পানকৌড়ির কলরবে মুখরিত শ্রীনগর সরকারি কলেজ

ষড় ঋতুর দেশে নানা রূপ বদলের মাধ্যমে প্রকৃতির পরিবর্তন হয়, সে পরিবর্তনের হাওয়া এসে লাগে বিলের মাঠ, ফসলি জমি ও বৃক্ষা প্রভৃতির ক্ষেত্রে। তেমনি এক অপরুপ সৌন্দয্যে ভরা ঋতু ‘শীতকাল’। প্রতিবছর শীতকাল এলেই জলাশয়, বিল, হাওড়, পুকুর ভরে যায় নানা রংবেরঙের নাম না জানা পাখিতে। আদর করে আমরা সেগুলোকে বলি অতিথি পাখি।

সেই নিয়ম ধরে এবারও আড়িয়ল বিলে এসেছে হাজার হাজার অতিথি পাখি। আড়িয়াল বিলের খুব কাছেই অবস্থিত শ্রীনগর সরকারি কলেজ। কলেজের সবুজ অরন্যে বাসা বেঁধেছে পানকৌড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির হাজার হাজার পাখি। শ্রীনগর সরকারি কলেজ এখন পাখিদের লীলাভূমিতে পরিনত হয়েছে। সারাদিনই থাকে বিভিন্ন প্রজাতির পাখিদের আনাগোনা।

সন্ধ্যার কিছু আগে থেকেই বিল থেকে ঝাঁক বেঁধে নীড়ে ফিরতে থাকে পানকৌড়ির দল। দিনের ওই সময়টা পাখিদের কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে ওঠে কলেজ চত্বরের সবুজ অরন্য। এই মনোমুগ্ধ কর দৃশ্য দেখার জন্য কিছু সময় থমকে দাঁড়ায় পথের পথিক।

পানকৌড়ি মূলত জলের পাখি তাদের বিচরণ হাওর,খাল, বিল, পুকুরেই ভেসে থাকতে দেখা যায়। খুব নিরহ প্রজাতির পাখি এরা। পানকৌড়ি দেখতে কিছুটা কাকের মত কালছে বর্ণের তাই এ অঞ্ঝলের মানুষের কাছে এ পাখিটি পানি কাউ নামেও খুব পরিচিত। কিছু অসৎ ব্যাক্তি আছে যারা সামান্য অর্থের লোভে এই অতিথি পাখি শিকার করে বাজারে বিক্রী করছে।

শ্রীনগর কলেজের প্রভাষক মাজাহারুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন ৫-৬ বার ১০-২০ জন শিকারিকে ফেরত পাঠাতে হয়। শিকার করতে আসা শিকারিকে ফেরত পাঠানোও খুব কঠিন কাজ, বড় শিকারিদের চেয়ে শিশু শিকারিরা এক্ষেত্রে বেশি ভয়ংকর। তাদের নিয়ে পশুপাখি রক্ষনাবেক্ষন সম্পর্কে কাউন্সিলিং করি খুব মনোযোগ দিয়ে কথাগুলো শোনে, এখন এলাকাবাসীর মধ্যে কিছুটা হলেও সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে। তারাও এখন পাখি নিধন বন্ধে কলেজ চত্বরে সচেতনতা মূলক ব্যানার টানিয়ে এ লক্ষে কাজ করছে ।

এসব বর্ন্য প্রানী ও পশু-পাখি আমাদেরই সম্পদ। আমাদের প্রয়োজনেই দেশের এসব প্রানী সম্পদ বাঁচিয়ে রাখতে হবে।

নিউজজি/ উজ্জ্বল দত্ত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.