত্যাকান্ডের সময় আশরাফুল আলমগীরের পা চেপে রেখেছিল বলে র‌্যাবের কাছে স্বীকার করেছে।

এঘটনায় আলমগীর বয়াতীর স্ত্রী রাণী বেগম বাদী হয়ে শ্রীনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। এর পরই মাঠে নামে র‌্যাব। র‌্যাব-১১ এর ২০ জনের একটি টিম টানা দুই দিন চেষ্টা করে হত্যা কান্ডের মূল হোতাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। সোমবার সন্ধ্যা রাতে আশরাফুলকে শ্রীনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.