মুন্সীগঞ্জে নিত্যপণ্যের বাজারে রমজানের আগুন!

পবিত্র মাহে রমজান ঘিরে রাজধানীর নিকটবর্তী মুন্সীগঞ্জে দ্রব্যমূল্যের বাজারে রীতিমত আগুন লেগেছে। মাংসের বাজার, মাছের বাজার, কাঁচা বাজার ও মুদি বাজারে বিভিন্ন পণ্যের মূল্যই বেড়েছে। তবে জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা জানিয়েছেন, প্রতিদিন বাজারে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্ব ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বাজারে ভেজাল এবং ওজনে কম দেয়া এবং মূল্য বৃদ্ধিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

মাত্র একদিনের ব্যবধানে অনেক পণ্যের দাম বেড়েছে আঁতকে উঠার মতো। বিশেষ করে মাছের বাজারে মূল্য লাগামহীনভাবে বেড়েছে। মাছ কিনতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়েছে স্বল্প আয়ের মানুষের। বৃহস্পতিবার মুন্সীগঞ্জ শহর ও শহরতলীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দ্রব্যমূল্যের বাজারে আগুন লাগার চিত্র ফুটে উঠেছে।

বিকেলে শহর বাজারের বিভিন্ন মুদি দোকানে গিয়ে জানা গেছে- ছোলার দাম বেড়েছে কেজিতে ১০ টাকা। আগে ছিল ৬০ টাকা। রমজান শুরুর আগের দিন শহর বাজারে বিক্রি হয়েছে ৭০ টাকা কেজি। ডাব্লি বুট ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। আগে ছিল ৩৫ টাকা।

মসুরডালের দাম না বাড়লেও বেড়েছে খেসারীডালের দাম। আগে এক কেজি খেসারী বিক্রি হয়েছে ৩২ টাকায়। বর্তমানে এক কেজি খেসারী বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়।

কেজিতে বেসনের দাম বেড়েছে দ্বিগুণ। আগে ৪৫ টাকায় এক কেজি বেসন পাওয়া গেলেও বর্তমানে কেজিতে বেসন বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা থেকে ১০০ টাকা। বর্তমানে দেশী এক কেজি পেঁয়াজের দাম পড়ছে ৪২ টাকা। আগে ছিল ৩৫ টাকা। ভারতীয় এক কেজি পেঁয়াজের দাম পড়ছে ৩৫ টাকা। আগে ছিল ৩০ টাকা।

চিনি বর্তমানে কেজিতে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগে ছিল ৫২ টাকা। এক কেজি আখের গুড় বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। আগে ছিল ৭০ টাকা। বোতলজাত সয়াবিনের দাম না বাড়লেও খোলা সয়াবিনের দাম কেজিতে বেড়েছে ২-৩ টাকা। বর্তমানে এক কেজি খোলা সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ৯২-৯৩ টাকায়।

এক লাফে বেগুনের দাম কেজিতে বেড়েছে ৩০-৫০ টাকা। বর্তমানে এক কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা। আগে ছিল ৫০ টাকা। কেজিতে ধনে পাতা ৪৫ টাকা থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হয়ে আসছিল। কিন্তু রমজানের আগের দিন এক কেজি ধনে পাতার দাম দাঁড়িয়েছে ২০০ টাকা। কাঁচা মরিচ প্রকারভেদে কেজিতে ৪০ টাকা থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কেজিতে পোটলের দাম বেড়েছে ২০ টাকা। আগে ছিল ৪০ টাকা। বর্তমানে কেজিতে পোটল বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। টমেটো কেজিতে বেড়েছে ৪০ টাকা। আগে বিক্রি হয়েছে ২০ টাকা কেজি। বর্তমানে ৬০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে পোটল। শশা কেজিতে ৩০ টাকা বেড়েছে। আগে এক কেজি শশা বিক্রি হয়েছে ৩০ টাকায়। বর্তমানে কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা।

কমেছে লেবুর দাম। এক হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়। আগে ছিল ৬০ টাকা। দাম বাড়েনি করল্লা ও পেঁপের দাম। একদিনের ব্যবধানে খুচরা বাজারে আলুর দাম কেজিতে বেড়েছে ৫ টাকা। বুধবার এক কেজি আলু বিক্রি হয়েছে ১৫ টাকায়। একদিন পরই বৃহস্পতিবার এক কেজি আলু বিক্রি হয়েছে ২০ টাকায়।

গরুর মাংস কেজিতে ৪৫০ টাকা থেকে ৪৬০ টাকা, খাসির মাংস কেজিতে ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগি কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা। আগে ছিল ১২০ টাকা। কক মুরগির দাম কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা। দেশী মুরগি কেজিতে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রমজানের বাজারে মুড়ি ও খেজুরের দামও বেড়েছে। কেজিতে মুড়ির দাম বেড়েছে ১০ টাকা। বর্তমানে মুড়ির দাম কেজিতে পড়ছে ৬০ টাকা। আগে ছিল ৫০ টাকা কেজি।

জনকন্ঠ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.