শ্রমিক সংকটে বিপাকে মুন্সীগঞ্জের কৃষক

কাজী সাব্বির আহমেদ দীপু: পাকা ধান কাটার মৌসুমের শুরুতেই মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের আড়িয়ল বিলে ও লৌহজং উপজেলার পদ্মার চরে গত কয়েক দিনের ঝড় ও বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় পাকা বোরো ধান কেটে ঘরে তুলতে পারছেন না কৃষকরা। বিস্তীর্ণ বোরো ধানের জমিতে এখন পানি থৈ থৈ করছে। আর পানি বৃদ্ধির ফলে আড়িয়ল বিলের ধানি জমিতে বিষধর সাপের বিচরণ দেখা দেওয়ায় প্রাণ হারানোর ভয়ে ধান কাটতে জমিতে নামতে সাহস পাচ্ছেন না কৃষকরা। এমনকি ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা মজুরিতেও শ্রমিকরা ধান কাটতে রাজি হচ্ছেন না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শ্রীনগর উপজেলার গাদিরঘাট, মদনখালী, বাড়ৈইখালী, আলমপুর, লস্করপুর, মত্যখালী, হাষাড়া, শ্রীধরপুর গ্রামসহ আড়িয়ল বিলের বিভিন্ন গ্রামে রোপণ করা ধান ও লৌহজং উপজেলার যশলদিয়া এবং পদ্মার চরে প্রায় দেড় হাজার হেক্টর জমির পাকা ধান অতিবর্ষণে পানিতে তলিয়ে গেছে। বিস্তীর্ণ ক্ষেতের ধানের শীষের মাথার ওপর দিয়ে ৩-৪ ফুট উচ্চতায় বৃষ্টির পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এ অবস্থায় পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। এমনকি বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় পাকা ধান কেটে ঘরে তোলা ও মাড়াই করতেও বিপাকে কৃষকরা।

আড়িয়ল বিলের ধানচাষি বারেক মিয়া জানান, এবার তিনি ৫ হেক্টর জমিতে ধান রোপণ করেছেন। আর ধান কাটার মৌসুম ঘনিয়ে আসার আগেই অতিবৃষ্টির কারণে তার জমির সব ধান তলিয়ে গেছে। এ অবস্থায় পাকা ধান কেটে ঘরে বা আঙিনায় তোলা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। গাদিরঘাট গ্রামের ধানচাষি আব্দুল কাদের মিয়া জানান, অতিবর্ষণে পাকা ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। এর মধ্যে আড়িয়ল বিলের বিভিন্ন এলাকায় বিষধর সাপের বিচরণ বৃদ্ধি পাওয়ায় পাকা ধান কাটতে জমিতে নামতে সাহস পাচ্ছেন না কেউ। ধানের জমিতে সাপের বিচরণ দেখা দেওয়ায় ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা মজুরিতেও শ্রমিকরা ধান কাটতে রাজি হচ্ছেন না।

একই কথা জানালেন আলমপুরের কৃষক আলম চান মুন্সী ও লস্করপুরের মহসিন ঢালি। তারা জানান, আড়িয়ল বিলের সর্বত্র এখন সাপ আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। চাষিরা পাকা ধান কাটতে গিয়ে সাপের ছোবলে প্রাণ হারানোর শঙ্কায় ভুগছেন।

অন্যদিকে একই অবস্থা বিরাজ করছে লৌহজং উপজেলার যশলদিয়া গ্রামসহ পদ্মার চরের ধানের জমিতে। অতিবর্ষণে পদ্মার চরের নাসির মোল্লা, আজিম বেপারী, মনির মাদবরসহ এ অঞ্চলের কৃষকরা পাকা ধান কেটে বাড়ির আঙিনায় নিতে পারছেন না। কৃষক নাসির মোল্লা জানান, প্রায় এক থেকে দেড় হাজার হেক্টর জমির ধানের মধ্যে একগুচ্ছ ধানও এখনও ঘরে তুলতে পারেননি কৃষকরা। পানি থাকায় ট্রলার বা নৌকা নিয়েও ধান কাটা যাচ্ছে না।

শ্রীনগর উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ সৈকত ওসমান জানান, উপজেলায় এবার ১০ হাজার হেক্টরের কিছু বেশি বোরো ধান আবাদ করা হয়। এখন ধান কাটার মৌসুম। অতিবর্ষণে আড়িয়ল বিলের কিছু কিছু জমির পাকা বোরো ধান নষ্ট হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর পরও কৃষকরা পাকা বোরো ধান কেটে ঘরে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আড়িয়ল বিলের কিছু এলাকায় পানি আটকে থাকার কারণে এবং নিরিবিলি হওয়ায় সেখানে সাপের বিচরণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। যেদিকে সাপের বিচরণ রয়েছে, সেদিকে কৃষক-শ্রমিকরা পাকা ধান কাটতে সাহস পাচ্ছেন না।

সমকাল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.