ক্ষমা করিও আমায় – জসীম উদ্দীন দেওয়ান

কতো দামি, মাগো তুমি, দুআনাও নেই আজ।
শান্তি হাহা-দূর দেশেতে, কপাল জুড়ে লাজ।
অনাহারে নিজে থেকে, মোদের মুখে তোলে।
ক্ষুধার জ্বালায় কাতর ছিলে, যেতে সবই ভুলে।
মোদের মুখের হাসির ছায়ায়, তোমার বুকে সুখ।
সেই সুখেতে বিশ্ব সুখি, স্বর্গ অপরূপ!
বিশ্বসেরা তুমি মাগো, অনেক দামি ছিলে।
দিন বদলে সব হারালো, কেন বৃদ্ধা হলে?
বাবা যখন কাজ করেনা, আমরা সংসার চালাই।
সেই শুরু তোমায় জুড়ে, অশান্তির যতো বালাই।
ধীরে ধীরে তোমরা হলে, এই সংসারের বোঝা।
নানান ধারার নানা প্যাঁচে, মনস্তাত্বিক সাজা।

পা ভেঙ্গেছে, হাঁটতে পারনা, চোখে পরেছে ছানি।
নেত্রনালী বন্ধ দুচোখের, গড়িয়ে পড়ে পানি।
সারা দিনমান ইবাদতে মাতো, মোদের কল্যাণ জুড়ে।
তোমাকে দেয়া এতো কষ্ট, কেমনে সড়িয়ে দুরে?
নানা রোগে জড়ানো তুমি, ডাক্তারের কাছে কে নিবে?
সবায় মোরা ব্যস্ত বড্ড, সময় কোথা পাবে?
স্ত্রী, সন্তান বেশ সময় নেয়, বাকিটা খায় কাজে।
তোমার বেলা সময় দিতে, বিরক্ত হই বাজে।
কতো জনা আসছে ঘরে, নতুন নতুন মুখ।
সেই মুখেতে শান্তি জুটে, তোমার বেলা দু:খ।
তাদের লাগি কর্মে ছুটি, কামাই অর্থ কড়ি।
তাঁদের সুখে সাজাই সবটা, নতুন ঘর বাড়ি।
কোথায় রাখবো তোমায় বলো? কোথাও জায়গা নাই!
জায়গা পেলেও, অনুমোদি নেই, পরাজিত আমি তাই।
যে তুমি বুকের ভিতর, মোদের দেতে ঠাঁই।
তোমার লাগি ভাবি আজি, জায়গা কোথা পাই!
কোথা রবে, কোথা শুবে, কোথা কাটাবে দিন?
নষ্টামিতে ভুলে শৈশব, মানিনা কোন ঋন।
এম্নিইতো ধরায় এসেছি, হাঁটতে শিখেছি নিজে!
নিজে খেয়েছি, বড় হয়েছি, এমটাই যাই বুঝে!
পার্থিব মায়া নেশায় ভরা, তুমি সেথা নাই।
তবু তুমি করবে ক্ষমা, নির্লাজ আমি চাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.