শিল্পী ও ব্যক্তি হাবিব সম্পূর্ণ আলাদা : হাবিব ওয়াহিদ

হাবিব ওয়াহিদ। সঙ্গীত পরিবারেই বেড়ে উঠেছেন এ সঙ্গীতশিল্পী ও সঙ্গীত পরিচালক। ছোটবেলা থেকে সঙ্গীতশিল্পী হওয়ার তেমন কোনো ইচ্ছা না থাকলেও গানের সঙ্গেই ছিল তার বসবাস। বাদ্যযন্ত্রের তালিকায় বরাবরই ড্রাম তাকে খুব টানত। বাবা ফেরদৌস ওয়াহিদকে দেখেই প্রথম গানের প্রেমে পড়েন তিনি।

বর্তমানে নিজ যোগ্যতায় সফল সঙ্গীতশিল্পী ও সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে নিজের জায়গা প্রতিষ্ঠিত করে নিয়েছেন। একের পর এক শ্রোতাপ্রিয় গান উপহার দিয়ে জনপ্রিয় শিল্পীদের তালিকায় যুক্ত করেছেন নিজের নাম। প্লেব্যাকেও সফলতার দেখা পেয়েছেন তিনি। সফল ক্যারিয়ারে নিজের অভিজ্ঞতা এবং সমসাময়িক নানা বিষয়ে সম্প্রতি কথা বলেছেন যুগান্তরের সঙ্গে।

সঙ্গীতের হাতেখড়ি কীভাবে?
প্রথম হাতেখড়ি বলতে সেভাবে বলার মতো কিছু নেই। আমার বয়স তখন চার কি পাঁচ বছর হবে। আব্বার কাছে অনেকে আসতেন। তারা গান করতেন। তখন ড্রাম, গিটার, কিবোর্ড বদ্যযন্ত্রগুলো ব্যবহার করতেন আব্বা। সেগুলোই আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। প্রথমে আমি ড্রাম বাজানো শিখি। কারণ সেটি আমার কাছে খুব লোভনীয় একটি বাদ্যযন্ত্র মনে হতো। তারপর কিবোর্ড বাজাতাম। এভাবেই শুরু।

বাদ্যযন্ত্র বাজানো কোথাও শিখেছিলেন?
আমি আসলে কখনই কোথাও বাজানো শিখিনি। আমার ভালো লাগত তাই বাজাতাম। ভুল করতাম। ভুল করতে করতেই শিখেছি। কোনো প্রতিষ্ঠানে শেখা হয়নি। এক রকম খেলতে খেলতেই আমার বাজানো শেখা।

ছোটবেলায় শিল্পী হওয়ার কোনো ভাবনা ছিল?
ছোটবেলায় মিউজিক ছিল আমার কাছে ভালোলাগার একটি মাধ্যম। এর মাঝে শান্তি খুঁজে পেতাম আমি। তাই কখনও ভাবিনি এটা দিয়ে আমি কিছু করব। তবে একটা বিষয় সব সময় ভাবতাম আমি, যে পেশায়ই থাকি না কেন মিউজিক করব সবসময়। শিল্পী হব সেভাবে কখনও ভাবিনি ।

সঙ্গীতের বর্তমান ব্যস্ততা কী নিয়ে?
গত দুই বছর ধরে মিউজিক ভিডিও নিয়ে বেশি ব্যস্ততা যাচ্ছে। আমার একটি মিউজিক ভিডিও রিলিজের কথা ছিল। ‘ঘুম’ শিরোনামের এ ভিডিওটিতে মিথিলা প্রথমবারের মতো সহশিল্পী হিসেবে কাজ করেছেন। কাজ শেষ না হওয়ায় রিলিজ হয়নি। এটাকে ঘিরেই এখন সব ব্যস্ততা। কারণ খুব বড় বাজেটের বড় প্রজেক্ট এটি। আশা করছি শিগগিরই শেষ করতে পারব।

অন্যান্য ভিডিওর চেয়ে এটি নিয়ে বেশি আশাবাদী বলছিলেন। আলাদা কোনো কারণ আছে?
খুব হ্যাপি মুডের গান এটি। যেখানে দর্শক প্রথমবারের মতো একদম ভিন্ন লুকে আমাকে দেখতে পাবেন। এ ছাড়া মিথিলা প্রথমবারের মতো কোনো মিউজিক ভিডিওতে কাজ করেছেন। সেখানেও একটি চমক থাকছে। ফিল্মি ভঙ্গিতে ভিডিওটিতে কাজ করা হয়েছে। সব কিছু মিলিয়ে একদম নতুন ধাঁচের একটি কাজ হবে এটি। তাই আমি এ মিউজিক ভিডিওটি নিয়ে অনেক আশাবাদী।

ইদানীং আপনাকে মিউজিক ভিডিওতে অনেক বেশি দেখা যায়, কারণ কী?
যে কোনো কিছুর পেছনে একটি প্রাথমিক কারণ থাকে। বর্তমানে মিউজিক ভিডিও হচ্ছে সময়ের চাহিদা। একটা সময় দেখলাম আমার সিঙ্গেল গানগুলো সিডি আকারে বের করার পর তা হারিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু প্লেব্যাকের গানগুলো স্থায়ীভাবে থেকে যাচ্ছে। তখন মনে হল চাহিদা অনুযায়ী ভিডিও প্রকাশ করা উচিত। তা ছাড়া যে কোনো কাজ উপভোগ না করলে তা ভালো হয় না। মিউজিক ভিডিও করে আমি উপভোগ করছি। সেটিও আমার কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি গানগুলোকে শ্রোতার সামনে হাজির করে তা স্থায়ী করার জন্য একটি মাধ্যম হচ্ছে মিউজিক ভিডিও। তাই এখন সেদিকেই আমার মনোযোগ বেশি।

যদি ব্যক্তি হাবিব ও শিল্পী হাবিবের মধ্যে আলাদা করতে চাই, কোন বিষয়টি তাকে আলাদা করবে?
শিল্পী হাবিব আর ব্যক্তি হাবিবের জীবনযাপন পুরোটাই আলাদা। ব্যক্তি হিসেবে আমি কোনো কিছু কেয়ার করে চলতে পছন্দ করি না। আমার যখন কোনো কিছুতে মন সায় দেয় বা কিছু করতে ভালো লাগে তখন তাই করে ফেলি। তাতে কে কি ভাবল তা চিন্তা করি না। কিন্তু শিল্পী হাবিবের ক্ষেত্রে প্রতি ধাপে চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। তারপরও কিছু ক্ষেত্রে মিল তো থাকবেই। কারণ সবকিছুর পরও মানুষ তো একজনই।

একজন সফল শিল্পী হতে কোন বিষয়টি থাকা গুরুত্বপূর্ণ?
সৃষ্টিশীল মানুষের জন্য মানসিক শান্তি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। যদি সে দিক থেকে কেউ ভালো থাকেন অনেক নতুন কিছু তার মধ্যে থেকে তৈরি হবে। আমি কিন্তু বলছি না কারও জীবনে ঝামেলা বা দুঃখ থাকবে না। এর মধ্য থেকেও তার জন্য দরকার পরিবার, বন্ধুবান্ধব বা কাছের মানুষগুলোর সমর্থন। অনেক সময় দেখা যায়, তার চারপাশের মানুষগুলো বলছে তুমি ঠিক করোনি, বা এটা করো না, তখন তার মাঝে এক ধরনের অপরাধবোধ কাজ করে। সেটি থেকে বের হতে গিয়ে অনেক শিল্পীর সৃষ্টিশীল মন নষ্ট হয়ে যেতে দেখেছি আমি। মানুষ কোনো বিষয় নিয়ে দুঃখ পেতেই পারেন। কিন্তু তাতে শান্তিতে থাকতে পারবেন না আমি তা বিশ্বাস করি না। সবার আগে দরকার মানসিক শান্তি। সবকিছুর ঊর্ধ্বে গিয়ে এটি আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়।

সফলতার পেছনে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কতটুকু জরুরি?
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কোনো ধরনের আল্লাহ প্রদত্ত কিছু না। যে কেউ চাইলেই তা অর্জন করতে পারেন। আর কারও মধ্যে যদি ট্যালেন্ট থাকে সেটা প্রকাশ পাবেই। সৃষ্টিশীল যে কোনো কিছুতে নিজের মধ্যে যা আছে তা মুখ্য। আমার কাছে মনে হয় না সৃষ্টিশীল কাজে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থাকলে কাজের সুবিধা হয় এটা সত্যি। কারও মধ্যে সৃষ্টিশীলতা না থাকলে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা দিয়ে কিছু হয় না।

অনেক সঙ্গীতশিল্পী অভিনয়ের খাতায় নাম লিখিয়েছেন, আপনার সেরকম কোনো ইচ্ছা আছে?
যারা করেছেন তারা সবাই কি নিয়মিত কিনা আমার জানা নেই। নিজের ক্ষেত্রে বলব আমার বেশ কিছু মিউজিক ভিডিও করার ইচ্ছা আছে। যেখানে পুরোদমে অভিনয়ের জায়গা থাকবে। অভিনয়ের মাধ্যমে একটি গল্পকে ফুটিয়ে তোলা হবে। এখন পর্যন্ত অভিনয় বলতে এইটুকু করার পরিকল্পনা আছে। এর বাইরে যদি আমার মন পরিবর্তন হয় তবে করব। এখন কোনো পরিকল্পনা নেই।

হাবিব-ন্যান্সি জুটিকে শ্রোতারা পাচ্ছেন না, কারণ কী?
ন্যান্সির সঙ্গে আমার যে হিট গানগুলো আছে তা সবই ফিল্মে। এখন আসলে নিজের সিঙ্গেল গানের পাশাপাশি মিউজিক ভিডিও করছি। তা নিয়ে অনেক বেশি ব্যস্ত থাকতে হয় সব সময়। তাই প্লেব্যাকে আগের মতো গান করা হচ্ছে না। তবে আশা করছি, সব সমস্যা কাটিয়ে আবার আমাদের জুটি ভালো কিছু উপহার দিতে পারবে।

নতুনদের গানের ব্যাপারে আপনার মূল্যায়ন কী?
অবশ্যই নতুনরা অনেক ভালো করছে। তাদের মধ্যে কিছু করে দেখানোর ক্ষুধা আছে। যখন তাদের মধ্যে ভালো কিছু করার চেষ্টা দেখি তখন নিজের কাছেই মনে হয়, এক সময় এমন চেষ্টাটা আমার মধ্যেও ছিল। যখন প্রথম গান করা শুরু করি তখন আমিও এভাবেই চেষ্টা করতাম। নতুনদের প্রতিভা আছে। সঠিকভাবে চেষ্টা করে গেলে তারাও অনেক দূর যেতে পারবেন।

গুঞ্জন শোনা যায় উঠতি মডেল-অভিনেত্রী তানজীন তিশার সঙ্গে আপনার প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?
আমি আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার সবসময় আলাদা রাখি। যদি আমার ইচ্ছা হয় সবাইকে কিছু জানানোর তবে নিজ থেকেই জানিয়ে দেব। কেউ আমাকে প্রশ্ন করলে আমার ইচ্ছা না হলে এ ব্যাপারে কিছু বলব না। এটাই আমার বৈশিষ্ট। তবে এ মুহূর্তে গুঞ্জন সম্পর্কে হ্যাঁ বা না কোনোটাই বলব না। কারণ আগেই বলেছি, ব্যক্তিগত বিষয় আর কাজ দুটিকে কখনই এক করে দেখি না।

যুগান্তর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.