মোল্লাকান্দিতে জোর করে মহিলাকে নগ্ন করে ছবি তুলে মোবাইলে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ!

অভিযুক্তদের খুঁটির জোর কোথায়?
জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার চর বেশনাল গ্রামে এক মহিলাকে নগ্ন করে ছবি তুলে মোবাইলে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে ওই মহিলার পরিবারের কাছ হতে ৫০ হাজার টাকা জোর করে আদায় করে ওই এলাকার কতিপয় বখাটে যুবক।

এ ঘটনায় ওই মহিলার পরিবারকে বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রেখেছে দূর্বত্তরা। জানা গেছে, সদর উপজেলার মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের চর-বেশনাল গ্রামের মনিরুদ্দিন দেওয়ান এর মেয়ে দুই সন্তানের জননীকে শনিবার রাত ১০টার দিকে নগ্ন করে মোবাইলে ছবি তুলে ওই এলাকার আব্দুল দেওয়ান, জাকির দেওয়ান, আরিফ, আইজউদ্দিন, ফরিদ দেওয়ান, হৃদয়,আলামিন, বাবু, জাকির, আকাশ, খোরশেদসহ ১৫-২০জন।

পরে ভূক্তভোগী পরিবারটির কাছ হতে জোর করে ৫০ হাজার টাকা আদায় করে নেয় তারা। মনিরুদ্দিনের স্ত্রী ফেকুনা বেগম জানান, জমি নিয়ে আমার প্রতিবেশী আব্দুল দেওয়ান এর সাথে বিরোধ চলে আসছে। আমার বড় মেয়ে দুই সন্তানের জননী ঈদ উপলক্ষে আমার বাসায় বেড়াতে আসে।

পরে আমার মেঝ মেয়ের দেবর মালয়শিয়া প্রবাসী ফরহাদকে শনিবার রাতে আমাদের বাড়িতে পানি তোলার পাম্পের বিদ্যুৎ সংযোগে গোলযোগ হলে আমি তাকে ফোন করে বাড়িতে আনি।

আমি আমার মেয়ে, ফরহাদসহ পরিবারের সবাই রাত সাড়ে ৯টার দিকে এক ঘরে বসে কথা বলছিলাম। এ সময় ওরা আমার ঘরে প্রবেশ করে ফরহাদকে মেরে গুরুতর আহত করে এবং আমার বড় মেয়ের জামাকাপড় টেনে হিচরে খুলে ফেলে ছবি তুলে।

এ সময় সময় তারা বলে তোর বড় মেয়ে এবং ফরহাদকে একসাথে পেয়েছি বাঁচতে হলে টাকা দে বলে আমার পরিবারের সবাইকে মারধর শুরু করে এবং আমার ছোট মেয়ে নবম শ্রেণির ছাত্রীকে নগ্ন করার চেষ্টা করে।

পরে আমি বাধ্য হয়ে খোরশেদ দেওয়ান এর কাছে ৫০ হাজার টাকা দিলে তারা টাকা নিয়ে চলে যায়। ঘটনার পর দিন হতে আমার মেয়ের নগ্ন করা ছবি এলাকার বিভিন্ন মানুষকে দেখায় এবং বিভিন্ন মোবাইলে ছড়িয়ে দেয় এবং আমাকে বাড়িতে আটকিয়ে রাখে।

খবর পেয়ে স্থানীয় মেম্বার স্বপন দেওয়ান সোমবার দুপুরে আমাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসে। আমি এখন বাড়িতে যেতে পারছিনা ওরা আমাকে হুমকি ধামকি দিচ্ছে। সরেজমিনে মঙ্গলবার বিকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় দূর্বত্তরা ঘটনাস্থলের পাশে ঘোরাফেরা করে আতঙ্কের সৃষ্টি করছে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত বাবু এবং আকাশের সাথে কথা হলে তারা বলে দু-জন অসামাজিক কাজ করার সময় আমরা তাদের আটক করি এবং তাদের ছবি তুলি। ছবি দেখতে চাইলে তারা মোবাইল হতে ছবি বের করে দেখায় এবং মারধর করার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন ওদের একবারে না মেরে কিছু উত্তম মাধ্যম দিয়েছি।

পরে ঘটনাস্থল হতে সাংবাদিকরা চলে আসলে অভিযুক্ত আরিফ, হানিফ ভূক্তভোগী পরিবারের সুজনকে (১৫) মারধর করে মোবাইল ও স্বর্নের চেইন, ঘড়ি ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য স্বপন দেওয়ান জানান, ওরা খুব একটা জঘন্যতম ঘটনা ঘটিয়েছে টাকা নেওয়ার বিষয়টি খোরশেদ আমার কাছে স্বীকার করেছে যার মোবাইল রেকর্ড আমার কাছে আছে। এ ব্যাপারে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

মুন্সিগঞ্জ নিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.