মা – এডভোকেট ব.ম শামীম

আমার অস্তিত্ব আমার বিশ্বাস আমার নিংশ্বাস জুড়ে যে নামটি জড়িয়ে আছে সে আমার মা। আমার জীবনের সবচেয়ে পরম সবচেয়ে মমতার সবচেয়ে ভলোবাসার পৃথিবীর সবচেয়ে আপন যে ভাবাবেগের যে আবেগের যে ভালবাসার ভাষা আমি আয়ত্ব করতে পরিনি এখোনো আমার জীবনের প্রতিটি চাওয়া প্রতিটি পাওয়া ভালোলাগা ভালোবাসায় জড়িয়ে আছে যে নাম সে আমার মা। মা আমার জীবনে এমন একজন আমার শিশুত্বকালের তার ভালোবাসার নিবির ছোয়া হয়তো মনে নাই আমার।

কিন্তু চোখ বুঁেজ যতটুকু উপলদ্ধি করি যে মানুষটির তার চরম ভালোবাসা দিয়ে আমাকে আগলে রেখেছে সারাজীবন সে আমার মা। যেদিন মায়ের সাথে অভিমান করে একবেলা না খেয়ে আলো বন্ধ করে বিছানার ওপর মন খারাপ করে শুয়েছিলাম আমার মনে পরে মায়ের অদৃশ্য দুটি চোখ অন্ধকারে আমার ছায়া খুজেঁ গেছে শত সহ¯্র বার । আমি উপলদ্ধি করি কতবার মায়ের দুটি হাত আমার শরীর স্পর্শ করে ক্লান্ত হয়ে ফিরেছে। মনে পরে কত রাতে হাত-পা টান করে শুলেই আমার মা আমায় ঝাকুনি দিয়ে এভাবে মরা লাশের মতো শুয়ে আছিস কেন বাবা?

মায়ের আকূল চোখ উৎকন্ঠার মুখ আমায় চেতনা ফিরিয়ে দিয়ে গেছে। অভিমানে একবেলা না খেলে মা আমায় রেখে না খেয়ে ছেলের রাগ কমে যাওয়ার আসায় না খেয়ে আমার শিয়রে বসে কত প্রহর পার করে দিয়েছে। মনে পড়ে মায়ের সে টাকা রাখার মাটির তৈরী ছোট কলসিটি যা থেকে প্রতিনিয়ত টাকা নিয়ে যাবো ভেবেও মা টাকা রেখেছেন ছেলে নিয়ে যাবে জেনেও। যখন চারপাশের সবকিছু খুঁেজ বিফল হয়ে মায়ের কাছে বায়না ধরেছি মা টাকা দাও সিনেমা দেখবো বলে । মা-টাকাটা হাতে দিয়ে তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরিছ সন্ধে হওয়ার আগে এইটুকুই শুধু বলেছে মা। মনে পরে ছোটবেলায় যখন বাড়ি থেকে কোথাও বের হতাম মা শুধু একটা কথাই বলতো বারেবারে বাবা মানুষের সাথে ভালো আচরণ করবি মানুষ যাতে মানুষ বলে।

এখোন এই সমাজে মানুষ এবং তার সংজ্ঞাটি কি কোন মানুষকে মানুষ বলে কয়টা হাতপা থাকলে মানুষ হয় আর কয়টা বস্তু মানুষের মধ্যে থাকতে হয় মানুষ হওয়ার জন্য তার জবাব খুঁজে যাই প্রতিনিয়ত। জীবনে যখনি কোন ঝামেলায় পরেছি মেজাজ যখন চরম গরম তখন মা ¯েœহের সুরে বলেছে কি হয়েছে বাবা ধমক দিয়ে বলেছি তুমি বুঝবেনা। তারপরও মায়ের আগ্রহের শেষ নেই শুনার ইচ্ছার কোন কমতি নেই ছেলে তার কোন বিপদগ্রস্থ হলো কিনা। মেজাজটা টান টান উত্তেজনা নিয়ে যখন পরিহিত জামা কাপরগুলো টেনে ছিড়ে ফেলার ইচ্ছা নিয়ে খুলতে থাকি দেখেছি মায়ের দুটি করুন চোখ তার ছেলের উপর প্রবল আগ্রহ নিয়ে ছলছল দৃষ্টি ছড়াচ্ছে। এইতো আমার মা।

এখনো যখন সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে ঘর হতে বাহির হই মা যেদিন রোগ আক্রান্ত হয়ে বিছানায় শুয়ে থাকেন যখন দেখেন আমি বাহিরে যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছি গোসল করতে ঘর হতে বের হয়েছি তেমনি মা দূর্বল রোগাক্রান্ত শরীরটি বিছানা হতে টেনে তুলে আমার জন্য রান্নার আয়োজন করে। নিজ রোগকান্ত শরীরটি নিয়ে যা পারে ছোট করে হলেও ছেলের জন্য রান্নার আয়োজনটি সাড়ে। চুলায় পুরোদমে আগুন জ্বালিয়ে আমায় ডাকে বাবা আরেকটু দেরী করে যা এইতো রান্না শেষ। ততখনে যদিও প্রস্তুত হয়ে ঘর হতে বের হয়ে গিয়েছি কোথায়ও যাবো বলে।

এতো সকালে কিছুতেই খেতে ইচ্ছা না হলেও মনে পরে মায়ের অক্লান্ত পরিশ্রমে রোগাক্লান্ত শরীর নিয়ে খাবার তৈরী করার কথা না খেয়ে যাওয়ার শক্তি আর সাধ্য কি করে হয়। রাতে বেলা যখন জামা কাপড় সেড়ে খেতে বসি মা ভাত বেড়ে থালায় তুলে দেয় আর বলে বাবা আর কয়টা ভাত নে তুই শুকিয়ে যাচিছস। তুই আজকাল ঠিকমতো খেতে পরিস না এই শব্দগুলো প্রায় শুনতে হয় আমাকে। মা এই শব্দগুলো যতবার আমার কাছে উচ্চারিত করে আমি যদি সেভাবে শুকিয়ে কিংবা না খেতে পারতাম তাহলে হয়তো আমার এই শরীরটা বহু আগেই অসিম শূন্যতায় নিংশ্বেস হয়ে যেতো। এই হলো আমার মা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.