মুন্সীগঞ্জ-২: মনোনয়ন দৌঁড়ে বড় তিনটি দলেই রয়েছে একাধিক প্রার্থী।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জের নির্বাচনী প্রস্তুতী নিয়ে মুন্সীগঞ্জ 24 ডট কমে ধারাবাহিক প্রতিবেদনে আজ প্রকাশিত হচ্ছে মুন্সীগঞ্জ -দুই আসনের নির্বাচন ভাবনা

তবে লড়াইটা হবে আওয়ামী লীগও বিএনপির মধ্যে
জসীম উদ্দীন দেওয়ান: লৌহজং ও টংগিবাড়ি উপজেলা দুটি নিয়ে গঠিত মুন্সীগঞ্জ দুই আসন। দীর্ঘ দিন বিএনপির দখলে থাকা মুন্সীগঞ্জ এই আসনটি ২০০৮ সালে হাত ছাড়া হয়ে চলে যায় আওয়ামী লীগের দখলে। ৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত টানা তিন বারই এই আসনে জিতেছে বিএনপি প্রার্থীরা। ২০০৮ সালে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী সাবেক স্বাস্থ্য প্রতি মন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহাকে ২০ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে জয়ী হন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সাগুফতা ইয়াছমিন এমিলি। আর ২০১৪ সালে বিএনপি বিহীন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এর বিদ্রোহী প্রার্থী মাহবুব রহমান বীর বিক্রমকে প্রায় ৫০ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয় বারের মতো বিজয়ী হন সাগুফতা ইয়াছমিন এমিলি। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ থেকে এবারও মনোনয়ন পেতে চায় বর্তমান সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগ এর সিনিয়র সহ-সভাপতি সাগুফতা ইয়াছমিন এমিলি।

তবে তাঁর মনোনয়ন পেতে সব চেয়ে বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সরকারের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা (এটর্নি জেনারেল) মাহবুবে আলম। বছর খানেক ধরে তিনি এই অঞ্চলে বিভিন্ন কর্মসূচি করে তাঁর মনোনয়ন প্রত্যাশার বিষয়টি জানান দেন। এই দুই নেতাকে কেন্দ্র করে উপজেলা দুটির আওয়ামীলীগ নেতা কর্মীরা দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। এই দুজন ছাড়াও এবার আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেতে চায় জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব লুৎফর রহমান, জেলা প্রচার প্রকাশনা সম্পাদক ও টংগিবাড়ি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার কাজি ওয়াহিদ এবং লৌহজং উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব রশিদ শিকদার। পক্ষান্তরে প্রচার প্রচারনায় তেমন ভাবে মাঠে না থাকলেও এই আসন থেকে বিএনপির টিকেট পেতে কেন্দ্রে লবিং করে যাচ্ছেন, সাবেক প্রতিমন্ত্রী এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির কোষাধ্যক্ষ মিজানুর রহমান সিনহা, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বিশেষ সম্পাদক আাসাদুজ্জামান রিপন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ- সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. আব্দুল সালাম আজাদ এবং জেলা বিএনপির সহ- সভাপতি, আলী আজগর রিপন মল্লিক। জাতীয় পার্টি থেকেও এই আসনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন একাধিক প্রার্থী।

কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নোমান মিয়া, সাবেক সংসদ সদস্য জামাল হোসেন এবং জেলা কমিটির সভাপতি কত্বুব উদ্দিন আহমেদ মনোনয়ন চাইবেন বলে জানান। দলীয় মনোনয়ন পাবার ব্যাপারে সাগুফতা ইয়াছমিন এমিলি বলেন, আওয়ামীলীগ এর সুখে- দুখে তিনি সব সময় পাশে থাকেন, এলাকার উন্নয়নের পাশাপাশি স্থানীয় নেতা কর্মী ও জনগনের সাথে তাঁর অবিচ্ছন্ন যেগাযোগ রয়েছে। এসব কথা বিচেনা করে দল তাঁকে এবারও মনোনয়ন দিবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। আর এটর্নি জেনারেল বলেন, সৎ, যোগ্য ও দলের জন্য একনিষ্ট ও পরীক্ষিত লোককেই দল টিকেট দিবে। সেক্ষেত্রে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে এই আসনে তিনি মনোনয়ন পাবেন বলে আশাবাদ তার্ঁ। আলহাজ্ব লুৎফর রহমান জানান, বর্তমান সাংসদ ও এটর্নি জেনারেল এর বিভেদে দল দুটি অংশে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। দলকে এখন ঐক্যে এনে জয় ধরে রাখতে তাঁর কোন বিকল্প নেই।

তাই আগামী নির্বাচনে দল তাঁকেই মনোনয়ন দিবে বলে মনে করেন তিনি। এদিকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন দৌঁড়ে এগিয়ে আছে মিজানুর রহমান সিনহা ্এবং আসাদুজ্জামান রিপন। মিজানুর রহমান সিনহা নির্বাচনে এলে নিজে সড়ে যেয়ে সিনহাকে স্বাগত জানাবেন বলে জানান, আসাদুজ্জামান রিপন। আর মাঠে না থাকার ব্যাপারে জানতে চাইলে মিজানুর রহমান সিনহা বলেন, সরকারের নানা চাপে তারা মাঠে থাকতে পারছেনা এটা জনগন ভালো ভাবেই জানেন। তাই জনগন ভোট দিবার সুযোগ পেলে তাদের জয় ঠেকিয়ে রাখা যাবেনা বলে মনে করেন তিনি। আর জাতীয় পার্টির নেতারা বলেন, বিএনপি নির্বাচনে এলে আওয়ামী লীগ এর সাথে জোটবন্ধভাবে নির্বাচনে যাবে তারা। সে ক্ষেত্রে সার্বিক বিবেচনায় যে মনোনয়ন পায় তাঁর জন্যই কাজ করে যেতে প্রস্তুত রয়েছেন তাঁরা। মুন্সীগঞ্জ দুই আসনে ২৩টি ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা রয়েছে ৩,০৫৮২২ জন। যেখানে পুরুষ ভোটার ১৫৭৭৬২ জন আর ১৪৮০৬০ জন রয়েছে মহিলা ভোটার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.