টঙ্গিবাড়ীতে স্কুলছাত্রীর লাশ তড়িঘড়ি করে দাফনের অভিযোগ

মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলায় গত শনিবার রাতে এক ছাত্রী আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনা পুলিশকে না জানিয়ে তড়িঘড়ি করে ওই রাতেই লাশ দাফন করা হয়েছে।

আউটশাহী ইউনিয়নের শিলিমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। ওই ছাত্রীর নাম মহুবিনা (১৪)। সে শিলিমপুর জুনিয়র উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ত।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, মহুবিনাকে ওই এলাকার একটি ছেলে (২৫) উত্ত্যক্ত করতেন। এ ঘটনায় গত শনিবার সে নিজ ঘরের আড়ার সঙ্গে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে। পরে লাবু শিকদার নামে স্থানীয় একজন নেতা ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ওই ছেলের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা নিয়ে মহুবিনার পরিবারকে দেন। ঘটনাটি পুলিশকেও জানানো হয়নি। পরে শনিবার রাত ১১টার দিকে শিলিমপুর কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়।

রোববার রাতে গিয়ে দেখা যায়, মহুবিনার ঘর বন্ধ। তার বাবা মনির শেখ ও মা বাড়িতে নেই। তাঁদের এক প্রতিবেশী বলেন, মহুবিনা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। রাতের মধ্যেই লাবু শিকদারের চাপে তড়িঘড়ি করে তার পরিবারের লোকজন তাকে দাফন করে ফেলেন।

গ্রামবাসী বলেন, ওই নেতার চাপে পড়ে তাঁরা পাশের গ্রামের এক বাড়িতে থাকছেন। খোঁজ নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা সেই বাড়িতে গেলে মহুবিনার বাবা ও মা ঘর থেকে বের হননি।

লাবু শিকদার বলেন, মহুবিনা অন্তত দরিদ্র পরিবারের মেয়ে ছিল। সে কী কারণে আত্মহত্যা করেছে, তা তিনি জানেন না। তবে এ ঘটনায় কেউ যদি কোনো টাকাপয়সা নিয়ে থাকে, তাহলে তিনিও চান সত্য উদ্ঘাটন হোক।

টঙ্গিবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসাইন বলেন, এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে বিষয়টা নিয়ে দুই ধরনের বক্তব্য পাওয়া গেছে। মেয়ের বাবাকে থানায় ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তিনি বলেছেন, তাঁর মেয়ে অসুস্থ হয়ে মারা গেছে। তবে এলাকার লোকজন বলছে এটা আত্মহত্যা। তবে কারও পরিবার যদি অভিযোগ না দেয় তাহলে পুলিশের কিছু করার নেই।

প্রথম আলো

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.