বিড়ম্বনায় বাংলা লিংকের লাখো গ্রাহক

জসীম উদ্দীন দেওয়ান : চরম হতাশায় পরেছে মুন্সীগঞ্জের লাখো লাখো মানুষেরা। যারা নিজেদের দৈনন্দিন নানান প্রয়োজনে বাংলা লিংক সিম ব্যবহার করে থাকেন। মুন্সীগঞ্জ জেলায় ১৬ লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় আট লাখ লোক মোবাইল ফোন ব্যবহার করে। এর মধ্যে অধিকাংশের একাধিক নাম্বার রয়েছে। সেই হিসেবে আনুমানিক প্রায় তিন লাখ মানুষ বাংলা লিংকের মাধ্যমে তাদের প্রতিদিনের কাজ, প্রিয়জনদের সাথে কথোপকথন করে থাকেন। গেল মঙ্গলবার বিকাল থেকে এই জেলাবাসীদের মধ্যে বাংলা লিংক ব্যবহারকারীরা পরেছে চরম ভোগান্তিতে। কোন রকমের ঘোষণা ছাড়াই বাংলা লিংক নেট ওয়ার্ক কুঞ্জুস হয়ে ওঠে। একে অপরের সাথে কথা বলতে চাইলে, ঘন্টার পর ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে, হালকা শীতের পরিবেশে যেন শরীরে ঘাম ঝড়িয়েও ব্যার্থ হচ্ছে এই জেলায় বাংলা লিংক ব্যবহার কারীদের। বাংলা লিংক নেট ওয়ার্ক যেন শপথ নিয়েছে গ্রাহকদের একে অপরের সাথে কথা বলার সুযোগ বন্ধ করে দেবার।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে তিন লাখ বাংলা লিংক ব্যবহার কারীদের মধ্যে অনেকেরই একটি সিম মানে শুধু বাংলা লিংক। বাংলা লিংকে কল আসা-যাওয়া। ম্যাসেস আসা-যাওয়া চরম দু:স্বাধ্য হয়ে পরেছে। তাহলে শুধু মাত্র বাংলা লিংক ব্যবহারকারীরা গোটা তিন দিনে কতোটা বিড়ম্বনায় পরেছে সেই বিষয়টা ভুক্তভোগি ছাড়া অন্যকারো অনুমান করাটা ততোটা গাড় হবেনা। প্রযুক্তির যুগে সকল মানুষই বর্তমানে প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পরেছে। আর প্রযুক্তি নির্ভরশীল মানুষদের ব্যবসা -বানিজ্যে যোগাযোগ ছাড়াও প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় সংবাদ আদান -প্রদানের অন্যতম মাধ্যম হয়ে ওঠেছে মুঠু ফোন। এই ফোন ছাড়া বর্তমানে একেবারেই অকেজো হয়ে পরেছে মানুষেরা।

গেলো তিন দিনে বাংলা লিংক নেট ওয়ার্ক গ্রাহকদের ভোগাচ্ছে চরমভাবে, একটি কল দিতে দুই চার পাঁচ ঘন্টা অপচয় করলেও কল পেয়ে প্রয়োজনীয় কথা শেষ না হতেই কল ড্রম হয়ে পরার ফান্দে করতে হয় গ্রাহকদের। এভাবে মোবাইলে থাকা ব্যালেন্স অতি সহজে শোষ হলেও। নতুন করে এই অঞ্চলের রিচার্স সেন্টারগুলো থেকে বাংলা লিংকের সিমে কোন পরিমান টাকা রিচার্স করাও যাচ্ছেনা। ফলে যোগাযোগে একমাত্র মোবাইল ফোনের ওপর যারা নির্ভরশীল, তাদের মধ্যে যারা কেবল বাংলা লিংক ব্যবহার করে থাকেন। সে সকল গ্রাহকরা চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছে। আর্থিক লোকসানের পাশে, সামাজিক ও পারিবারিকভাবে ক্ষতির সম্মুখিন বাংলা লিংক গ্রাহকরা জানতে চায়, কবে হবে এই দৈন্য দশার অবসান? কবে স্বাভাবিক ভাবে তাদের কার্যক্রম চালাতে পারবে মোবাইল ফোর ব্যবহারের মাধ্যমে!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.