‘কাফনের কাপড় পেয়েছি, মৃত্যুর হুমকি পেয়েছি’: মুন্সীগঞ্জে অ্যাটর্নি জেনারেল

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, বঙ্গবন্ধু কতগুলো স্বপ্ন দেখেছিলেন। সংবিধানে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার জন্য আইন করে গিয়েছিলেন। কিন্তু বিচার করে যেতে পারেন নাই। বঙ্গবন্ধু কন্যা তাদের বিচার করার ব্যবস্থা করেন। আরেকটি স্বপ্ন বঙ্গবন্ধু দেখেছিলেন। ভারতের সাথে ছিটমহল নিয়ে সমস্যা ছিল। কিন্তু ৭৫ সালে তিনি (বঙ্গবন্ধু) চলে গেলেন। তাই তিনি সে স্বপ্ন পূরণ করতে পারেন নি। শেখ হাসিনা সে স্বপ্ন পূরণ করলেন।

তিনি বলেন, ‘আমি কাফনের কাপড় পেয়েছি, মৃত্যুর হুমকি পেয়েছি, সস্তান নাতিদের হত্যার হুমকি পেয়েছি। কিন্তু আমিতো যুদ্ধাপরাধের বিচার থেকে থামিনি।’

শনিবার (২০ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ি উপজেলার বেতকা চৌরাস্তায় এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, বঙ্গবন্ধুর আরেকটি স্বপ্ন ছিল আমরা মহাকাশে যাব। কিন্তু, তিনি জীবিত থাকতে কক্ষপথে কোন উপগ্রহ পাঠাতে পারেন নাই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেটা করে দেখিয়েছেন।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর কন্যা একটার পর একটা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করছেন। এটা একটা অবাক করা ব্যাপার। বিশ্ব ব্যাংকের বিরোধিতা সত্ত্বেও পদ্মা সেতু তৈরি হচ্ছে। বিদ্যুতের সমস্যা দূর হয়েছে। ঘরে ঘরে বিদ্যুতের কথা আমরা ভাবতেও পারতাম না। মুক্তিযোদ্ধাদের পাঁচ হাজার টাকা ভাতা তিনিই চালু করেন। শিল্পী কলা কুশলীসহ অনেককে তিনি রাষ্ট্রীয় সাহায্য করেছেন।

স্থানীয় সংসদ সদস্যকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, আজ থেকে ৩-৪ বছর আগে আমি যখন নির্বাচনে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলাম তখন প্রথমে কিছু ইউনিয়নে কম্বল বিতরণ শুরু করলাম। কিন্তু চেয়ারম্যানদের ভয়ভীতি দেখানো হয়। স্কুল কলেজে বঙ্গবন্ধু আত্মজীবনী বই বিতরণ শুরু করলাম কিন্তু, স্কুল বন্ধ করে বা ছুটি দেওয়া হল।

আমি আওয়ামী লীগ অফিসে কিছু টাকা দিতে চাইলাম। কিন্তু আমাকে অপমান করা হল। টাকা নিল না। আমি নাকি আওয়ামী লীগের না। আমি যদি আওয়ামী লীগ না হই তাহলে সরকার কি আমাকে ১০ বছর অ্যাটর্নি জেনারেলের পদে রেখেছে? পরে আমি পাঁচ লাখ টাকা খরচ করে গনভোজ করলাম।

তিনি বলেন, এভাবে প্রত্যেক অনুষ্ঠানে তারা বাধা সৃষ্টি করছে। সবশেষে আমি স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য জাতীয় সংগীত প্রতিযোগীতার আয়োজন করলাম। কিন্তু স্কুলের হেড মাস্টারদের বলা হল তারা যেন ঐ প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের না পাঠায়।

তিনি বলেন, এভাবে বারে বারে আমাকে বাধা দেয়া হচ্ছে। স্থানীয় নেতারা যারা আমার সাথে আছে তারা নাকি সবাই খারাপ মানুষ। কিন্তু ওনাদের সাথে থাকলে সেই নেতারা ভাল মানুষ।

স্থানীয় সংসদ সদস্য সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলিকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, নির্বাচন উনিও করতে চান, আমিও করতে চাই। কিন্তু আমিতো তার কোন কাজে বাধা সৃষ্টি করিনি। টঙ্গিবাড়ির ৭৫ ভাগ নেতাকর্মী আমার সাথে আছেন। আর লৌহজং এ প্রায় ৫০ ভাগ নেতাকর্মী আমার সাথে আছেন। আমি দলের ঐক্যকে জোর দেই বেশি। তৃণমূলের নেতাদের সাথে গোমস্তার মত আচরণ করলে হবে না। তারা দলের শেকড়। নতুন আওয়ামী লীগের নেতারা হচ্ছে পাতার মত। তারা ঝড়ে যাবে। শেকড় ঝড়বে না। আমি নির্বাচিত হলে তাদের মূল্যায়ণ করব।

এস এম মোস্তাফিজুর রহমান জলিলের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন টঙ্গিবাড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জগলুল হালদার ভুতু, ঢাকা মেডিকেল কলেজ শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ডা: মো. আবু ইউসুফ ফকির,সোনারং টঙ্গীবাড়ি ইউনিয়নের সিনিয়র যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক স্বপন মাঝি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান ভুইয়া প্রমুখ।

স্থানীয় সংসদ সদস্য সাগুফতা ইয়াসমিনের সম্পর্কে অনেক কথা আমাকে স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলেছে যা আমি বলতে চাইনা, উল্লেখ্য করে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, তারা আমাকে নির্বাচনে দাঁড়াতে বলেছিল। কিন্তু, তখন আমি সরকারি গুরুত্বপূর্ণ মামলা নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। তাই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চাইনি।

আড়িয়ল বিলে বিমানবন্দর নির্মাণ প্রসঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এখানে যখন বিমানবন্দর নির্মাণের বিরোধিতা জনগন করেছিল তখন, আমার মনে হয়, জনগনকে বোঝানো উচিত ছিল। কিন্তু, স্থানীয় নেতারা সেটা করেনি। আমার মনে হয় আড়িয়ল বিলে বিমানবন্দর নির্মাণ করার সুযোগ আছে। জনগনকে বোঝালে জনগন বুঝবে। আমি নির্বাচনে জয়লাভ করলে এগুলো নিয়ে কাজ করব। আমাদের এখন দুটো সমস্যা, মাদক ও নদী ভাঙ্গন। এগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

বিডি২৪লাইভ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.