গজারিয়া-মুন্সীগঞ্জ ফেরি সার্ভিস উদ্বোধন ৩ জুন

নৌ মন্ত্রণালয়রাজধানীর অদূরে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া-মুন্সীগঞ্জ ফেরিঘাট চালু হবে আগামী রবিবার (০৩ জুন)। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওইদিন সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে বিআইডব্লিউটিএ’র চারটি কাটার সাকশন অ্যাম্ফিবিয়ান (উভচর) ড্রেজার, চারটি মাল্টিপারপাস ইনল্যান্ড কন্টেইনারবাহী জাহাজ উদ্বোধন করবেন।

নৌ-মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম খান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিআইডব্লিউটিএ’র ‘১০টি ড্রেজার সংগ্রহ প্রকল্পের’সাশ্রয়কৃত অর্থ থেকে ২৪ কোটি ০৭ লাখ টাকা ব্যয়ে চারটি (প্রতিটি আট ইঞ্চি পরিমাণ) কাটার সাকশন অ্যাম্ফিবিয়ান ড্রেজার নির্মাণ করা হয়েছে। অ্যাম্ফিবিয়ান ড্রেজার সাধারণত ছোট নদী ও খাল খননের জন্য ব্যবহৃত হয়। যেখানে নাব্যতা সংকটের কারণে বড় ড্রেজার ব্যবহার করা যায় না, সেখানেও এ ধরনের ড্রেজার ব্যবহার করা হয়। বাংলাদেশ নৌবাহনী পরিচালিত ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেডের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ার বায়েক কুন ড্রেজিং কোম্পানি লিমিটেডের শিপইয়ার্ডে এগুলো নির্মিত হয়েছে।

বিআইডব্লিউটিসি জাপানি ঋণ মওকুফ তহবিলের আওতায় ১৫১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে চারটি সেলফ প্রোপেল্ড মাল্টিপারপাস ইনল্যান্ড কন্টেইনারবাহী জাহাজ ‘এমভি উদ্দীপন এক্সপ্রেস’, ‘এমভি উদয়ন এক্সপ্রেস’, ‘এমভি উত্তরণ এক্সপ্রেস’ ও ‘এমভি উন্নয়ন এক্সপ্রেস’ নির্মাণ করেছে। প্রতিটি জাহাজ ১৫৮টি (লোডেড) কন্টেইনার পরিবহন করতে পারবে। জাহাজগুলো ঢাকা-চট্টগ্রাম-ঢাকা এবং ঢাকা-মোংলা-ঢাকা রুটে কন্টেইনার পরিবহন করবে। বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত চিটাগাং ড্রাইডক লিমিটেড এবং খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেডে জাহাজগুলো নির্মিত হয়েছে। জাহাজ ৪টি নৌপথে নিয়মিত কন্টেইনার পরিবহন করলে সড়কপথে কন্টেইনার পরিবহনের চাপ কিছুটা কমবে। এতে পরিবহন ব্যয় সাশ্রয় হবে। এ ছাড়া পরিবেশ বান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

বিআইডব্লিউটিসি নিজস্ব অর্থায়নে দেশের একটি বেসরকারি শিপ বিল্ডার্সে ৯ কোটি ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে ‘স্বর্ণচাপা’ ও ‘সন্ধ্যামালতী’ নামে দু’টি মিনি ইউটিলিটি ফেরি নির্মাণ করেছে।

মুন্সীগঞ্জ-গজারিয়া ফেরিঘাট ও ফেরিসার্ভিস উদ্বোধন করা হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের ২১টি জেলার বিকল্প সংযোগ হিসেবে বিবেচিত হবে। এ রুটের দূরত্ব প্রায় দুই কিলোমিটার এবং ফেরি পারাপারে সময় লাগবে ৩৫ মিনিট। ইতোমধ্যে মুন্সীগঞ্জ ও গজারিয়া ফেরিঘাটে দুটি পল্টুন স্থাপন করা হয়েছে।

বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃক নির্মিত ‘স্বর্ণচাপা’ মিনি ইউটিলিটি টাইপ ফেরির মাধ্যমে মুন্সীগঞ্জ-গজারিয়া ফেরি সার্ভিস চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ রুটে যানবাহন সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে ফেরির সংখ্যাও বৃদ্ধি করা হবে।

গজারিয়ায় ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, বাস্তবায়নাধীন শিল্প পার্ক, গার্মেন্টস ও কয়লা ভিত্তিক বিদ্যৎ উৎপাদন কেন্দ্রের বিষয়গুলোর গুরুত্ব বিবেচনায় ভবিষ্যতের জন্য এ ফেরি সার্ভিস চালু করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে পদ্মা সেতু নির্মিত হলে চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে মোংলা ও পায়রা বন্দরে যোগাযোগের প্রবেশদ্বার হবে গজারিয়া-মুন্সীগঞ্জ নৌ-ফেরি সার্ভিস রুট।

বাংলা ট্রিবিউন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.