গজারিয়ায় চিকিৎসার অভাবে স্বামীকে শিকলে বেঁধেছেন স্ত্রী

গজারিয়া উপজেলার টেংগারচর ইউনিয়নের বিশদ্রোন ভাটেরচর গ্রামের ষাটোর্ধ বৃদ্ধ হাকিম আলী। কয়েক বছর আগেও হাকিম আলী স্বাভাবিক জীবনযাপন করতেন স্ত্রী আর তিন সন্তান নিয়ে। বিয়ে দিয়েছেন বড় মেয়ের। এখন মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে প্রায় পাগল তিনি। শিকলে বাধা পড়েছে তার জীবন।

স্থানীয়রা জানায়, গত কয়েক বছর ধরে শিকলে বাধা তার জীবন। অস্বাভাবিক আচরণের কারণে বাড়ীর আঙ্গিনার এক কোনে খোলা আকাশের নিচে গাছের সঙ্গে বেধে রাখা হয়েছে তাকে। রোধ, বৃষ্টি ঝড় এলেও সেখানেই থাকতে হয় তাকে। চিকিৎসা করাতে পারলে হয়তো ভাল হয়ে যেতেন হাকিম আলী। তবে আর্থিক সঙ্গতি না থাকায় বাধ্য হয়ে স্বামীর হাতে পায়ে শিকল বেঁধেছেন তার স্ত্রী।

হাকিম আলীর স্ত্রী ইয়াসমিন বেগম (৪৫)জানান, সংসার চালাতে বাধ্য হয়ে স্থানীয় বসুন্ধরা টিস্যু পেপার ইন্ডাস্ট্রিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন তিনি। বড় মেয়ে স্বামীর বাড়ীতে থাকেন। আর ছোট এক মেয়ে স্কুলে আর ছেলে মাদ্রাসায় পড়াশুনা করে। পাগলামীর ভয়ে ও বাড়িতে স্বামীকে দেখার মত কেউ নেই। তাই বাধ্য হয়ে স্বামীর হাতপায়ে শিকল পড়িয়ে গাছের সঙ্গে তালা দিয়েছেন তিনি।

মেয়ে হাবীবা আক্তার (১৫) বলেন, বাবার এই অবস্থা দেখে ভীষণ কষ্ট হয় আমার। কিন্তু করার কিছু নেই। বড় হয়ে চাকরি করে চিকিৎসা করিয়ে বাবাকে ভাল করার স্বপ্ন দেখেন তিনি। বাবার হাতপায়ের শিকল খুলে দিতে চান হাকিম আলীর ছয় বছরের ছেলেও।

খবর পেয়ে এই প্রতিবেদক যান হাকিম আলীর সঙ্গে কথা বলতে। সরেজমিনে কথাবার্তায় যথেষ্ট সভ্যও মার্জিত হাকিম আলী। নিজের নাম থেকে শুরু করে বেশ কয়েকটি প্রশ্নের সঠিক জবাব দিলেন তিনি।

তবে প্রতিবেশীরা জানান, বছরের কিছু সময় পাগলামী কমে, আবার মাঝে মধ্যে পাগলামি করেন হাকিম। চিকিৎসা করাতে পারলে হাকিম আলী হয়তো ভাল হয়ে যেতেন হাকিম।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ইউনিয়ন পরিষদ বা স্থানীয় সমাজ সেবা কার্যালয়ের কেউ তার খোঁজ নেয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ঢাকাটাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.