সিরাজদিখান থানা পুলিশ দিয়ে হয়রানীর অভিযোগ করেছেন ডাবলুর সমর্থক মামুন

সিরাজদিখান থানা পুলিশ দিয়ে হয়রানীর অভিযোগ করেছেন ডাবলুর সমর্থক মামুন। অভিযোগ থেকে জানা যায়, মামুন স্পেন থেকে দেশে আসার পর থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহম্মেদ বিভিন্নভাবে পুলিশ দিয়ে হয়রানী করে আসছে। সর্বশেষ ১৭ জুন রবিবার বিকাল ৫টায় মামুনের বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়ে মামলা, গ্রেফতার এবং ক্রসফায়ারের হুমকি প্রদানের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মামুন গোড়াপি পাড়ার সালাউদ্দিন আহম্মেদের ছেলে। সে উপজেলা চেয়ারম্যান মহিউদ্দিনের সম্পর্কে ভাতিজা। চচার পক্ষে নির্বাচন না করায় এমন হয়রানী করা হচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মামুন আগামী জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য বদিউজ্জামান ডাবলু ভুইয়ার পক্ষে নির্বাচনের প্রচার প্রসারে ভূমিকা রেখে আসছেন। এই সূত্র ধরে ৪জন থানা পুলিশ সিভিলে তার বাসায় (১৭ জুন রবিবার বিকাল ৫টায়) যায়। তারা সিরাজদিখান থানার ওসি সাহেব তাকে দেখা করতে বলছে বলে জানায়। পরে ওসি একজন দারোগার ফোনে আলাপকালে মামুনকে বলেন, আপনি রাজনীতি করেন বুঝেন না? কেন এগুলো হচ্ছে? আপনার বিরুদ্ধে একটি ছোট মামলা দিয়ে কোর্টে চালান করে দেই সেখান থেকে থেকে জামিন নিয়ে আসবেন। অন্যথায় আপনি এলাকা ছেড়ে দিন। আপনি রাজনীতি ছেড়ে দিলে আর কোন সমস্যা হবে না।

অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয় মামুনের মা নাজমা বেগম উপজেলা চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন সাহেবের স্ত্রী সানজিদা বেগমের সাথে মালখানগর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে। সেই শত্রুতার জের ধরে মামুন ও তার মাকে পুলিশ দিয়ে বিভিন্নভাবে হয়রানী করে আসছে উপজেলা চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহম্মেদ। এমনকি পুলিশ দিয়ে মামুনকে ক্রসফায়ারেরও হুমকি প্রদান করা হয়েছে।

অভিযোগে এমনও অভিযোগ পাওয়া গেছে যে, মামুনের মা নাজমা বেগম বিষয়টি নিয়ে থানায় গেলে বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদান করেন থানার ওসি সাহেব। এক পর্যায় ওসি তার মাকে হুমকি দিয়ে বলেন, এলাকায় থাকতে হলে মহিউদ্দিন সাহেবের পক্ষে নির্বাচন করতে বলেন আপনার ছেলেকে। অন্যথায় ক্রস ফায়ারে দিয়ে দেয়া হবে। ওসি সাহেব আরো বলেছেন মামলা দিয়ে কিভাবে সিস্টেম করে ক্রসফায়ার দিতে হয় তা আমাদের জানা আছে।

এ বিষয়ে ডা. বদিউজ্জামান ডাবলু জানান, মামুন আমার পক্ষে কোন নির্বাচনী কাজ করে না। রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার জন্যই সে আমার কথা বলছে। তার সাথে মহিউদ্দিন আহম্মেদের সাথে তার পারিবারিক দ্বন্ধের কারণেই ঘটনা ঘটছে।

এ বিষয়ে সিরাজদিখান উপজেলা চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহম্মেদ জানান, ইয়াবা অস্ত্রসহ ৬/৭টি মামলার আসামী মামুন। স্পেনেও ১বছর জেল খেটেছে। তার মার সাথে আমার স্ত্রী নির্বাচন করেছে ২বছর হয়েছে। মামলা হয়েছে ৭/৮বছর পূর্বে। ডাবলুর সমর্থন করেছে কয়েকদিন যাবৎ। এমন একজন জঘন্য লোকের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।

এ বিষয়ে সিরাজদিখান থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল কালাম জানান, চাঁদাবাজীর মামলার প্রধান আসামী মামুন। সেই মামলায় তাকে গ্রেফতার করার জন্যই তার বাড়িতে পুলিশ গিয়েছিল, হয়রানীর জন্য নয়। মামুনের বিরুদ্ধে ৮টি মামলা রয়েছে। সিরাজদিখান উপজেলায় হঠাৎ করে এসে বিভিন্ন অকারেন্স করে চলে যায়। ৮মামলার আসামী কিভাবে মুন্সীগঞ্জ গিয়ে এসপি অফিসে অভিযোগ দেয়? রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বিভিন্ন অপরাধ করার পায়তারা করছে সে।

মুন্সিগঞ্জ ক্রাইম টিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.