মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর সোসাইটির ঈদ পুনর্মিলনী ২০১৮

রাহমান মনি: প্রতি বছরের মতো এবারও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং বিপুলসংখ্যক প্রবাসী এবং স্থানীয় জাপানি নাগরিকদের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আনন্দঘন পরিবেশে মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর সোসাইটি জাপান’র ঈদ পুনর্মিলনী ২০১৮ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর সোসাইটি’র যে কোনো আয়োজনেই জাপান প্রবাসীদের মধ্যে একধরনের উৎসাহ-উদ্দীপনা সবসময় কাজ করে থাকে, তার অন্যতম কারণ ১৯৯৬ সালে জাপানে বাংলাদেশ সোসাইটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে জাপান প্রবাসীদের একত্র করে সমষ্টিগত আয়োজন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ২০০৭ সালে মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর সোসাইটি জাপান আত্মপ্রকাশ করে প্রতি বছর দল, মত, ধর্ম, বর্ণ, আঞ্চলিকতা নির্বিশেষে জাপান প্রবাসীদের একত্র করে বিভিন্ন আয়োজন করে আসছে। অর্থাৎ মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর সোসাইটি জাপান, জাপানে বাংলাদেশ সোসাইটির বিকল্প ভূমিকা পালন করে আসছে।

৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ রোববার টোকিওর ইতাবাশি সিটি অইয়ামা বুনকা কাইকান-এ ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান ‘ঈদ আনন্দ ২০১৮’ অনুষ্ঠিত হয়। সান্ধ্যকালীন এ আয়োজনে প্রতিবছরের মতো এবারও প্রবাসীদের ঢল নেমেছিল। আর ঢল নামবেই না বা কেন, মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর সোসাইটি জাপানের আয়োজন মানেই একটু ভিন্নতা, জাতি, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেণির লোকের অংশগ্রহণে এলাহী এক কাণ্ড! পূর্ব রাত থেকেই এর প্রস্তুতিপর্ব শুরু হয়ে যায়।

জাপান প্রবাসীদের আনন্দে অংশ নিয়েছিলেন বাংলাদেশ দূতাবাসের ইকোনমিক মিনিস্টার ড. সাহিদা আক্তারের নেতৃত্বে দূতাবাস কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।
খন্দকার আসলাম হিরার পরিচালনায় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এমডি এস. ইসলাম নান্নু স্বাগতিক বক্তব্যে অতিথিদের স্বাগত ও শুভেচ্ছা জানিয়ে সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।

শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন এ.পি.এফ.এস-এর প্রতিষ্ঠাতা কাতসুও ইয়োশিনারি, রিক্কিও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মিযুকামি, অধ্যাপক ওয়াতাদো, জাপানে মোবাইল মসজিদ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইয়াসু প্রোজেক্ট নির্বাহী কর্মকর্তা জুনিয়া ইমামুরা এবং মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর সোসাইটি জাপানের সভাপতি বাদল চাকলাদার।

শুভেচ্ছা বক্তব্যে ইয়োশিনারি, অধ্যাপক মিযুকামি এবং অধ্যাপক ওয়াতাদো বলেন, রিক্কিও বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণা কাজে মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর গিয়েছিলাম। সেখানকার খাল বিল, নদী নালা, সবুজ শ্যামল প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ইতিহাস, সংস্কৃতি ঐতিহ্য আমাদের মুগ্ধ করেছে। বিক্রমপুরের মানুষের আতিথেয়তা যারা গ্রহণ করেননি তাদের বলে বুঝানো যাবে না। সব মিলিয়ে বিক্রমপুর অনন্য। জাপানেও আমরা তাই দেখছি প্রতি বছর।

এছাড়াও প্রবাসীদের দ্বারা পরিচালিত জাপানস্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ব্যবসায়ী, ধর্মীয় ও আঞ্চলিক সংগঠনসমূহের নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ তাদের অনুভূতি জানিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।

২০০৭ সালে মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর সোসাইটি জাপান নিয়মিতভাবে কোরবানির ঈদ অর্থাৎ ঈদুল আজহার পর সকলের জন্য উন্মুক্ত রেখে করে আসছে।

মূলত পবিত্র ঈদুল আজহার মাহাত্ম্য সকলের সঙ্গে সমান ভাগে ভাগ করে নেয়ার জন্য মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর সোসাইটি জাপান কোরবানির মাংসে আপ্যায়নের মাধ্যমে সমস্ত জাপান প্রবাসীকে একত্রিত করে বিভিন্ন বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ‘ঈদ আনন্দ’ নামে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নজির চিরাচরিত আবহমান কালের বাংলাদেশের উৎসবের আমেজে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি সম্মান জানিয়ে আপ্যায়নের ম্যানুতেও বৈচিত্র্য রাখা সংগঠনটির অনন্য বৈশিষ্ট্য। এবছরও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি।

তাইতো মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর সোসাইটির ঈদ আনন্দ অনুষ্ঠানে সকল ধর্মের সকল বর্ণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ থেকে থাকে। অংশ নিয়ে থাকেন বিপুল সংখ্যক জাপানিসহ অনেক ভিনদেশি নাগরিকবৃন্দ।

rahmanmoni@kym.biglobe.ne.jp

সাপ্তাহিক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.