মুন্সীগঞ্জে দুদকের মামলায় জেলা পরিষদ কর্মকর্তা কারাগারে

প্রতারণা করে মুন্সীগঞ্জ জেলা পরিষদে উচ্চমান সহকারী পদে চাকরি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রধান সহকারী রেজাউল করিম এখন দুদকের মামলায় কারাগারে। চাকরি নেয়ার প্রায় ১৭ বছর পর দুদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে চাঁদপুর জেলার মতলব থানার চরলক্ষীপুর গ্রামের আবু বকর সিদ্দীকের ছেলে রেজাউল করিমের সার্টিফিকেট না দিয়ে চাকরি নেয়ার বিষয়টি।

এঘটনায় বর্তমান কর্মস্থল নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রধান সহকারী রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-২ এর উপসহকারী পরিচালক গত বছরের ১৬ই ডিসেম্বর মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেন। রেজাউল করিম গত ৮ই জানুয়ারি উচ্চ আদালতে গেলে হাইকোর্ট ডিভিশনের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও কৃঞ্চ দেবনাথের বেঞ্চ তাকে ৬ সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়ে মুন্সীগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পন করার নির্দেশ দেন। এরপর গত ১৯ শে ফেব্রুয়ারি আদালতে জামিনের আবেদন করলে মুন্সীগঞ্জ সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শওকত আলী চৌধুরী তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। এই তথ্য জানিয়েছেন, মুন্সীগঞ্জের দুদকের আইনজীবী মো. আশরাফ-উল-ইসলাম।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ সালে মুন্সীগঞ্জের উচ্চমান সহকারীর ৫জনের শুন্য পদে লোক নিয়োগের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হয়।স্থানীয় সরকার জেলা পরিষদ কর্মকর্তা ও কর্মচারী চাকরি বিধিমালা ১৯৯০তে উচ্চমান সহকারী পদে নিয়োগের শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে স্নাতক পাশের উল্লেখ ছিলো। কিন্তু রেজাউল করিম মিথ্যাভাবে নিজেকে স্নাতক পাশ উল্লেখ করে উচ্চমান সহকারী পদে আবেদন করে। জেলা পরিষদ, মুন্সীগঞ্জের তৎকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শহীদুল্লাহ কর্তৃক রেজাউল করিমকে নিয়োগপত্র প্রদান করা হয় এবং ২০০১ সালের ৩০ শে সেপ্টেম্বর রেজাউল করিম মুন্সীগঞ্জ জেলা পরিষদে উচ্চমান সহকারী পদে যোগদান করে। যোগদানের ২৪ দিনের মাথায় একই বছরের ২৪ শে অক্টোবর রেজাউল করিম বদলী হয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদে যোগদান করে। দুদকের তদন্তকালে রেজাউল করিমের ব্যক্তিগত নথি মুন্সীগঞ্জ জেলা পরিষদে খুঁজে পাওয়া যায়নি। অনুসন্ধানকালে রেজাউল করিমের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র সরবরাহ করার জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে অনুরোধ করা হয় এবং জেলা পরিষদ দুদককে জানায়, রেজাউল করিম তার স্নাতক পাশের সনদপত্র জমা প্রদানের জন্য ১৫দিনের লিখিত সময়ের আবেদন করেও দিতে পারেনি।

দুদক আরও জানায়, চাকরিতে আবেদন ও যোগদানের যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও এবং স্নাতক পাশ না হয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে জেনেবুঝে মিথ্যাভাবে চাকরিতে যোগদানের পর প্রতারণা ও সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি ২১ লাখ ২০হাজার ৯৮০টাকা বেতনভাতা গ্রহণ করে আত্মসাত করেছে। এ ঘটনায় রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে দ-বিধির ৪১০/৪৬৬/৪৬৮/৪৭১/২০১ ধারায় মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় গত বছরের ১৬ই ডিসেম্বর দুদক মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।

পূর্ব পশ্চিম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.