টঙ্গীবাড়ীতে খাসজমির মাটি বিক্রি হচ্ছে ইটভাটায়

টঙ্গীবাড়ী উপজেলার উত্তর রায়পুরা ও দক্ষিণ রায়পুরা গ্রামে সরকারি খাস জমির মাটি বিক্রি। ধলেশ্বরী নদীর দুই পার হতে ভূমিদস্যুরা দীর্ঘদিন ধরে এই মাটি কেটে বিক্রি করলেও প্রশাসন রহস্যজনকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উত্তর রায়পুড়া গ্রাম হতে সরকারি পুকুরের পাড়ের মাটি কেটে বিক্রি করছে আবদুল মতিন। প্রতিদিন প্রায় ১শ’ ট্রাক মাটি কেটে বিক্রি করছে সে। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় ভেকু মেশিন দিয়ে সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত জমির মাটি কেটে ট্রাকে তুলছে শ্রমিকরা পাশেই বসে আছে আঃ মতিন। মাটি কাটার তদারকি করছে সে।

প্রতিদিন ট্রাক যাতায়াতের কারণে বেতকা বাজার হতে রায়পুরা পর্যন্ত রাস্তাটি যান চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। কাঁচা রাস্তায় মাটি ভর্তি ট্রাক যাতায়াতের কারণে ওই রাস্তায় গভীর খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে একটু বৃষ্টিতেই রাস্তার গর্তগুলো পানিতে ভরে গিয়ে কাদার সৃষ্টি করছে। ফলে ওই অঞ্চলের লোকজন ওই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে পারছে না। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে ওই এলাকাবাসী। কিন্তু কোটিপতি এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুলে কথা বলার সাহস পাচ্ছে না। এ ব্যাপারে আবদুল মতিন জানান, আমি ব্যক্তিগত জমির মাটি কেটে বিক্রি করছি কোনো সরকারি জমির মাটি বিক্রি করছি না। রাস্তার ক্ষতির ব্যাপারে সে জানায়, আমি রাস্তার মধ্যে ইট ফেলে সংস্কার করে তারপর ট্রাক দিয়ে মাটি নিচ্ছি।

এদিকে ধলেশ্বরী নদীর দক্ষিণ পার হতে সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত জমির মাটি কেটে বিক্রি করছে আবুল কাশেম দেওয়ানের ছেলে কামাল। সে তার আপন চাচা আইয়ুব আলী দেওয়ানের ছেলে সোহেলকে দিয়ে ইটভাটায় এই সব মাটি বিক্রি করছেন। ওই সিন্ডিকেটের সরকারি খাসজমির মাটি কেটে বিক্রির সঙ্গে জড়িতরা হল ওই এলাকার রসিদ খান, রফিজ খান। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় প্রতিদিন ধলেশ্বরী নদীতে ২০-২৫টি ট্রলার রেখে তার মধ্যে মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে নদী তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন বৃদ্ধি পেয়েছে। ভূমিদস্যুর ওই সব স্থান হতে দীর্ঘদিন ধরে মাটি কেটে বিক্রি করছে। এ ব্যাপারে সোহেল জানায়, আমরা আমাদের জমি হতে মাটি বিক্রি করছি এটা আমাদের নিজস্ব সম্পত্তি। এ ব্যাপারে টঙ্গীবাড়ী সহকারী কমিশনার ভূমি কাবিরুল ইসলাম জানান, কতিপয় মাটি বিক্রেতাদের আমি কাগজপত্র নিয়ে অফিসে আসতে বলছি কিন্তু তারা আসে নাই। অবৈধভাবে যারা মাটি বিক্রি করছে খোঁজ নিয়ে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

যুগান্তর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.