মুন্সীগঞ্জে ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না আলুচাষিরা

মুন্সীগঞ্জের ৬টি উপজেলার দিগন্ত বিস্তৃত মাঠে আলুর উত্তোলন শুরু হয়েছে। কিন্তু মৌসুমের শুরুতেই আলুর ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না কৃষকরা।

বৈরি আবহাওয়ায় বৃষ্টিতে পানি জমে জমির বীজতলা নষ্ট হয়ে পড়ায় আলুর ফলনও কম হয়েছে। গত দুই মৌসুমে আলুর দাম না পাওয়ায় এ বছর লোকসান কাটিয়ে উঠতে এক বুক আশা নিয়ে এবং ধার-দেনা করে কৃষকরা আলুর আবাদ করে। এরমধ্যে গত মৌসুমে মুন্সীগঞ্জের আলুচাষিরা তাদের মূলধনই পাননি। ভাড়া পরিশোধ করতে না পেরে কোল্ড স্টোরেজেই আলু ফেলে রেখে চলে আসে কৃষকরা। এই অবস্থায় স্থানীয় পদ্ধতিতে আলু সংরক্ষণ করে ৩-৪ মাস পর বিক্রি করার পরামর্শ দিয়েছেন মুন্সীগঞ্জের কৃষি কর্মকর্তা।

মুন্সীগঞ্জের প্রধান অর্থকরী ফসল আলু। বার বার লোকসানের পরও মুন্সীগঞ্জের কৃষকরা লাভের আশায় আলু উৎপাদন করে আসছেন। আর আলু সংরক্ষণের জন্য জেলার ৬টি উপজেলায় ব্যক্তি মালিকানাধীন ৭১টি কোল্ডস্টোরেজ (হিমাগার) রয়েছে। এসব কোল্ড স্টোরেজের ধারণ ক্ষমতা ৫ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন। গেল বছরে জেলায় ১৩ লাখ ৫১ হাজার ১২৯ টন আলু উৎপাদন হয়েছিল এবং এর মধ্যে ৬০ থেকে ৬৫ হাজার মেট্রিক টন আলু বীজ হিসেবে সংরক্ষণ করে কৃষকরা। বাকি আলুর কিছু অংশ কৃষকরা জমিতে বিক্রি করে দেয় এবং কিছু আলু স্থানীয়ভাবে সংরক্ষণ করেন। কিন্তু গেল বছর দাম না পেয়ে কৃষকরা কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষণ করা আলু সেখানে রেখেই চলে আসে।

কিন্তু এ বছর কিছু কৃষক প্রবাসী সন্তানের পাঠানো টাকা এবং কেউ কেউ ধার-দেনা করে আলু আবাদ করেন। মৌসুমের শুরুতে আলু রোপনের ১৫ দিন পর টানা দুই দিনের বৈরি আবহাওয়া ও বৃষ্টিতে আলুর বীজতলায় পানি জমে বীজতলা নষ্ট হয়ে যায়। এই কারণে চলতি মৌসুমে আলুর ফলন কম হচ্ছে।

এ বছর জেলায় ৩৮ হাজার ৩শ’ হেক্টর জমিতে আলু রোপন করা হয়েছে, যা গত বছরে চেয়ে ১ হাজার মেট্রিক টন আলু কম লাগানো হয়েছে। গত বছর আলু রোপন করা হয়েছিলো ৩৯ হাজার ৩শ’ হেক্টর জমিতে।

এদিকে, আলু রোপন ও উত্তোলনের সময় রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে কয়েক হাজার শ্রমিক মুন্সীগঞ্জ জেলার বিভিন্ন প্রান্তে কাজ করে থাকে চুক্তিভিত্তিকভাবে। গত বছরে আলু দাম না পাওয়া এবং এ বছরেও আলুর ফলন কম এবং ন্যায্য মূল্য না থাকায় উত্তরাঞ্চলের শ্রমিকদের খুব একটা কাজে লাগাচ্ছে না আলুচাষিরা।

মুন্সীগঞ্জের কৃষকরা জানান, এ বছর ফলনও কম, দামও নেই। পাইকাররা জমিতেই আসছে না। বীজ আলু কেনা, সার, কীটনাশক, শ্রমিকের মজুরিসহ প্রতিমণ আলুতে তাদের খরচ পড়েছে সাড়ে ৩শ’ টাকা। বর্তমানে বাজারে প্রতিমণ আলু বিক্রি হচ্ছে একই দামে। এই বছর কোল্ড স্টোরেজগুলো ৫০ কেজির প্রতি আলুর ভাড়া নির্ধারণ করেছে ২শ’ টাকা। গতবছর ৮০ কেজির বস্তা প্রতি ভাড়া নেয় ৩শ’ থেকে ৩শ’ ৫০ টাকা।

এদিকে, বাজারে আলুর ক্রেতা বা পাইকার নেই। অনেকেই জমিতে আলু স্তুপ করে রেখেছেন। এ অবস্থায় আলুচাষিরা সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন এবং বিদেশে আলু রপ্তানির দাবি তুলেছেন।

মুন্সীগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. হুমায়ুন কবীর জানান, এ বছর আলুর ফলন কম এবং দামও নেই। আলু উত্তোলনের পর স্থানীয় পদ্ধতিতে বাড়িতে রেখে ৩-৪ মাস পর আলু বিক্রি করলে দাম কিছুটা পাওয়া যেতে পারে।

অবজারভার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.