ক্ষণজন্মা বাঙালী সংগীত শিল্পী গীতা দত্ত

অভিভক্ত বিক্রমপুর অর্থাৎ বর্তমান শতিয়তপুর জেলার গোসাইরহাট থানার ইদুলপুরে তাঁর জন্ম ১৯৩০ সালে। হৃদয় ছোঁয়া গান হারানো সুরের ”তুমি যে আমার অগো তুমি যে আমার” পৃথিবী আমারে চায় এর ”নিশিরাত বাঁকা চাঁদ আকাশে” গান বেজে উঠলে বাঙ্গালী ললনা প্লেব্যাক এ শিল্পীর কথা মনে পড়ে। সল্প সময়ে বাংলা হিন্দী মিলিয়ে অসংখ্য ছবিতে তিনি কণ্ঠ দিয়ে অমর হয়ে আছেন।

তাঁর পূর্ব পুরুষগণ গ্রেট বিক্রমপুরের ইদুলপুর ‘পরগনার’ ধনী জমিদার ছিলেন, তাঁরা একাধারে ‘রায়’ ও ‘চৌধুরী’ খেতাবে ভূষিত হয়েছিলেন। ঐতিহাসিক ভাবে প্রসিদ্ধ মেঘনা তীরবর্তী এ এলাকায় বা কাছাকাছি রাজা রাজবল্লভ, চাঁদ রায় কেদার রায় এর স্মৃতি চিহ্নসহ মুঘল সেনাপতি মান সিংহের সাথে ঈশা খাঁ ও কেদার রায়ের নৌযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। পিতা দেবেন্দ্রনাথ ঘোষ রায় চৌধুরী ও মাতা অমিয় দেবীর কন্যা গীতা ঘোষ রায় চৌধুরী জন্মের ১২ বছর পর বড় ভাই মুকুল রায়ের মুম্বাইএর বাসায় উঠেন। সেখানে সংগীত পরিচালক হনুমান প্রসাদ এর সাথে পরিচয়ের সুবাদে প্রথম গানের জগতে প্রবেশ, এরপর অপর বাঙালি সচীন দেব বর্মণ এর তালিমে গীতার কণ্ঠে বাঙলা সুরের টান প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

গীতার বিয়ের অনুষ্ঠানে লতা মুঙ্গেস্কর

অভিনেতা গুরুদত্তের সাথে তাঁর বিয়ে হয় ১৯৫৩ সালে, বিয়ের পর সংসার সুখের হয় নি, চার বছরের মাথায় গুরু দত্ত বোম্বের অভিনেত্রী ওয়াহিদা রেহমানের সাথে নুতন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৫৭ সালে গীতার সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটলে গুরু দত্ত অতিরিক্ত মদ্য পানে আসক্ত হয়ে ১৯৬৪ সালে ঘুমের ঘোরে মারা যান ( অনেকের মতে আত্মহত্যা)। এরপর গীতা দত্ত অনেকটাই মুষড়ে পড়েন, তিন সন্তান- তরুন, অরুন ও নিনাকে নিয়ে অভাব অনটনে পড়ে যান। অবশেষে গীতা ও সুরাপানে আসক্ত হয়ে পড়েন, লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হয়ে মাত্র ৪১ বছর বয়সে ১৯৭২ সালে গীতা দত্তের দেহাবসান ঘটে।

ওয়াহিদা রেহমানের সাথে গুরুদত্ত



আঃ রশিদ খানের ফেবু থেকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.