টঙ্গীবাড়ি’তে বিদ্যুৎ বিভ্রাট, এইচএসসি পরিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ

সোহেল টিটু/ রিয়াদ হোসাইন: মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার দিঘীরপাড়, কামারখাড়া, যশলং, হাসাইল ও সদর উপজেলার শিলই, বাংলাবাজার এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারনে জনজীবনে প্রচন্ড দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে।

প্রতিদিনই এসব এলাকায় গড়ে প্রায় ১৬ থেকে ১৭ ঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে। সাধারণ জনগণসহ এই এলাকার এইচএসসি পরিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা নানান সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। বৈশাখীর শুরু থেকেই টঙ্গীবাড়ির উপজেলা ও সদর উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের গ্রাম ও বাজার গুলোতে নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকছে না।

এইচএসসি পরিক্ষার্থী ইতু আক্তার জানান, আগামীকাল আমার হিসাব বিজ্ঞান পরীক্ষা,কিন্তু বিদ্যুৎ সরবারহ না থাকার কারণে পরীক্ষার প্রস্তুতি ঠিকমত নিতে পারছি না। কিছুদিন যাবৎ সন্ধ্যার পর থেকে বিদ্যুৎ চলে যায়,সারারাত আর বিদ্যুৎ ফিরে আসে না।

পূর্বরাখি গ্রামের বাসিন্দা মো. জুয়েল শেখ বলেন,আমাদের গ্রামে গত তিনদিন যাবৎ কোনো বিদ্যুৎ নাই।এছাড়াও আমাদের গ্রামে প্রতিমাসে প্রায় ৩-৪দিন কোনো বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকে না। প্রচন্ড গরমের কারণে শিশুসহ বড়রাও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়।

দিঘীরপাড় বাজারের ব্যবসায়ী ওসমান গনি বলেন, বিদ্যুৎ না থাকার কারনে আমার দোকানের প্রায় ২০ হাজার টাকার আইসক্রিম নষ্ট হয়ে যাবার পথে।

হাসাইল,কামারখাড়া,শিলই,বাংলাবাজার দোকানীরা জানান,কিছুদিন যাবৎ বিদ্যুতের অপ্রত্যাশিত আচরণের কারণে আমাদের ব্যবসার অবস্থা খুবই খারাপ । সকাল থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ফটোকপিসহ অনলাইনে কোনো কাজ করতে পারছি না।

এব্যাপারে টঙ্গীবাড়ি জোনাল অফিসের ডিজিএম,মাধব নাথ-এর সাথে, মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,আসলে এটি লোডশেডিং নয়,গত কয়েক দিন যাবৎ ঝড়বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকায় বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।সে গুলো মেরামত করতে গিয়ে ঘনঘন বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে কাজ করতে হয়।তাছাড়া আমাদের লোকবল যথেষ্ট না থাকার কারণে কাজ শেষ করতে বিলম্ভ হচ্ছে। আশারাখি ঝড়বৃষ্টি থেমে গেলে আমরা নিরবিছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.