সিরাজদিখানে গৃহবধূর আত্মহত্যা; মৃত্যু নিয়ে রহস্য

নাছির উদ্দিন: সিরাজদিখানে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। শ^শুরবাড়ির অত্যাচার সইতে না পেরে গৃহবধু তানজিলা (২৩) গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফ্যানের সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে বলে জানা যায়। তবে হত্যা না আত্মহত্যা এ নিয়ে রহস্যের দানা বেধেছে। পুলিশ বলছে ময়না তদন্ত ছাড়া সঠিক কি বলা যাচ্ছে না। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার রশুনিয়া ইউনয়নের পশ্চিম রশুনিয়া গ্রামে ফইজুদ্দিন শেখের বাড়িতে ঘটনাটি ঘটে। সিরাজদিখান থানা পুলিশ দুপুরে স্বামীর বাড়ি থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য লাশ মুন্সীগঞ্জ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

জানাযায়, গৃহবধূ উপজেলার পশ্চিম রশুনিয়া গ্রামের শাহ জামান শেখের স্ত্রী, তাদের সংসারে তানিমা নামের ৩ বছরের ্একটি কন্য সন্তান রয়েছে। তানজিলা একই উপজেলার বয়রাগাদি ইউনিয়নের গোবরদী গ্রামের আব্দুল লতিফের ছোট মেয়ে। স্বামী রশুনিয়া গ্রামের ফইজুদ্দিন শেখের ছেলে, মালয়েশিয়া প্রবাসী, ৩ মাস যাবৎ ছুটিতে বাড়ি এসেছে। ঘটনার পর থেকে সে পলাতক রয়েছে।

গৃহবধূর বড় ভাই মোফাজ্জল হোসেন জানান, তানজিলার স্বামী বেলা ১১ টার দিকে ফোন দিয়ে তাকে জানায় তার বোন মারা গেছে। এর আগে গতরাতে ফোন দিয়ে জানিয়ে ছিল কাল এসে আপনার বোনকে নিয়ে যাবেন। সে আরো জানায় ৪ বছর ধরে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে আমাদের বাড়িতে দু’একটি অনুষ্ঠান ছাড়া আমার বোনকে আসতে দেয়নি। শাহ জামান বিদেশে ছিল তার পরও আমাদের বাড়িতে বেড়াতে আসতে দিত না। স্বামীর দুই বোন ও বড় ভাইয়ের স্ত্রী আমার বোনকে জ¦ালা যন্ত্রণা ও শারীরিক নির্যাতন করত। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

সিরাজদিখান থানার অফিসার ইন-চার্জ ফরিদ উদ্দিন জানান, টিন কেটে ঘর থেকে কারা লাশ বেড় করেছে নাম পাইনি। স্বামী ঘরের বাইরে ছিল। পারিবারিক টুকিটাকি ঝামেলা থাকতে পারে। ময়না তদন্ত ছাড়া বলা যাচ্ছে না হত্যা না আত্মহত্যা। গলায় ফাসের চিহ্ন ছাড়া শরীরে আগাতের আর চিহ্ন ছিল না। রিপোটে যদি হত্যা আসে. তাহলে স্বামীসহ বাড়ির লোকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখন অপমৃত্যু মামলা করা হযেছে। লাশ ময়না তদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.