বিনম্র শ্রদ্ধায় মহান শহীদ দিবস পালন

রাহমান মনি: গভীর ভালোবাসা এবং বিনম্র ফুলেল শ্রদ্ধায় জাপান প্রবাসীরা স্মরণ করেছে জাতির বীর, শ্রেষ্ঠ সন্তানদের। যারা ভাষার স্বীকৃতি আদায়ে অকাতরে বুকের তাজা রক্ত দিয়েছিলেন। প্রবাসীদের সাথে প্রভাতফেরিতে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা, দূতাবাস কর্মকর্তা এবং কর্মচারীবৃন্দ এবং স্থানীয় প্রশাসন তোশিমা সিটি করপোরেশন ডেপুটি মেয়র মিজুশিমা মাসাহিকো এবং সংশ্লিষ্ট অন্য কর্মকর্তাবৃন্দ।

কর্মদিবস হওয়া সত্ত্বেও কনকনে শীতকে উপেক্ষা করে প্রবাসীরা হাজির হয়েছিলেন ইকেবুকুরো শহরে নির্মিত স্থায়ী শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে। পূর্বসূরিদের প্রতি শ্রদ্ধা কৃতজ্ঞতা এবং দায়বদ্ধতা থেকে টোকিও শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে হাজির হয়েছিলেন সর্বস্তরের প্রবাসীরা।

সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত এবং তোশিমা সিটি কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পূর্ব ঘোষিত ফুলেল শ্রদ্ধা জানানোর কথা থাকলেও সকাল ৬টা থেকেই দূর-দূরান্ত থেকে পুষ্পস্তবক এবং ব্যানার নিয়ে প্রবাসীরা হাজির হতে শুরু করেন শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে।

সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে রাষ্ট্রদূত এবং সিটি ডেপুটি মেয়র শহীদ মিনার চত্বরে হাজির হন। প্রথম তাদের মধ্যে বিভিন্ন কুশল বিনিময়ের পর নির্দিষ্ট সময়ে শহীদ মিনার বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে দাঁড়িয়ে নীরবে শ্রদ্ধা জানান। এই সময় খন্দকার ফজলুল হক রতনের কণ্ঠের সাথে সুর মিলিয়ে উপস্থিত সকলে সমবেতভাবে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানটি গান।

রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধার্ঘ্যরে পর জাপান প্রবাসীদের প্রথা অনুযায়ী ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ, জাপান শাখা পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। দলটির নেতৃত্ব দেন সভাপতি সালেহ মো. আরিফ এবং সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আসলাম হিরা। এরপর অন্যতম বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। দলটির নেতৃত্ব দেন সভাপতি নূর আলী এবং সাধারণ সম্পাদক মীর রেজাউল করিম রেজা। এরপর জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ব্যবসায়ী, ধর্মীয়, শিশু সংগঠন, আঞ্চলিক সংগঠনসমূহ, বৈশাখী মেলা, এনআরবি এবং পেশাজীবী সংগঠন থেকে একে একে ফুলেল শ্রদ্ধার্ঘ্য জানানো হয়। বণিক সমিতির সভাপতি (বিসিসিআইজে) বাদল চাকলাদার ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিত্ব করেন। বরাবরের মতো মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর সোসাইটি জাপান এবারও সবচেয়ে বড় পুষ্পস্তবক অর্পণ করে হৃদয়ের শ্রদ্ধা জানায়। অনেকে আবার ব্যক্তিগতভাবে এবং কিছুসংখ্যক জাপানি সুহৃদরাও ফুলের শ্রদ্ধা জানান। পরিচালনায় ছিলেন জুয়েল আহসান কামরুল।

জাপান প্রবাসীদের দ্বারা পরিচালিত সংগঠনের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় অনেক নতুন মুখ এবার শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে দেখা গেছে। সংগঠনের সংখ্যা বৃদ্ধিতে ভবিষ্যতে হয়তো প্রবাসীদের থেকে সংগঠনের নামই বেশি দেখা যাবে। হিমশিম খেতে হবে পরিচালনায়। হয়তো বা কোনো নিয়মকানুনও বেঁধে দেয়া হতে পারে। নতুবা হযবরল হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এতে করে মহান শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস মর্যাদা হারাবে। আর বাংলাদেশের ভাবমূর্তি? তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

এ ছাড়াও বাংলাদেশ দূতাবাস যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করে। রাষ্ট্রদূত কর্তৃক দূতাবাস প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ, জাতীয় সংগীত পরিবেশন, ভাষা শহীদদের স্মরণে ১ মিনিট নীরবতা পালন, তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত এবং দিবসটির তাৎপর্যে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত বাণীসমূহ পাঠ, রাষ্ট্রদূত কর্তৃক শুভেচ্ছা বক্তব্য এবং সবশেষে চা-চক্রের মধ্য দিয়ে দূতাবাস আয়োজিত অনুষ্ঠানমালা শেষ হয়।

জাপানে অন্যান্য বড় বড় শহরগুলোতে এবং বিদেশি ছাত্র বিশেষ করে বাংলাদেশি ছাত্র অধ্যুষিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়।

rahmanmoni@gmail.com

সাপ্তাহিক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.