নদীতে ইলিশ না থাকায় হতাশায় মুন্সীগঞ্জের জেলেরা

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং, শ্রীনগর, টংগীবাড়ি, উপজেলার পদ্মা নদীতে ইলিশ শিকারের নিষেধাজ্ঞা শেষ হয় গত দুই সাপ্তাহ আগে। সরকারের নিতি মালার প্রায় দুই মাস পর গত দুই সপ্তাহ ধরে নদীতে জাল, নৌকা, ট্রলার ও মাছ ধরার বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে নেমে পড়েছেন মুন্সীগঞ্জের প্রায় ৪/৫ হাজার জেলেরা। ইলিশ শিকারের নেশায় পদ্মায় এপার-ওপার দিন-রাত চষে বেড়াচ্ছেন তারা। এত কষ্টের পরও দেখা মিলছে না সখের ইলিশ। তাই হতাশ হয়ে পড়েছেন প্রায় ৫ হাজার জেলেরা।

দীর্ঘ দুই মাস বেকার থাকা পর কাক্ষিত মাছ তেমন একটা না পেয়ে মহাজন, আড়তদারের মোটা অঙ্কের দাদনের টাকা, ধারদেনা এবং এনজিওর ঋণের কিস্তির টাকা পরিশোধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। সাথে পরিবারের খাবারের চিন্তায় চরম হতাশার মধ্যে জীবন কাটাচ্ছেন মুন্সীগঞ্জের জেলেরা।

জেলে সূত্রে জানা গেছে, সুরেশ্বর ও চাঁদপুরের নামা থেকে ভোলা পর্যন্ত ১০ নদী এলাকাকে ইলিশের অভয়াশ্রম ঘোষণা করেন। এ জন্য ওই এলাকায় সব ধরনের জাল ফেলা নিষিদ্ধ করে সরকার। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় স্থানীয় প্রশাসন ১ মার্চ থেকে পদ্মায় সব ধরনের জাল ফেলা বন্ধ করে দেয়।

সরজমিনে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে ২ থেকে ৩টি ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, নদীতে পর্যাপ্ত ইলিশ না পড়ায় মৎস্য ঘাটে হাহাকার। ক্রেতা-বিক্রেতাদের নেই সমাগম। জমে উঠছে না মৎস্যঘাট। বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা আসলেও ইলিশ না ধরা পড়ায় খালি হাতেই ফিরতে হচ্ছে তাদের।

মাওয়া ঘাটে কয়েক জেলেরা বলেন, ১ তারিখ থেকে নদীতে মাছ ধরতে নামছি। প্রতিদিনই আমাগো সাড়ে ৭ হাজার টাকা খরচ হয়। কিন্তু সারাদিন-রাত জাল বাইয়া মাত্র তিন থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকার ইলিশ মাছ পাই। এমনেতেই তো আগের দেনায় জর্জরিত তার ওপর আবার নতুন কইরা দেনায় পড়ছি।

মাওয়া ঘাটের আড়ৎ মালিক হামিদুল ইসলাম বলেন, ‘জেলেরা প্রতিদিন নদীতে গিয়ে পর্যাপ্ত মাছ না পাওয়ায় অনেক লোকসান গুনতে হচ্ছে। মাছ না পাওয়ায় ঘাটে পাইকার আসে না। যদিও আসে আসলে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে অনেক কে। ঘাটও তাই আড়ৎ আগের মতো জমে উঠেনি।

আড়ৎদার চাঁন মিয়া বলেন, এখন নদীতে মাছ না পাওয়ায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য।

এ ব্যাপারে লৌহজং উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন বলেন, এ বছর এখনো বৃষ্টি শুরু না হওয়ায় নদীতে ইলিশ মাছ কম পাওয়া যাচ্ছে। সামনে বৃষ্টিপাত হলে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়বে। তবে আগামী এক সপ্তাহ কিংবা ১০ দিনের মধ্যে ইলিশ না পাওয়া গেলে বুঝতে হবে জলবায়ুগত সমস্যা রয়েছে।

মোঃ রুবেল ইসলাম তাহমিদ
সময়ের কন্ঠস্বর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.