সিসি ক্যামেরার ফুটেজেও শনাক্ত হয়নি ঘাতকরা

মুক্তমনা লেখক ও প্রকাশক শাহজাহান বাচ্চুকে গুলি করে হত্যার পর চার ঘাতক দুই মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়। তবে সড়কপথের তিনটি স্থানে থাকা সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহের পর তা পর্যবেক্ষণ করেও কোনো তথ্য-উপাত্ত পায়নি পুলিশ।

সিরাজদীখান থানার ওসি (তদন্ত) মো. হেলালউদ্দিন জানিয়েছেন, কাকালদী তিন রাস্তার মোড থেকে তালতলা বাজারের অদূরে মালখানগর হাই স্কুলের অদূরে টোবাকো কোম্পানির সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ, তালতলা-সিরাজদীখান সড়কের রাজদিয়া এলাকার খন্দকার ভিলায় থাকা সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ এবং একই এলাকার অপর একটি ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। এই তিন স্থানের ভিডিও ফুটেজ যাচাই করেও হেলমেট পরিহিত চার ঘাতক মোটরসাইকেলে চড়ে আত্মগোপনের চলে যাওয়ার কোনো ভিডিও চিত্র খুঁজে পাওয়া যায়নি।

হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী সিরাজদীখান থানার এএসআই মো. মাসুম সমকালকে বলেন, অপারেশন শেষ করার পরই আমাকে দেখে ঘাতকরা গুলি করার চেষ্টা চালায়। এ সময় তারা মোটরসাইকেলে করে দ্রুত তালতলা-মালখানগর ও সিরাজদীখান-রাজদিয়া সড়ক ধরে আত্মগোপনে চলে যায়। তিনি আরও জানান, ঘাতকরা কোন পথ ব্যবহার করে পালিয়েছে, তা নিশ্চিত হতে সড়ক সংলগ্ন বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাজার ও বাসাবাড়ির লোকজনকে দুটি মোটরসাইকেলে হেলমেট পরা চার যুবককে কেউ যেতে দেখেছে কি-না, জানার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সবাই ইফতার নিয়ে ব্যস্ত ছিল বলে কেউই পুলিশকে কোনো তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সহযোগিতা করতে পারেনি।

পুলিশ জানায়, ঘাতকদের পালিয়ে যাওয়ার তিনটি রাস্তা শনাক্ত করা হয়েছে। এ তিনটি সড়কের যে কোনো একটি সড়কপথেই তারা আত্মগোপনে চলে যেতে পেরেছে। এর মধ্যে একটি হলো কাকালদী-মালখানগর-তালতলা সড়ক, দ্বিতীয়টি মালখানগর ব্রিজ হয়ে সিরাজদীখান-নিমতলা সড়ক এবং তৃতীয়টি হচ্ছে একই সড়কের রাজদিয়া এলাকা অতিক্রম করার পর সিরাজদীখান থানা সংলগ্ন সন্তোষপাড়া এলাকার আগে উত্তর দিকে যাওয়া লতব্দী-বালুরচর সড়ক। অনুসন্ধান ও পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এই তিনটি সড়কপথ ছাড়া ঘাতকদের মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার আর কোনো পথ নেই।

পুলিশ ও স্থানীয় এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দিনের বেলায় এমনিতেই মালখানগর ব্রিজ হয়ে সিরাজদীখান-নিমতলা সড়কটি নিরিবিলি থাকে। আর এ সড়কপথ দিয়ে তৃতীয় সড়ক লতব্দী-বালুরচর সড়ক হয়ে ঢাকার বুড়িগঙ্গা সেতু সংলগ্ন এলাকা দিয়ে যাওয়ার পথ রয়েছে। তাই তাদের ধারণা, ইফতারের আগমুহূর্ত শাহজাহান বাচ্চুকে গুলি করে হত্যার পর নীরব থাকা তৃতীয় সড়কপথ ব্যবহার করেই ঘাতকরা পালিয়ে থাকতে পারে। পুলিশের একাধিক সূত্রমতে, হত্যাকাণ্ডের আগেই ঘাতকরা কোন পথ দিয়ে কাকালদী যাবে এবং কোন পথ ব্যবহার করে পালাবে, তা রেকি করে রেখেছিল। তাই সহজেই তারা পালিয়ে যেতে পেরেছে।

অপর একটি সূত্রমতে, প্রথম সড়ক- কাকালদী-মালখানগর-তালতলা সড়ক ব্যবহার করলে এর পরই ধলেশ্বরী নদী। তাই মোটরসাইকেলে তালতলা বাজার পর্যন্ত যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে ঘাতকরা আগে থেকেই যদি সেখানে অপর সহযোগীদের মাধ্যমে ইঞ্জিনচালিত কোনো ট্রলার বা দ্রুতগামী নৌযান প্রস্তুুত রেখে থাকে, তাহলে নদীপথেও পালিয়ে টঙ্গিবাড়ীর বেতকা, আবদুল্লাপুর ও কাঠপট্টি লঞ্চঘাটের অদূরে বুড়িগঙ্গা নদীপথ ব্যবহার করে পঞ্চবটী বা ফতুল্লার যে কোনো সড়কপথ দিয়ে চলে যেতে পারে।

সমকাল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.