সিরাজদিখানে সরকারি খাল ভরাট করে বাড়িঘর নির্মাণ

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার চন্দধূল রোডের পেছন দিয়ে প্রবাহিত সরকারি খাল দখল করে বাড়ি তৈরি করেছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। শুক্রবার বেলা ১১টায় ওই এলাকার দেলোয়ার মৃধার বাড়ির পাশে রাস্তায় গিয়ে দেখা যায়, সরকারি খাল ভরাট করে বাঁশ বেড়ার দেয়াল করা হয়েছে। কাঠ, বাঁশ বালু ভরাটকারী ব্যক্তি তার লোকজন নিয়ে সরকারি খালের জায়গা ভরাট করছে। প্রভাবশালীদের ভয়ে বাধা দেয়ার কেউ নেই।

জানা যায়, বিগত কয়েক বছরে খালের ওপর মাটি ভরাট করে নির্মাণ করা হয়েছে ঘরবাড়ি। ঘরবাড়ি তৈরির উদ্দেশ্যে খালের একটি স্থানে সম্পূর্ণ মাটি ভরাট করে পানিপ্রবাহের রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এতে গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে জমে থাকা পানিতে স্থানীয় কৃষকদের শতাধিক হেক্টর জমির বোরো ধানসহ মৎস্যচাষীদের পুকুরগুলো তলিয়ে যাওয়ার অবস্থায় রয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় কৃষকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী কৃষকরা বলেন, এ এলাকার পশ্চিম চন্দনধূল, মধ্য চন্দনধূল, কুসুমপুর, আবিরপাড়াসহ অন্যান্য গ্রামের পানি প্রবাহিত হয় এ খালের মধ্য দিয়ে।

প্রাচীনকাল থেকে স্থানীয় মানুষের কাছে খালটি হোতার চকের খাল হিসেবে পরিচিত। প্রায় ৫০-৭০ হাত প্রশস্থ এ খাল দিয়ে এক সময় নৌকার মাধ্যমে পণ্য আমদানি-রফতানি হতো। কিন্তু গত মুন্সীগঞ্জ জেলা সাবেক যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন মৃধার বাড়ির এলাকা থেকে হোতার চক চন্দনধূল ব্রিজ পর্যন্ত খালের ওপর বাড়িঘর তৈরি করায় ও ময়লা-আর্বজনা ফেলায় এটি একটি ছোট্ট ড্রেনে পরিণত হয়েছে। এতে গত ১০-১৫ বছর ধরে উল্লেখিত এলাকায় প্রতি বছর বর্ষাকালে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি বোরো ফসল বিনষ্টসহ মানুষের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। চন্দনধূল গ্রামের রমজান মৃধা, দেলোয়ার হোসেন মৃধা, জাফরুল হাসান স্বপনসহ অনেকেই বলেন, ইতিমধ্যে এ খালটির পানিপ্রবাহের রাস্তা সম্পূর্ণভাবে মাটি ভরাট করে বন্ধ করায় স্থানীয় মানুষের মাঝে বন্যা আতঙ্ক বিরাজ করছে। বর্তমানে যেভাবে বৃষ্টি হচ্ছে এতে বিভিন্ন ফসল ডুবো ডুবো অবস্থায় রয়েছে। খালের পানি না সরাতে পারলে পানিতে তলিয়ে গিয়ে অনেক ফসল বিনষ্ট হয়ে যাবে। কৃষকরা সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

খাল দখলকারী মৃত মাহবুব বেপারীর ছেলে মামুন বেপারী জানান, এখানে কোনো খাল নাই, এগুলো সব ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি। আমি খালের জায়গা দখল করে বাড়িঘরও তৈরি করি নাই। খাল খালের জায়গায়ই রয়েছে। ইছাপুরা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা অনন্ত প্রসাদ মিত্র জানান, চন্দনধূল গ্রামের পেছনে কোনো খাল আছে কিনা দেখে বলতে হবে। যদি থাকে তাহলে অবশ্যই খালটি সরকারি। আমরা আগামী সপ্তাহে সরকারি সার্ভেয়ারসহ খালটির খোঁজখবর নিতে যাব। স্থানীয় কৃষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সরকারি খাল ভরাটকারী মামুন বেপারী, নুরু ইসলাম শেখ, নাজমূল বেপারী, নয়ন প্রভাবশালী হওয়ার কারণে আমরা কিছু বলতে পারিনি। ইউপি নির্বাচনের সময় বর্তমান চেয়ারম্যানের পক্ষে খাল ভরাটকারীরা কাজ করায় চেয়ারম্যান জোরালো প্রতিবাদ না করায় ওই সুযোগে খাল ভরাটকারী মামুন বেপারী, নুরু ইসলাম শেখ, নাজমূল বেপারী, নয়ন বাঁশ দিয়ে বেড়া দিয়ে খাল ও বাড়ি ভরাট করেন। আমাদের জমিগুলো জলাবদ্ধ হওয়ার কারণে এখন আমরা বেকার হয়ে পড়েছি।

যুগান্তর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.