লৌজংয়ে পদ্মার শাখা নদীতে গোসল করতে গিয়ে দুই বোনের মৃত্যু

মায়ের শপিং করা বৈশাখের নতুন জামা পড়া হলোনা মুন্সীগঞ্জের লৌজংয়ের দক্ষিন মশদগাঁও গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী নাছির রাঢী ওরফে মনার দুই কন্যার। শুক্রবার লৌহজং থানা ৩শ’ গজ পশ্চিমে বড় নওপাড়া গ্রাম সংলগ্ন পদ্মার শাখা নদীতে গোসল করতে গিয়ে সলিল সমাধি হয় ফিহা আক্তার (১৩) ও নুহা আক্তার (১১) নামের সাঁতার না জানা দুই বোনের। ফিহা ব্রাহ্মনগাও উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ শ্রেনী ও নুহা ওয়েল ফেয়ার কিন্ডার কার্টেনের ৫ শ্রেনীর ছাত্রী।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ফিহা ও নুহার পিতা দীর্ঘ দিন মালয়েশিয়ার বসবাস করছে। তারা দক্ষিন মওদগাও গ্রামে নানুর কাছে বসবাস করতো। তাদের মা গতকাল তাদের জন্য বৈশাখের শপিং করতে ঢাকায় যায়। দুপুরে ফিহা ও নুহা নানুর কাছে গোসল করার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। দীর্ঘ সময় তারা বাড়ি না ফিরলে তাদের নানু তাদের খোঁজে বের হয়।

অনেক খোঁজাখোজি করে না পেয়ে অবশেষে বিকেল তাদের নানু থানার কাছের পদ্মার শাখা নদীর ঘাটে যায়। এ সময় নানু ফিহা ও নুহার সেন্ডেল দেখতে পায়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় নদীতে নেমে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়।

এদিকে এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে শোখের ছায়া নেমে এসেছে। ফিহা ও নুহার লাশ শেষ বারের মত দেখতে তাদের সহপাঠিসহ এলাকার শত শত লোক ভির জমায়। মশদগায়ের ওই দুই শিক্ষার্থীদের বাড়িতে এখন চলছে শোকের মাতন। ফিহার সহপাঠি বুশরা, রাফিয়া ও নুহা নামের তিনজন তাদের বাড়িতে এস কন্নায় ভেঙে পড়ে।

তারা জানান, ফিহা আনেকটা চঞ্চল ও হাসিখুশি প্রকুতির মেয়ে ছিল। গত বুধবার তাদের শেষ দেখা হয়েছিল স্কুলে। কিন্তু এমনভাবে তাদের ছেড়ে চলে যাবে তা ভাবতেও তাদের অবাক লাগছে। সহপাঠির এই করুন মৃতুতে তারা অনেকটা স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। তাদের বোবা কান্না অনেকে আবেগ আপ্লুত করে তুলেছে। লৌহজং থানার ওসি লিয়াকত আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

জনকন্ঠ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.