বৈশাখের ছুটিতে পদ্মা পাড়ে পর্যটকের ঢল

মীর নাসিরউদ্দিন উজ্জ্বল: বৈশাখের ছুটিতে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের শিমুলিয়া ঘাট সংলগ্ন পদ্মা পাড়ে পর্যটকদের ভিড় নেমেছিল। নগর জীবনের কোলাহল মুক্ত পরিবেশে নির্মল বাতাসের স্বাদ নিতে পর্যটকরা ঘুরে বেড়ায় পদ্মা পাড়ের এই বেলা ভূমিতে। পর্যটকের ভিড়ে পদ্মা পার রূপ নিয়েছিল পর্যটন কেন্দ্রে। ঝিকিমিকি রোদ আর মেঘের আনাগোনায় এক অন্যরকম পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছিল এই পদ্মা পাড়ে। নতুন বছরের শুরুতে হাসিখুশিতে ভরা ছিল সকলের প্রাণ। প্রাণের উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছিল পর্যটকরা। দুরন্তপনায় ভরা ছিল সকলের হৃদয়। পদ্মার ঢেউয়ের তালে অনেকেই নিজেকে ধরে রাখতে না পেরে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন পদ্মায়।

শুধু মাওয়ায়ই নয়, পর্যটকদের ভিড় ছড়িয়ে পড়ে লৌহজংয়ের পদ্মা রিসোর্ট, মাওয়া রিসোর্ট ও পদ্মা পারের শিমুলিয়া নতুন ফেরিঘাটসহ কয়েক কি.মি. বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে। রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের জেলা-উপজেলা থেকে পর্যটকরা এসেছিলেন সপরিবারে। আবার কেউবা এসেছেন একাকী আর প্রেমিক যুগল এসেছেন একে অন্যের হাত ধরে। উপভোগ করেছেন বালুচরে ঘুরে বেড়ানোর আনন্দ, নদীতে গোসল করা আর পড়ন্ত বিকেলে সূর্যাস্তের অভাবনীয় দৃশ্য দেখা। পদ্মা সেতুর কাজের জন্য মাওয়া চৌরাস্তা বরাবর দক্ষিণের পদ্মা সংরক্ষিত থাকলেও পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় ছড়িয়ে পড়ে সংরক্ষিত এলাকার বাইরে পদ্মা পাড়ে। শুধু পদ্মা পারই নয়, পর্যটকদের ভিড় ছিল ধলেশ্বরীর মুক্তারপুর ব্রিজ, সিরাজদিখানের ধলেশ্বরী সেতু, শ্রীনগরের রাঢ়িখালের স্যার জগদিস চন্দ্র বসু ইনস্টিটিউশনের পিকনিক স্পটেও।

নববর্ষ উপলক্ষে শনিবার শিমুলিয়া সিবোর্ট ঘাটের পূর্ব দিকে পদ্মা পাড়ের বালু চরে পর্যটকদের ভিড় ছিল নজর কাড়ার মতো। রাজধানী ঢাকার যানজটে ত্যক্তবিরক্ত নগরবাসী সীসাযুক্ত বাতাস থেকে একটু হাঁফ ছেড়ে মুক্ত বাতাস গ্রহণ করতে পরিবার পরিজন নিয়ে ছুটে এসেছিলেন রাজধানী ঢাকার অনতি দূরের এই পদ্মা পাড়ে। নারায়ণগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ, দোহার, মুন্সীগঞ্জ, সিরাজদিখানসহ কাছাকাছি বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকেও পর্যটক এসেছিলেন পদ্মার নির্মল আনন্দ উপভোগ করতে।

বন্ধু-বান্ধব মিলে এক একটি গ্রুপ করে এসেছিলেন বেড়াতে। আবার অনেক প্রেমিক যুগল এসেছিলেন একে অন্যের হাত ধরে। ঘুরে বেড়িয়েছেন বালুময় এই পদ্মা পাড়ে। অনেকে আবার নৌকা বা ট্রলার ভাড়া করে চলে গেছেন পদ্মা নদীর মাঝে জেগে উঠা চরগুলোতে ঘুরে বেড়াতে। সেখানে মজা করে বিভিন্ন খেলায় মেতে ছিলেন পর্যটকরা। বিশেষ করে ফুটবল আর ক্রিকেট খেলে মুক্ত বাতাসে আনন্দ আর উল্লাসে মেতে ছিলেন পর্যটকরা তাদের সঙ্গী সাথীদের সঙ্গে। অনেকে আবার সিবোর্টে চড়ে বেড়িয়েছেন পদ্মার বুকে। প্রেমিক প্রেমিকা একে অন্যের হাত ধরে ঘুরে বেড়ানো ছাড়াও পদ্মা পাড়ের বালু চরে পাশাপাশি বসে নিজেদের ঘর বাঁধার স্বপ্নে শলা-পরামর্শে ছিলেন মগ্ন। পদ্মা পাড়ের বেলাভূমিতে স্ত্রী সন্ত্রানদের নিয়ে একটু পরিবর্তনের জন্য অনেকেই এখানে এসে বিমোহিত হয়েছেন। অনেকে আরার নিজেকে ধরে রাখতে না পেরে পদ্মায় ঝাঁপিয়ে পড়ে দূরন্তপনায় মেতে ছিলেন বন্ধু বান্ধবদের সঙ্গে।

জনকন্ঠ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.