সিরাজদিখানে ব্যাক্তিগত প্রয়োজনে নদী দখল করে সড়ক নির্মাণ করলেন ইউ পি সদস্য

বন্ধ হয়ে গেছে নদীর প্রবাহ
জসীম উদ্দীন দেওয়ান : ধলেশ্বরী শাখা নদীর ওপর রাস্তা তৈরী করে নদীর প্রবাহ বন্ধ করে দিয়েছে এক ইউ পি সদস্য। নিজের ইট ভাঁটায় নির্বিঘ্নে গাড়ি চলাচলের জন্য নদীর পাড় থেকে মাটি কেঁটে বানানো হয় সড়কটি। ফলে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে হাজার হাজার একর ফসলী জমি, পানির অভাবে দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হচ্ছে কয়েক হাজার পরিবারের। তবে রাস্তা কেঁটে নদী পূন:রুদ্ধারসহ অপরাধীকে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার। ধলেশ্বরী শাখা নদীর বুক চিড়ে রাস্তা নির্মাণ করায়, নদীর দুই পাশের রূপ এখন দুই রকমের। এক পাশে নদীর টলমলে জল। আর অন্য পাশে নদী শুকিয়ে বিরান ভূমি।

সিরাজদিখান উপজেলার বালুর চর ইউনিয়নের খাসকান্দি এলাকায় নদীর প্রবাহ বন্ধ করে দুইশ ফুট দৈর্ঘ্যের এই রাস্তা নির্মানের কারণে, ফসলের জমির প্রয়োজনীয় পানি পাচ্ছেনা বালুর চর ও বাসাইল ইউনিয়ন দুটির কয়েক হাজার একর ফসলী জমির কৃষকেরা, আর নদী শুকিয়ে যাবার কারণে গোসল ও জামা কাপড় ধোঁয়ার মতো দৈনন্দিত কাজ ব্যাহত হচ্ছে প্রায় বিশ হাজার লোকের, এমন অভিযোগ করে স্থানীয়রা।

এলাকাবাসীরা আরো জানান, নিজের ইট ভাঁটার কাজে ব্যবহারের জন্য নদীর ওপর রাস্তা নির্মাণ করছেন বালুর চর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড মেম্বার আমজাদ হোসেন। অন্য দিকে আমজাদ হোসেনের দাবি, জনস্বার্থেই রাস্তা নির্মাণ করেছেন তিনি। নদীর গতি বন্ধ করে, নদীর বুকে ব্যাক্তি উদ্যোগে রাস্তা কেন নির্মাণ করা? জানতে চাইলে আমজাদ বলেন, এটা এখন আর নদী নেই, শুকিয়ে জমি হয়েগেছে।

অবৈধভাবে নির্মিত এই রাস্তা উদ্ধার করে নদীর প্রবাহ নিশ্চিতসহ অপরাধিকে বিচারের আওতায় আনার আশ্বাস দিলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, তানভির মোহাম্মদ আজিম।

নদীর ওপর বালুর চরের খাসকান্দি এলাকায় নির্মিত মাটির এই রাস্তা যেমন নদীর প্রবাহ বন্ধ করে দিয়েছে। তেম্নি নদী দখল করে বাসাইল ইউনিয়নে নির্মিত ঢাকা আবাসন প্রকল্প রোধ করেছে নদীর গতিপথ। এর ফাঁকে ফাঁকে আছে আরো কিছু স্থাপনাও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.