প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত গোলাপের শপথ নেয়া হলো না

গজারিয়া উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত সদস্যদের রবিবার শপথ অনুষ্ঠিত হলেও হোসেন্দী ইউপির ৮ নং ওয়ার্ডের সদস্য গোলাপ সরকার প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত হওয়ায় শপথ নেয় হলো না তার।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শপথ অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে গোলাপ সরকারের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। আইনি জটিলতার কারণে ইমামপুর ইউপি সদস্যদের শপথ করানো হয়নি।

গোলাপ সরকারের মা জাহানার বেগম কান্নাজড়িত কন্ঠে জানান, আমার বড় ছেলে গোলাপ ও সেজো ছেলে আইয়ূব সরকারকে ১৪ জুলাই স্থানীয় আ.লীগের প্রতিপক্ষ দল গুলি করে হত্যা করে। অপর ছেলে জুয়েলকে তুলে নিয়ে গেছে।

মৃত সন্তানদ্বয় ও নিখোঁজ সন্তানের দশ দিনেও তার কোনো হদিস না পাওয়া পরিবারে চলছে শোকের মাতম।

বোন শিলা জানায়, জুয়েলের বিয়ের জন্য মেয়ে ঠিক করে আংটি পড়িয়ে রাখাছিল, বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষরা আমার ‘ভাইটিকে তুলে নিয়েছে আজ দশদিন তার কোনো হদিস পুলিশও দিতে পারছে না হয়তো মেরে লাশ গুম করেছে পিশাচের দল।’

বাবা মজু সরকার বলেন, আমার দুই ছেলেকে গুলি করে হত্যা ও এক ছেলে জুয়েলসহ স্বজন আওলাদ হোসেনকে তুলে নিয়ে গেলো অস্ত্রের মুখে, আমি এখন কেমনে বাচমু।’

মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৪ জুলাই চরবলাকী গ্রামে প্রাধান্য বিস্তার, প্রস্তাবিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মাটি ভরাট কাজের ভাগাভাগির হিস্যা ও পূর্ববিরোধের জেরে স্থানীয় আ.লীগ নেতা হোগলা আমিরুল ও তার ছেলে যুবলীগ কর্মী নাজমুল হোসেনের নেতৃত্বে প্রতিপক্ষ একই গ্রামের বাসিন্দা হোসেন্দী ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন মন্টুর সমর্থক ও পক্ষের লোকজনে ওপর হামলা চালায়। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে সহোদরসহ নবনির্বাচিত ইউপি সদস্য গোলাপ সরকার নিহত ও সাতজন গুলিবিদ্ধসহ ত্রিশজন আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইউনূস মৃধা মারা যান। ঘটনার দিন তুলে নেয়া দুইজনেরও হদিস পাওয়া যায়নি গতকাল রোববার পর্যন্ত।

এ বিষয়ে মজু সরকার শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে মামলার পর পুলিশ আটজনকে গ্রেপ্তার করে চার দিনের রিমান্ডে আনে।

গজারিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. হেলাল উদ্দিন জানান, নিখোঁজদের বিষয়ে কিছু জানা যায়নি। মামলা তদন্তে অগ্রগতি হয়েছে তদন্তের স্বার্থে প্রকাশ করা যাবে না।

ঢাকাটাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.