যুবদল নেতার অব্যাহতি নিয়ে মুন্সীগঞ্জে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম মোল্লাকে তার পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে মুন্সীগঞ্জ জেলায়। অব্যাহতির বিষয়টি নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে দলীয় কর্মী-সমর্থকরা ফেসবুকে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় তুলেছেন।

গত ২৩ অক্টোবর কেন্দ্রীয় যুবদলের ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক কামরুজ্জামান দুলাল স্বাক্ষরিত দলীয় প্যাডে জেলা নবগঠিত জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম মোল্লাকে তার পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতির চিঠি প্রদান করেন। জেলা বিএনপির দলীয় কোন্দল ও গ্রুপিংয়ের শিকার হয়ে সালাম মোল্লাকে তার পদ হারাতে হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে, গত ১৩ই জুন মুন্সীগঞ্জ শহরের সুলতান আহমেদকে সভাপতি ও লৌহজং উপজেলার আব্দুস সালাম মোল্লাকে সাধারণ সম্পাদক হয়েছে জেলা যুবদলের সাত সদস্যের কমিটির অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় যুবদল। এরমধ্যে সালাম মোল্লা জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাই এবং সুলতান আহমেদ কেন্দ্রীয় বিএনপির কোষাধ্যক্ষ মিজানুর রহমান সিনহা ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান গ্রুপের অনুসারি। মিজানুর রহমান সিনহার সাথে মিল না থাকায় সালাম মোল্লাকে তার পদ হারাতে হয়েছে সালাম মোল্লা সমর্থকদের দাবি।

চিঠিতে বলা হয়েছে, মুন্সীগঞ্জ জেলার শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি হওয়ার পর থেকে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে প্রতীয়মান হচ্ছে যে, আপনি কেন্দ্রীয় নির্দেশনা ও আপনার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে দায়িত্বশীল নন, যা সংগঠনের শৃঙ্খলাবিরোধী কাজ হিসেবে গণ্য। এমতাবস্থায় আপনাকে আপনার বর্তমান পদ মুন্সীগঞ্জ জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেয়া হলো কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের আদেশক্রমে।

আব্দুস সালাম মোল্লা জানান, তিনি ছাত্রদল থেকে ইউনিয়ন, উপজেলা যুবদল করে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। এটা মিজানুর রহমান সিনহা মেনে নিতে পারেননি। অন্যায়ভাবে, অযৌক্তিকভাবে এবং অসাংগঠনিকভাবে লৌহজং ও টঙ্গিবাড়ী উপজেলার দুইটি নতুন পকেট কমিটি করে কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নিরব তা অনুমোদন করার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। সেই কমিটিতে আমার কিছু লোক দিতে বললে তা তারা মানতে চাননি। এছাড়া, আগামী এক মাস পর জাতীয় নির্বাচন। এখন খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন চলছে। এই মুহুর্তে খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন ও নির্বাচন নিয়ে ভাবা দরকার, কমিটি নিয়ে নয়। কমিটি দেয়া হলে দল বিভক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই কমিটির অনুমোদন দেইনি। সঠিকভাবে তার দায়িত্ব পালন করেছেন বলে দাবি করে তিনি আরো বলেন, দলের প্রতিটি আন্দোলন-কর্মসূচিতে শরীক হয়েছি। মূলত পকেট কমিটির অনুমোদন না দেয়ায় মিজানুর রহমান সিনহা ও কামরুজ্জামান রতনের ইন্ধনে তাকে তার পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেয়া হয়েছে বলে যুবদল নেতা আব্দুস সালাম মোল্লার দাবি।

জেলা যুবদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ বলেন, আমি জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাইয়ের বিরুদ্ধে গিয়ে সভাপতি হয়েছি। সভাপতি হওয়ার পর আব্দুল হাই সাহেবের সঙ্গে মিলে গেছি। কিন্তু মিজানুর রহমান সিনহা ও সালাম মোল্লা দুইজন একই উপজেলা লৌহজংয়ের বাসিন্দা। সালাম মোল্লাকে মিলে যাওয়ার জন্য অনেকবার বলা হয়েছে। প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন ভাইকে নিয়ে সিনহা সাহেবের কাছে গিয়ে মিলতে বলেছি। সিনহা সাহেব জাতীয় সংসদ নির্বাচন করবে। নির্বাচনের জন্য তার পক্ষের লোক লাগবে। এতো বলার পরও তিনি মিলেননি। সিনহা সাহেব কি তার বাসায় যাবে।

সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় বিএনপির কোষাধ্যক্ষ মিজানুর রহমান সিনহা বলেন, এটা যুবদলের ব্যাপার। আমাকে দায়ি করা হলে আমার কি আসে যায়। আমিতো ওর মতো রাজনীতি করে খাই না।

জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল হাই বলেন, সালাম মোল্লা বিরোধী আন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণ করে চলেছে। তাকে তার পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি প্রদানের বিষয়টি শুনেছি। পুরোপুরি এখনো জানিনা।

অবজারভার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.