ফুলঝাড়ুর গ্রাম ‘জয়নগর’

ফুলঝাড়ু পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজে বাসা-বাড়িতে নিত্য ব্যবহারের এক অপরিহার্য পণ্য। মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার জয়নগর গ্রামে এই ফুলঝাড়– তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন প্রায় অর্ধশত পরিবার। আর এই ফুলঝাড়– তৈরি করে পরিবারগুলোতে এসেছে আর্থিক সচ্ছলতা। জয়নগর গ্রামে ফুলঝাড়– তৈরিতে পুরুষের পাশাপাশি ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন নারীরাও। মূলত এই গ্রামের পরিবারগুলোর নারী-পুরুষ মিলেমিশে প্রতিদিন তৈরি করছে এই ঝাড়–।

জেলার সিরাজদিখান উপজেলার জয়নগর গ্রামের পরিবারগুলোর প্রাণের সঙ্গে মিলে গেছে ফুলঝাড়– তৈরির কাজ। এ গ্রামের বেশির ভাগই কৃষক পরিবার।

কৃষি কাজ শেষে অবসর সময়ে গ্রামের নারী-পুরুষ এই ফুলঝাড়– তৈরি করছেন। আর ফুলঝাড়– তৈরি করে পরিবারগুলোতে এসেছে আর্থিক সচ্ছলতাও।

বাজারে প্লাস্টিকের তৈরি নানা রকমের ঝাড়– পাওয়া যায় আজকাল। এরমধ্যে একটু কদর কমেনি ফুলঝাড়–র। এখনও এই ফুলঝাড়– বাসা-বাড়িতে ধুলো-বালি পরিষ্কার তথা গৃহস্থালিতে পরিচ্ছন্নতার এক অপরিহার্য পণ্য হয়ে আছে। জয়নগর গ্রামের এক গৃহবধূ জানান, এই গ্রামের যে অর্ধশত পরিবারে ফুলঝাড়– তৈরি হয়ে থাকে তাদের বেশির ভাগই কৃষক পরিবার।

কৃষি কাজের ফাঁকে ফুলঝাড়– তৈরি করে বাড়তি রোজগারের পথ খুঁজে পেয়েছেন। প্রতিদিন অবসর সময়ে একেকজন নারী ৮ থেকে ১০টি ফুলঝাড়– তৈরি করে থাকেন। পুরুষরা তৈরি করছেন তার দ্বিগুণ-তিনগুণ। কাজেই ফুলঝাড়– তৈরিতে পুরুষের পাশাপাশি নারীর হাতও থেমে নেই।

জয়নগর গ্রামে তৈরি ফুলঝাড়– বিক্রির জন্য চলে যায় দেশের বিভিন্ন জেলার বাজারে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত পাইকাররা এসে এই ফুলঝাড়– কিনে নিয়ে যান। একেকটি ফুলঝাড়– তৈরি করতে খরচ পড়ে ১২ টাকা থেকে ১৫ টাকা। পাইকাররা সামান্য মুনাফা দিয়ে জয়নগর গ্রামের তৈরি ফুলঝাড়– কিনে নিয়ে থাকেন। এরপর এই ফুলঝাড়–ই এক হাত দুই হাত ঘুরে বাজারে গিয়ে বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকা থেকে ৫০ টাকায়।

ফুলঝাড়– তৈরিকে এক ধরনের শিল্প হিসেবে দেখতে পছন্দ করেন জয়নগর গ্রামের পরিবারগুলোর নারী-পুরুষরা। তারা জানান, ফুলঝাড়– তৈরি করতে পরিশ্রম করতে হয় অনেক। মনোযোগ সহকারে শিল্পের আদলে তৈরি করে থাকেন তারা একেকটি ফুলঝাড়–।

এক কথায় অর্ধশত পরিবারের পরিশ্রমে সিরাজদিখান উপজেলার জয়নগর গ্রামে গড়ে উঠেছে আজ ফুলঝাড়– তৈরির এই শিল্প। পরিশ্রমের তুলনায় মুনাফা কম হলেও জয়নগর গ্রামের অর্ধশত পরিবার অবসর সময়ে এই ফুলঝাড়– তৈরি করে বাড়তি জীবিকা নির্বাহ করে আসছে।

এদিকে ফুলঝাড়– তৈরির শিল্পের দিকে নজর দেওয়া উচিত সরকারের। জয়নগর গ্রামের তৈরি ফুলঝাড়– দেশের বাইরে রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব বলে মনে করছেন অনেকে।

ফুলঝাড়– তৈরির সঙ্গে সিরাজদিখানের যে অর্ধশত পরিবার জড়িয়ে আছে, তারা বলছেন- বিদেশে রফতানির সুযোগ পেলে একদিন বিশ^ জয় করতে সক্ষম হবে জয়নগর গ্রামের এই ফুলঝাড়–।

-মীর নাসিরউদ্দিন উজ্জ্বল, মুন্সীগঞ্জ থেকে
জনকন্ঠ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.