পঞ্চসারে প্রবাসীর স্ত্রীর অর্থের লোভে একাধিক বিয়ে

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের দয়াল বাজারে নীপা (২৭) নামের এক সৌদি প্রবাসীর স্ত্রীর বিরুদ্ধে রমরমা দেহ ব্যবসা ও অর্থের লোভে প্রায় ১০ টি গোপন বিবাহ ও পরে স্বামীকে তালাক দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, দয়াল বাজার এলাকার সৌদি প্রবাসী বারেক এর স্ত্রী নিপা বেগমের যৌবনের চাহিদার চেয়ে টাকার চাহিদা অনেক বেশী। ভাল চাকুরীজীবী, একটু সম্পদশালী ছেলেদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে সম্পর্ক তৈরী করা, গোপন বিবাহ এবং অর্থ সম্পদ হাতিয়ে নেয়াই প্রধান লক্ষ। স্বার্থ হাসিল হয়ে গেলে নতুন করে অন্য পুরুষের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং বিবাহ করা । এটাই তার জীবনের একমাত্র লক্ষ বলে জানান ভুক্তভোগী অনেকে।

তার ছলনায় পড়ে অনেক যুবকের জীবন ধবংস হয়ে গেছে। নিপার খুব কাছের এক বান্ধবী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নিপার ছোটবেলা থেকে স্বপ্ন ছিল কোটি টাকার মালিক হবেন। নিপার মা বিভিন্ন মেইলে কাজ করতো। নিপা অনেক সুন্দরী এ কারনে তার অহংকার ছিল বেশী। এক সময় নেমে পড়েন প্রেমের ফাঁদে ফেলে সম্পদশালী ব্যক্তিদের বিয়ে করে অর্থ সম্পদ আদায় মিশনে।

প্রথমে মুক্তারপুর এলাকার ঠাকুরবাড়ীর সুমন নামের এক ছেলেকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে সম্পর্ক করেন। তার সাথে সম্পর্ক থাকা অবস্থায় মামুন নামের এক যুবকের সাথে পরকিয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন নিপা । এ নিয়ে সুমনের সাথে বনিবনা হতনা। পরে নিপা সুমনের কাছ থেকে ২ লক্ষ নিয়ে পূনরায় দূগৃাবাড়ী এলাকার মামুন নামের এক ছেলেকে সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে।

তিনি আরো জানান, পরে মামুনকে বাঁধ দিয়ে আলামিন, রাসেল. পাভেল, শরীফ, জাহাঙ্গীর এর সাথে একই কায়দায় সম্পর্ক তৈরী করে। এভাবে একে একে ৯ জনের সাথে প্রতারনা ও অর্থ আদায় করে চলে আসেন নিপা। তবে নিপা প্রত্যেকের সঙ্গেই স্ত্রীর সলুভ আচরন করিত। বিয়ে করার কয়েকদিন পরই ঐ ছেলেকে বাঁধ দিয়ে অন্য পুরুষ খুঁজে নিত। লোক লজ্জা আর মামলার ভয়ে কেউ তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করিত না । সকলেই তার কাছে প্রতারিত হয়ে চলে গেছে। অনেকে পাগলও হয়ে বাড়ী ছেড়ে চলে গেছে তার প্রতারনায়।

তার এসব অপরাধ অপকর্মে সহযোগিতা করত তার আপন বোন রিভা ও মা সাহিদা বেগম। নিপা মুক্তাপুর এলাকার ঠাকুরবাড়ীর মালেক মিয়ার মেয়ে। সাহিদা বেগমের চরিত্র তেমন একটা ভাল ছিলনা। মুক্তারপুর এলাকায় বাতেন মিয়ার মিলে কাজ করা অবস্থায় এক শ্রমিকের সাথে সম্পর্ক হয়। এক সময় নিপার মা অন্তঃসত্বা হয়েছিল। নিপা পরবর্তীতে দয়াল বাজার এলাকার আলী হোসেন এর ছেলে বারেক মিয়াকে বিবাহ করেন। বারেক এর কাছে স্ত্রীর টাকার চাহিদা আরো বেড়ে যায়। এ নিয়ে বারেক স্ত্রীর সাথে অভিমান করে সৌদি আরব চলে যায়। অর্থের লোভে বাসা বাড়ীতে শুরু করেন দেহ ব্যবসা।

স্থানীয় যুবক বাবুল জানান, নিপাকে এলাকায় একজন মক্ষিরানী হিসাবে পরিচিত। মেয়েটা ভাল নয় টাকার লোভে এই পর্যন্ত প্রায় ১০ টি ছেলের জীবন নষ্ট করে চলে আসছে। এখন স্বামী বারেককে সৌদি পাঠিয়ে বাড়ীতে রমরমা দেহ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এলাকার লোক প্রতিবাদ করলে বকাঝকা এবং মামলা করার হুমকি দেয়। তার বাসায় এখন দিনে রাতে বিভিন্ন বয়সের লোকজন আসা যাওয়া করে। কারা আসছে জানতে চাইলে প্রতিবেশীদেরও বকাঝকা করে। তাদের বাড়ীটাতে একটা যৌন পল্লী বানিয়ে ফেলেছে।

দেহ ব্যবসার কথা স্বীকার করে নিপা বলেন, সুমন, মামুন, আলামিন, জাহাঙ্গীর সকলের সাথে আমার সম্পর্ক ছিল আমি তাদের সাথে সম্পর্ক ত্যাগ করেছি। আমি এখন আমার স্বামী বারেক মিয়ার বাড়ীতে আছি। আগে করেছি দেহ ব্যবসা এখন করিনা।

আপনার বাসায় তিনজন যুবক দেখলাম তারা কারা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এরা আমার বন্ধু। আমাকে ওরা দেখতে এসেছে । বাড়ীতে দেহ ব্যবসা করেন কেন? সবারই একটা চাওয়া পাওয়া থাকে । হাঁটে বাজারে গিয়ে তো কিছু করিনা।

এলাকার যুব সমাজ তথা সাধারন মানুষকে রিপা বেগমের প্রতারনার হাত থেকে রক্ষার জন্য প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে এমনটাই দাবি এলাকাবাসীর।

বাংলাপ্রেস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.