পদ্মা সেতুর নিরাপত্তায় দুই থানা প্রস্তুত

মঈনউদ্দিন সুমন: পদ্মা সেতু প্রকল্প এলাকায় নিরাপত্তার জন্য দুই থানা এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। মাওয়া টোল প্লাজার পাশে ‘পদ্মা সেতু উত্তর’ এবং জাজিরা টোল প্লাজার কাছে ‘পদ্মা সেতু দক্ষিণ’ প্রান্তে থানার নির্মাণকাজ শেষ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে থেকে নির্দেশনা পেলে জনবল নিয়োগের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হবে।

পদ্মা সেতু প্রকল্প থেকে রাজস্বের একটি বড় অংশ সরকারি খাতে জমা হবে। দুটি থানা এসব রাজস্ব নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করবে। প্রকল্প এলাকায় দেশি-বিদেশি শ্রমিক ও কর্মকর্তারা নিয়োজিত আছেন। ২৪ ঘণ্টাই প্রকল্প এলাকায় কাজ চলমান থাকে। এ ছাড়া দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুট। দেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যাতে কোনো ত্রুটি না থাকে সেই লক্ষ্যে নির্মাণ করা হয়েছে দুটি থানা।

২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে থানার জন্য চার তলা দুটি ভবনের কাজ শুরু হয়। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নিজস্ব অর্থায়নে ৩৭ কোটি টাকা ব্যয়ে একই ডিজাইনে নির্মাণ করা হয়েছে দুটি থানা। বাংলাদেশ পুলিশ ও সেতু কর্তৃপক্ষের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতার ভিত্তিতে প্রতিটি থানা এক একর জমিতে নির্মিত হয়েছে। ভবিষ্যতে থানার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আরো জমি প্রয়োজন হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সম্ভাব্যতা যাচাই-বাছাই করা হবে।

পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী (সড়ক) সৈয়দ রজব আলী জানান, ছয় তলা ফাউন্ডেশনের চারতলা থানা ভবন দুটি এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। থানা দুটি একই ডিজাইনে নির্মাণ করা হয়েছে। চলতি বছরের মে মাসে সংশ্লিষ্টদের কাছে হস্তান্তর করার কথা রয়েছে।

মুন্সীগঞ্জের জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম জানান, পদ্মা সেতু প্রকল্পের নিরাপত্তার জন্য দুটি থানা নির্মিত হয়েছে। জনবল নিয়োগের জন্য এবং থানার কার্যক্রম শুরুর জন্য গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে অনুমতি দিলেই থানার কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হয়ে যাবে।

পদ্মা সেতু কেবল দেশের দক্ষিণ আর পূর্বাঞ্চলের সেতুবন্ধ হবে না, এই সেতু এশিয়ান হাইওয়ের রুট এএই-১ এর অংশ হিসেবেও ব্যবহার হবে। পদ্মা সেতু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর যোগাযোগের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। মুন্সীগঞ্জ জেলার মাওয়া, মাদারীপুর জেলার শিবচর ও শরীয়তপুর জেলার জাজিরায় দিনরাত কাজ চলছে। সেখানে পুরোদমে চলছে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ। সেতু প্রকল্প এলাকায় নিরাপত্তায় কাজ করছে সেনাবাহিনী। এ সেতু নিয়ে দেশের মানুষের আগ্রহ অনেক।

পদ্মা সেতুতে তিনটি স্প্যান বসানোর মাধ্যমে ৪৫০ মিটার দৃশ্যমান হয়েছে। চলতি মাসের শেষের দিকে চতুর্থ স্প্যান পিলারের ওপর বসানোর কথা রয়েছে। পদ্মা সেতুর সার্বিক অগ্রগতি ৫৮ শতাংশ।

এনটিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.