যেতে পারেন বিক্রমপুর জাদুঘর

এক পাশে বয়ে গেছে প্রমত্বা পদ্মা আর অন্য প্রান্তে নয়নাভিরাম আড়িয়ল বিল। আর এ বিলের ধারেই গড়ে তুলেছিলেন যদুনাথ রায় বাহাদুর তার জমিদার বাড়ি।

মনোমুগ্ধকর পুরানো বাড়িটিতে প্রবেশ করলেই চোখে পড়বে একই রকম দেখতে কারুকাজ সজ্জিত মুখোমুখি দুটি জরাজীর্ণ প্রাসাদ। কাচারী ঘর, দূর্গা মন্দির, লক্ষীমন্দির। বিভিন্ন প্রজাতির দূর্লভ সব ফুল ও ফলজ গাছগাছালি।

এক সময় এ বাড়িতে পূর্নিমা তিথীতে খুব ঘটা করে পালন হতো রাশ উৎসব। বাড়িটির চারপাশ এক সময় রাতের আধাঁরে বিলের মাঝে আলোয় জলমল করত। প্রথা বিরোধী লেখক, ভাষা বিজ্ঞানী ড. হুমায়ূন আজাদ তার লেখা এক প্রবন্ধ গ্রন্থে এ বাড়িটিকে প্যারিস শহরের সাথে তুলনা করে লিখেছেন, বিলের ধারে প্যারিস শহর।

চির সবুজ গাছ গাছালিতে ঢাকা পাখিদের কিচিমিচির আওয়াজ জাগিয়ে তুলে বাড়ির চারপাশ। তার মাঝে বিশাল বিশাল পুকুর। পুকুরের চারিপাশেই শ্বেতপাথরে নির্মান করা শানবাঁধানো ঘাট। ঘাটের চারপাশের সিঁড়িগুলো পুকুরের মাঝখানে এসে একত্রে মিলিত হয়েছে।

পুকুরগুলো খুব গভীর যার কারনে সব সময়ই থাকে অথৈ জল। পুকুরগুলোর পাশ ঘিরেই অনেকগুলো বাড়ী আছে কিছু বাড়ীতে লোকজন থাকলেও কিছু বাড়ী আছে এখনো পরিত্যক্ত। জমিদার যদুনাথ রায়ের এ বাড়িটির স্মৃতি রক্ষার্থে প্রায় সারে ১৩ একর জায়গা জুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে বিক্রমপুর জাদুঘর।

অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের উদ্দ্যোর্গে ও সরকারি অর্থায়ণে নির্মান করা হয়েছে জাদুঘর, গেস্ট হাউজ, থ্রীমপার্ক। জাদুঘরের প্রথম তলায় দুইটি গ্যালারি করা হয়েছে। গ্যালারি দুইটির নাম করন করা হয়েছে জমিদার যদুনাথ রায় ও বিজ্ঞানী স্যার জগদ্বীশ চন্দ্র বসুর নামে। আর দ্বিতীয় তলার গ্যালারিটি মুক্তিযোদ্ধা গ্যালারি নামে নাম করন করা হয়েছে।

এছাড়া বাড়িটিতে ঢুকেই পুকুরে দেখতে পাবেন বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী নৌকা। তার মধ্যে সাম্পান নৌকা ও দেখতে পাবেন পুকুরে ভাসানো। এটি নৌকা জাদুঘরের প্রতীকী।

আসুন একবার ঘুরে আসি ঘরের স্বনির্কটে মুন্সিগঞ্জ শ্রীনগর উপজেলার রাঢ়ীখাল গ্রামে অবস্থিত জমিদার যদুনাথ রায়ের বাড়ি। যেখানে নির্মান করা হয়েছে বিক্রমপুর জাদুঘর। বিক্রমপুর সমন্ধে অনেক অজানা তর্থ্য হয়তো এ জাদুঘরে ভ্রমনে এসে জানতে পারেন।

ঢাকা গুলিস্তান থেকে বালাশুরের উদ্দেশে আরাম বাস ছাড়ে কিছুক্ষন পরপর ভাড়া ৬৫ টাকা এছাড়া পোস্তগোলা থেকেও সেবা পরিবহনে করে যেতে পারেন। সময় লাগবে প্রায় দেড় ঘন্টা। বালাশুর নেমে রিক্সায় যাওয়া যাবে জমিদার যদুনাথ রায়ের বাড়ি অথাৎ বিক্রমপুর জাদুঘর। ভাড়া লাগবে ২০ টাকা।

শীতকালীন সময় খোলা থাকে শনিবার থেকে বুধবার সকাল ৯টা থেকে ১টা এবং দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা পযর্ন্ত। বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক ছুটি আর শুক্রবার ২টা থেকে ৫টা পযর্ন্ত খোলা থাকে। কোন প্রবেশ মূল্য নেই।

বিক্রমপুরের রয়েছে হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য। এক সময় পূর্ব বঙ্গ বা সমতটের রাজধানী ছিল বিক্রমপুর। আর এ মাটিতেই জম্মগ্রহন করেছেন অনেক মনীষী। বিক্রমপুরের মাটি খুঁড়ে পাওয়া গেছে হাজার বছর আগের নৌকা, কাঠের ভাস্কর্য, পাথরের ভাস্কর্য, টেরাকোটাসহ অসংখ্য অমূল্য প্রত্নস্ত্ত।

এসব অতীত ঐতিহ্য সংরক্ষন করা সর্বোপরি প্রদর্শনের জন্য অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেছেন বিক্রমপুর জাদুঘর। আমরা আলোর পথযাত্রী এ শ্লোগান কে সামনে রেখে দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনটি এ অঞ্চলে কাজ করে যাচ্ছে।

নিউজজি/উজ্জ্বল দত্ত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.