হাজতীর মৃত্যু দায়ীদের বিচার দাবী পরিবারের

মুন্সীগঞ্জ জেলাখানার এক হাজীর শুক্রবার মৃত্যু হয়েছে। আব্দুল করিম (৩৫) নামের এই যুবককে অসুস্থ জেল খানায় পাঠানো হয় বলে জেলার জানিয়েছেন। পরে বৃহস্পতিবার বুকে প্রচন্ড ব্যাথা অনুভব করলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। করিম সদর উপজেলার আধারিয়া তলা গ্রামের জুলহাস খানের পুত্র। তার অনুজ আ. সালাম খান (৩২) একই কারাগারে পৃথক মামলায় বন্ধি। আব্দুল করিমের স্ত্রী ময়না বেগম জানান, পার্শ্ববর্তী মো. শামীমের ভবন তৈরী করা হচ্ছিল। সেখানে তাঁর স্বামী অন্যদের সাথে পিকনিকের টাকা চেয়েছিল। পরে শামীম ও তার ভায়রা খোরশেদ আলম তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নিয়ে নির্মমভাবে পারপিট করে পুলিশে সোর্পদ করে। পুলিশের এক দারোগা অমানুষিক নির্য়াতন করে, কানের লতির একাংশ ছিড়ে ফেলে । ১০ জুলাইয়ের এই ঘটনায় চাঁদাবাজি মামলা দিয়ে হাজতে পাঠায় ১১ জুলাই। ময়না বেগম জানান, এই মারপিটের কারণে তার বুকের হাড় ভেঙ্গে যাওয়া, কানের লতির একাংশ ছিড়ে যাওয়াসহ গুরুতর অসুস্থ ছিল। পরে জেলারের প্রচেষ্টায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। জেল খানা থাকা দেবর সালাম খানের বরাত দিয়ে জানান, পেটের অসয্য ব্যাথার যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক বলছিল কিছুই হয়নি। একটি ইনজেকশন দেয়া পর অসুস্থ করিম তার ভাইয়ের হাত ধরে বলছিলেন, “আমি চোখে কিছুই দেখছি না, বেশীক্ষণ বাঁচবো না, আমার সন্তানগুলি দেখে রাখিস ভাই”। হাজতী করিম তিন পুত্র সন্তানের জনক। তার ছোট ছেলে বয়স মাত্র ২৫ দিন।

জেলারে প্রচেষ্টায় তাকে প্রথমে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ডা. সঞ্জয় কুমার পোদ্দার জানান, অবস্থা গুরুতর ছিল। তাই ঢাকা পাঠানো হয়।

মুন্সীগঞ্জ জেল খানার জেলার ফরিদুর রহমান রুবেল জানান, আহত অবস্থায় করিম হাসপাতালে আসে। পরে বেশী অসুস্থ হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছিল। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়না তদন্তের পর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্ত করা হবে।

ময়না বেগম অভিযোগ করেছেন, অন্যায়ভায় পুলিশ এবং বাদী পক্ষের নির্যাতন এবং যথাযথ চিকিৎসা না হওয়ার কারণেই তার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি এর সুবিচার দাবী করেছেন।

সদর থানার ওসি মো. ইউনুচ আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাকে পুলিশ কোন নির্যাতন করেনি।

জনকন্ঠ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.