ভূমিকম্পের পঞ্চম বার্ষিকী প্রার্থনা আর বিনম্র শ্রদ্ধায় স্বজনদের স্মরণ

রাহমান মনি: ২০১১ সালের ১১ মার্চ স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় উত্তর-পূর্ব জাপানে প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্প এবং এর ফলে সৃষ্ট সুনামির আঘাতে নিখোঁজ এবং নিহতদের স্মরণ করছে জাপান। চোখের জল আর প্রার্থনায় স্মরণ করা হয় হারানো স্বজনদের।

সরকারি উদ্যোগে ভূমিকম্প এবং সুনামিতে নিহতদের স্মরণে ১১ মার্চ শুক্রবার রাজধানী টোকিওতে এক বিশেষ স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়। বিশেষ এ স্মরণ সভায় জাপানের সম্রাট আকিহিতো সম্রাজ্ঞী মিচিকো, জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে, মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় সরকারের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, কূটনৈতিক ব্যক্তিগণ, পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ এবং ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি প্রিফেকচার ইওয়াতে মিয়াগি এবং ফুকুশিমা) এর তিনজন বিশেষ প্রতিনিধিসহ ১২ শতাধিক প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

প্রার্থনা সভায় ২টা ৪৬ মিনিটে নিহত এবং নিখোঁজদের স্মরণে তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এর বাইরেও এ সময় কিছুক্ষণের জন্য থমকে দাঁড়ায় পুরো জাপান। জাপানে বসবাসরত অভিবাসীরাও তাতে অংশ নিয়ে থাকে।

২০১১ সালের ১১ মার্চের দিনটিও শুক্রবার ছিল। জাপান পুলিশ প্রদত্ত সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী ভূমিকম্প এবং এর ফলে সুনামির দুর্যোগে ১৯৩০৪ জন নিহত এবং ২৫৬১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ১ লাখ ৭৪ হাজার এখনও নিজ গৃহের বাইরে অর্থাৎ আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে অথবা অন্যত্র বসবাস করছেন। নিজ বসতবাড়িতে এখনও ফিরতে পারছেন না, এর মধ্যে কেবল ফুকুশিমা ১নং পাওয়ার প্লান্টের এল নিকটবর্তী এলাকা যেখানে সুনামির আঘাতে প্রথম এবং সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে সেখানকার ৪ হাজার ৩০০ অধিবাসী রেডিয়েশনজনিত কারণে বসবাস অযোগ্য বিবেচনায় যেতে পারছেন না।

সভায় সম্রাট আকিহিতো বলেন, সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং কাজের অগ্রগতি হওয়া সত্ত্বেও এখনো অনেক মানুষ কষ্টের জীবনযাপন করছেন বা দিন কাটাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, প্রত্যেকের হৃদয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের কথা স্মরণ থাকা উচিত এবং সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়া উচিত। তাহলে প্রত্যেকের কষ্ট উপলব্ধি করা সম্ভব হবে এবং অতি দ্রুততার সঙ্গেই তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারবে।

প্রধানমন্ত্রী আবে বলেন, দুর্গত এলাকাগুলোর পুনর্গঠন প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই অনেকটা এগিয়েছে। মোট ১ লাখ ৩০ হাজার বাড়ি পুনর্গঠন সম্ভব হয়েছে এবং ৯ হাজার আরও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে আরও ১৭ হাজার বাড়ি তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। আবে আরও বলেন, তার সরকার বিপর্যয় থেকে প্রাপ্ত শিক্ষাগ্রহণ করতে বন্ধপরিকর এবং যত দ্রুত সম্ভব একদিন আগে হলেও নিজ নিজ জন্মস্থানগুলোতে ফিরে গিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

স্মরণ সভায় ইওয়াতে থেকে আগত বিশেষ প্রতিনিধি ইয়ামামোতো হিসাতো স্মৃতিচারণ করে বলেন, ১১ মার্চ ২০১১ সালে আমি ছিলাম ১৭ বছরের এবং কলেজ ছাত্রীও আমার দাদা আমাকে একটি বদ্ধ দরজার সামনে দেখতে পায় যেখানে আমার বাবা আমাকে রেখে তার দায়িত্ব পালনে চলে যান। কারণ আমার বাবা ইয়ামামোতো সাচিও ছিলেন অগ্নিনির্বাপণ বিভাগের একজন কর্মকর্তা। ইওয়াতে প্রিফেকচারের মিয়াকো সিটিতে আমাদের বসবাস ছিল। দাদা আমাকে নিরাপদে থাকার জন্য নিজেই ট্রেন স্টেশনে এসে ট্রেনে তুলে দিয়ে যান নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য তার কিছুদিন পর আমাদের দাদাজানের মৃতদেহ পাওয়া যায় আর আমার প্রিয় আম্মাজানের আজও কোনো খোঁজ মিলেনি। অন্যের জীবন রক্ষা করতে গিয়ে তিনি নিজেও জীবন দিয়েছেন। বয়সজনিত কারণে আমি আমার মাকে বিভিন্ন প্রেসার দিতাম, কারণ জানতে চাইতাম কেন আমার বাবাকে সেদিন যেতে হয়েছিল? না গেলে তো আর আমি আমার বাবা-দাদাকে হারাতাম না।

কিন্তু আজ আমি আমার বাবাকে নিয়ে গর্ব করি এবং সেদিন তার দায়িত্ব পালনে দায়িত্বশীল হওয়ায় শ্রদ্ধা করি। নিজ শহরে একজন অগ্নিনির্বাপক কর্মকর্তা হিসেবে তিনি নিজ জীবন উৎসর্গ করে গেছেন।

আবে’র সংবাদ সম্মেলন : বিপর্যয়ের ৫ম বার্ষিকী পালন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে পূর্ববর্তী সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। ১০ মার্চ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আবে বলেন, আগামীকাল বিপর্যয়ের ৫ম বার্ষিকী পালন করা হবে জাপানে। প্রথমেই আমি ভূমিকম্প এবং এর ফলে সৃষ্ট সুনামি এবং এর কারণে পরবর্তীতে যারা প্রাণ দিয়েছেন, নিখোঁজ রয়েছেন তাদের সকলের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। এবং একই সঙ্গে সমবেদনা জানাই তাদের প্রতি যারা নিকটজন হারিয়েছেন, আহত বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, নিজ গৃহ হারিয়ে কষ্টকর জীবনযাপন করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আবে বলেন, ২০১২ সালের শেষ নাগাদ আমি দায়িত্ব গ্রহণ করার পর তিন বছরেরও কিছু বেশি সময় আমি মোট ৩০ বার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো সফর করেছি। এরই মধ্যে ৭০% এর বেশি কৃষি জমি চাষাবাদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে, ৯০% জলাধার মৎস্য উৎপাদনের জন্য দূষণমুক্ত করা সম্ভব হয়েছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ অন্যান্য খাতেও অভূতপূর্ব উন্নয়ন করা সম্ভব হয়েছে। তার পরও এখনও অনেকেই সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন, অনেকেই এখনও আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে রয়েছেন। নিজ নিজ এলাকায় ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বসবাস শুরু করতে পারছেন না। আবে প্রশাসন দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ তাদেরকে তাড়াতাড়ি নিজ এলাকায়, নিজ গৃহে ফিরিয়ে নেয়ার।

আবে বলেন, আমি ফুকুশিমাতে দেখেছি সেখানকার নারী সমাজ কিভাবে এবং নিরলসভাবে কাজ করছেন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাবার জন্য। ফসল উৎপাদনে স্থানীয়রা ঝাঁপিয়ে পড়েছেন এবং সম্পূর্ণ নিরাপদ ফসল, ফলফলাদি তারা উৎপন্ন করছেন। এসব খুবই সুস্বাদুও বটে। আমি নিজেও বহুবার খেয়েছি এবং মাঝেমধ্যে সুযোগ পেলেই তা খাই। গত বছর জাপানে ব্রিটেনের রাজপরিবারের সদস্য এবং আগামী দিনের উত্তরাধিকারী উইলিয়াম জাপান সফর করেন এবং ফুকুশিমাতে যান। রাতে স্থানীয়দের সঙ্গে উৎপন্ন শাক-সবজি ফসলাদি মৎস্য ও ফুকশিমাতে উৎপন্ন ফসল দিয়ে রাতের খাবার খেয়ে ভূয়সী প্রশংসা করেন। আমি বিদেশি কূটনীতিক, সাংবাদিক সমাজ এবং বিদেশি পর্যটকসহ স্থানীয়ভাবে বসবাসরত বিদেশি নাগরিকদের কাছে অনুরোধ করব আপনারা বেশি করে ফুকুশিমা, ইওয়াতে এবং মিয়াগি পরিদর্শন করেন বুঝতে পারবেন পরিবর্তন আসলেই কতটা হয়েছে।

গত বছর জাপানে ২ কোটি বিদেশি পর্যটকের পদচারণা হয়েছে যা বিগত বছরগুলোর তুলনায় প্রায় দ্বিগুণের মধ্যে থেকে ৫ লাখ পর্যটক বিভিন্ন সময় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো সফর করেছেন। আমরা চাই এই সংখ্যা ১৫ লাখে উন্নীত করতে। এ জন্য জাপানে বসবাসরত বিদেশি সাংবাদিক এবং জাপানে নিযুক্ত কূটনীতিকদের সহযোগিতা বিশেষ প্রয়োজন। তাদের প্রতি আমাদের অনুরোধ আপনারা এলাকাগুলো সফর করুন এবং নিজ নিজ দেশে তা তুলে ধরুন। প্রয়োজনে আমরা ফ্রি প্যাকেজ ট্যু-রের চিন্তাভাবনা করছি। ২০১৯ বিশ্বকাপ রাগবি এবং ২০২০ টোকিও অলিম্পিক ও প্যারা অলিম্পিককে সামনে রেখে আমাদের এসব পরিকল্পনা নিতে হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণে এলাকাগুলো সুসজ্জিত করা হচ্ছে। জাপান রেলওয়ে স্টেশনগুলো পুনর্গঠনসহ নতুন করে আরও স্টেশন গড়ে তোলা হচ্ছে। সেসব স্টেশনকে ঘিরে নতুন নতুন শহর গড়ে উঠছে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শপিং সেন্টার, বিনোদন কেন্দ্রসহ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে উঠায় এলাকায় প্রাণচাঞ্চল্যসহ গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে। একটি পার্কে ১০০০টি সাকুরা গাছ লাগানো হয়েছে। হয়ত ২/১ বছরের মধ্যে তা ফুটবে না কিন্তু খুব শীঘ্রই তা গ্রামীণ অর্থনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রস্ফুটিত হবে এবং জাপান অর্থনীতিতে অবদান রাখবে।

আবে আরও বলেন, নিজ বসতভূমিতে ফিরে যেতে পারার মধ্যে যে কি আনন্দ তা ওইসব এলাকাগুলোতে না গেলে বোঝার উপায় নেই। শিশুদের প্রাণচাঞ্চল্য এবং মায়েদের অবদান দেখে আমি অভিভূত হয়েছি। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র সৃষ্টি হওয়া অনেকেই গ্রামে ফিরে যাচ্ছেন। আসলে কর্মসংস্থান না থাকলে কেউ গ্রামে ফিরে যেতে চান না। আগামী বছরের মধ্যে আরও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে।

যে শিশুরা তাদের অভিভাবক হারিয়ে একা হয়ে পড়েছে সরকার তাদের সমস্ত দায়িত্ব গ্রহণ করবে। স্থানীয় প্রশাসনগুলোতে নির্দেশনা দেয়া আছে। তাদের ভবিষ্যৎ গড়া, খাদ্য নিশ্চিত করা, পড়াশুনা বিনা খরচে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সরকার বহন করবে বলে প্রধানমন্ত্রী আবে জানান।

ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন : বিপর্যয়ের ৫ম বার্ষিকী উপলক্ষে জাপানের ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী তাকাগি সুয়োশি ২৩ ফেব্রুয়ারি জাপান ফরেন প্রেস সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই তিনি বিপর্যয়ে বিদেশি এবং অভিবাসীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন ১৬০টি দেশের সমর্থন ও সহযোগিতা এবং পুনর্গঠনে স্থানীয় অভিবাসীদের অংশগ্রহণ জাপান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে সবসময়ই স্মরণ করবে। তাদের সহযোগিতা ছাড়া সামাল দেয়া সম্ভব ছিল না। ভিন্ন ভিন্নভাবে প্রতিটি দেশের নাম হয়তো বলা যাবে না। কিন্তু আমরা সবার কাছেই কৃতজ্ঞ। তাকাগি বলেন, আমি কিছুদিন আগে তাইওয়ান ভ্রমণ করেছি। সেখানকার শহরগুলোর উন্নয়ন দেখেছি, অভিজ্ঞতা নিয়েছি এবং জাপান পুনর্গঠনের কাজে লাগানোর চেষ্টা করছি।

আজ আমি সুনির্দিষ্ট তিনটি বিষয় বিদেশি সাংবাদিক বন্ধুদের সামনে তুলে ধরতে চাই। প্রথমত প্রগ্রেস, দ্বিতীয়ত নিরাপদ কৃষিজাত পণ্য ও মৎস্য সম্পদ এবং তৃতীয়ত বিপর্যস্ত এলাকাগুলো বিপন্মুক্ত এবং বসবাসযোগ্য।

মন্ত্রী বলেন, বিগত ৫ বছরে আমরা ৪ লাখ ৭০ হাজার আশ্রয় গ্রহণকারীর সংখ্যা ১ লাখ ৮০ হাজারে নামাতে সক্ষম হয়েছি। আগামী তিন বছরের মধ্যে তা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার পরিকল্পনা মোতাবেক কাজ চলছে। বিশ্বের সর্ববৃহৎ জলাশয় আমরা বিপন্মুক্ত ঘোষণা করতে পেরেছি। কেবলমাত্র ফুকুশিমা এলাকাতে ২০ লাখ আশ্রয়কারীকে কেবলমাত্র ১ লাখ এখনো বাকি রয়েছেন যা মোট জন সংখ্যায় ৫% মাত্র। পারমানবিক বিদ্যুৎ ১নং প্লান্ট ডেমেজ হওয়া বাতাসে ছড়িয়ে পড়া তেজস্ক্রিয়তার পরিমাণ ২০১১ নভেম্বরের তুলনায় ২০১৫ সেপ্টেম্বরে ৬৫% হ্রাস করা সম্ভব হয়েছে। ধীরে ধীরে আরও কমিয়ে আসবে।

মন্ত্রী বলেন, জাপানের বাতাসের তেজস্ক্রিয়তার পরিমাণ বিশ্বের অন্য শহরগুলোর তুলনায় অনেক কম এত বড় একটা বিপর্যয়ের পরও। সেখানে প্যারিসে ০.১০ (জুলাই ’১২) মিউনিচ ০.১২ (ডিসেম্বর ১২), সিঙ্গাপুর ০.১৭ (জুন ১২), সিউল ০.০৯ (নভেম্বর ১২) সাংহাই ০.৫৯ (এপ্রিল ১৩) এবং নিউইয়র্কে ০.০৬ (জানুয়ারি) সেখানে নভেম্বর ১২তে ফুকুশিমা ০.১৯, মিনামিসোনা ০.০৯, মিনামি আইজু ০.০৪, শিরাকাওয়া ০.০৮, ইওয়াকি ০.০৭, কোরিয়ামা ০.১১ এবং নারাহাতে ০.১১ মাত্র। এ ছাড়াও জাপানের অন্য শহরগুলোর মধ্যে টোকিও ০.০৩, নাগোয়া ০.০৪, ওসাকা ০.০৪, কিয়োতো ০.০৬, ফুকুওকা ০.০৬, নারা ০.০৬ এবং নাগাসাকিতে ০.০৪ বিদ্যমান যা ডিসেম্বর ২০১৫তে রেকর্ড করা হয়। সার্বিক বিবেচনায় জাপানের বাতাসে তেজষ্ক্রিয়তার পরিমাণ কম।

তাকাগি আরও বলেন, ফুকুশিমা, হওয়াতে মিয়াগি এলাকার কৃষিজাত পণ্য এবং মৎস্য ভান্ডার সম্পূর্ণ নিরাপদ তা এখন পরীক্ষিত সত্য। ৮০% এলাকাই এখন বসবাসযোগ্য। সূক্ষ্ম পরীক্ষার পর এবং জনগণের স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করেই তা বাজারজাত করা হয়। তাই ওইসব এলাকায় বসবাস এবং খাদ্য গ্রহণে কোনো ধরনের কোনো সমস্যা নেই। তিনি বিদেশি সাংবাদিকদের সেখানে সফর করার আহ্বান জানান এবং যেসব এলাকাবাসী এখনও নিজ এলাকায় ফিরতে ইতস্তত বোধ করছেন তারা নির্দ্বিধায় নিজ এলাকায় বসবাস শুরু করতে পারেন বলে মন্ত্রী আশ্বস্ত করেন।

ব্যতিক্রম : জাপানে সাধারণত কেউ সাগর, নদী বা জলাশয়ে কোনো আবর্জনা বা কিছু নিক্ষেপ করেন না। কিন্তু বিপর্যয়ের বর্ষ পালন উপলক্ষে নিখোঁজ কিংবা নিহতদের শ্রদ্ধা জানিয়ে অনেকেই সমুদ্রে পুষ্পস্তবক নিক্ষেপ করে অন্তরের গভীর শ্রদ্ধা জানান। অনেকেই সমুদ্র পাড়ে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ। নীরব দাঁড়িয়ে থেকে প্রার্থনা করেন প্রিয়জনদের আত্মার শান্তি কামনা করে। পুরো এলাকা জুড়েই ওই সময়টা প্রার্থনা সভায় পরিণত হয়। যে যেভাবেই পারেন প্রার্থনা করেন।

এ বছর ১১ মার্চের দিনটিও ছিল শুক্রবার। তাই অনেকের মধ্যেই এক ধরনের আতঙ্ক দেখা দেয়। তাই পূর্ব প্রস্তুতি নিয়ে রাখেন অনেকেই। স্থানীয় প্রশাসনকে এলার্ট হতে দেখা যায়।

ব্যতিক্রম ছিল প্রধানমন্ত্রী এবং পুনর্বাসন মন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন দুটিও। সংবাদ সম্মেলনে তাদের কেউই পূর্ববর্তী সরকারগুলোর উপর দোষারোপ করেননি।

২০১১ সালের ১১ মার্চ যখন বিপর্যয় হয় তখন রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিলেন আবে প্রশাসনের বিরোধী দল ডিপিজে নেতা নাওতো কান। এরপর আসেন একই দলের নোদা ইয়োশি আকি। তারা ২০ মাসেরও কিছু সময় রাষ্ট্র ক্ষমতায় থেকে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন। এরপর ক্ষমতার পটপরিবর্তনে এলডিপি নেতা শিনজো আবে ক্ষমতায় আসেন এবং উত্তরসূরি হিসেবে পুনর্গঠনে মনোনিবেশ করেন। এখনও ১ লাখ ৮০ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে কষ্টকর জীবনযাপন করছেন। এ জন্য আবে প্রশাসনের উপর চাপ ও কম নয়। ব্যর্থতার কথা শুনতে হচ্ছে সাধারণ জনগণের কাছ থেকে। অথচ কোনো ভাষণেই তিনি পূর্ববর্তী সরকারের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন না। সরকারের ধারাবাহিকতা হিসেবেই কাজ করে যাচ্ছেন। আমাদের দেশে যেটা অসম্ভব। আমাদের মহান নেতা বা জাপানের কাছ থেকে কিছু শিখবেন কি?

rahmanmoni@gmail.com

সাপ্তাহিক

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.