সিরাজদীখান: এলাকায় চাষাবাদে সেচ সংকটে কৃষক

খাল ভরাট করে বাড়িঘর নির্মাণ
ইমতিয়াজ উদ্দিন বাবুল:  মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদীখান উপজেলায় সরকারি খাল ভরাট করে ঘর-বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে এক পরিবারের বিরুদ্ধে। এতে ওই এলাকার কৃষকরা চাষাবাদে সেচ সংকটে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ অবস্থায় কৃষকরা অভিযোগ করেও কোনো ফল পাচ্ছেন না।

সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, জেলার সিরাজদীখান উপজেলার বাসাইল ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের উত্তর রাঙ্গামালিয়ার মোতালেব দেওয়ানের ৪ ছেলে নুরুল দেওয়ান, শাহিন দেওয়ান, এনামুল দেওয়ান ও আক্তার দেওয়ান গিরিগঞ্জ খাল মাটি দিয়ে ভরাট করে বাড়িঘর নির্মাণ করেছেন। সেখানে তারা বিল্ডিং, পাকা টিনের ঘর, টয়লেট, বাথরুম ও টিউবওয়েল নির্মাণ করেছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রজাতির বনজ-ফলদ গাছের চারা রোপণ করেছেন। ফলে বোরো মৌসুমে ওই এলাকার একমাত্র প্রাকৃতিক পানির উৎস খালটি একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। এতে খালের তীরবর্তী আবাদি জমির সেচ সংকট দেখা দেওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

কৃষকরা এ ব্যাপারে অভিযোগ করেও কোনো ফল পাচ্ছেন না।

বাসাইল ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম যুবরাজ বলেন, ‘বহু পূর্বকাল থেকে খালটি আমরা দেখে আসছি, এ খাল দিয়ে বর্ষা মৌসুমে বড় বড় নৌকা চলাচল করেছে। কিন্তু আজ থেকে প্রায় ৬-৭ বছর আগে মোতালেব দেওয়ানের ছেলেরা অবৈধভাবে সরকারি খালটি ভরাট করে বাড়ি বানিয়েছে। এলাকাবাসী এবং আমি বাধা দিয়েছিলাম, কিন্তু তারা আমাদের বাধা না শুনেই বাড়িঘর নির্মাণ করেছে। খালটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে এলাকার কৃষকরা চাষাবাদে সেচ সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।’

বাসাইল ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. দানেসুর রহমান সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমাদের ভূমি রেকর্ডে এটা ইছামতি নদীর শাখা নদী এবং নকশায়ও নদী উল্লেখ করা আছে, মোতালেব দেওয়ান প্রায় ১৫ শতাংশ নদী দখল করে বাড়ি তৈরি করেছেন। আমি এখানে যোগদানেরও ৪-৫ বছর আগে তিনি বাড়িটি তৈরি করেছেন।

অভিযুক্ত মোতালেব দেওয়ানের ছেলে আক্তার দেওয়ান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমরা কোনো সরকারি জায়গা দখল করিনি।

সমকাল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.