জেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে নাম শোনা যাচ্ছে মোয়াজ্জেম হোসেনের?

মোহাম্মদ সেলিম ও গোলাম আশরাফ খান উজ্জ্বল: মুন্সিগঞ্জ জেলা যুবলীগ সভাপতি রাজিবকে বহিস্কারের ঘটনায় এ পদে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে এখন নাম শোনা যাচ্ছে মুন্সিগঞ্জ জেলা যুবলীগের সহ সভাপতি মো: মোয়াজ্জেম হোসেন এর। টেঙ্গারচর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো: শাহজাহান খান জেলা যুবলীগের ১নং সহ সভাপতি ছিলেন। কিন্তু এক সময়ে তিনি এ পদ ছেড়ে দিয়ে গজারিয়া উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি হন।

এ কারণে এখন আর তাঁর যুবলীগের পদে ফিরে আসার সম্ভবনা একেবারেই নেই। তিনি যে গজারিয়া উপজেলার কৃষকলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন সেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মুন্সিগঞ্জ জেলা কৃষকলীগের সভাপতি মহসিন মাখন। এক্ষেত্রে যুবলীগের গঠনতন্ত্র অনুয়ায়ি পরবর্তিতে মুন্সিগঞ্জ জেলায় যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পেতে পারেন ৯০’ এর স্বৈরাচারি এরশাদ সরকার বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে অন্যতম নেতা ছিলেন বঙ্গবন্ধুর লড়াকু সৈনিক মো: মোয়াজ্জেম হোসেন। সেই সময় মো: মোয়াজ্জেম হোসেন মুন্সিগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। মো: মোয়াজ্জেম হোসেন জেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হয়ে এখানকার দায়িত্বে আসলে মুন্সিগঞ্জ জেলা যুবলীগ এর রাজনীতি সক্রিয় হয়ে উঠার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বলে এখানকার যুবলীগের কর্মীরা মনে করছেন।

গত বুধবার ৩১ অক্টোবর বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ মুন্সিগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি আকতারুজ্জামান রাজিবকে সংগঠন থেকে বহিস্কার করা হয়।

ঐদিন কেন্দ্রীয় যুবলীগের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গঠনতন্ত্র পরিপন্থী কর্মকান্ডে লিপ্ত থাকায় কেন্দ্রীয় কার্য নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্তে তাকে বহিস্কার করা হয়েছে।

এ পদ পুনরায় ফিরে পেতে রাজিব উচ্চ পর্যায়ে নানাভাবে তদবীর করলেও কোন কাজ হয়নি বলে শোনা যাচ্ছে। বহিস্কারের বিষয়ে কেন্দ্রীয় কমিটি এখনো তাদের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন।

সেক্ষেত্রে এখন আর সহসা বহিস্কার আদেশ প্রত্যাহার হচ্ছে না। বরং কেন্দ্রীয় কমিটি এখন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দিয়ে মুন্সিগঞ্জের কাজ চালিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে হোম ওয়ার্ক করছেন।

যে কারণে রাজিব এ পদ থেকে বহিস্কার হলেন, সেটি হচ্ছে ইতোমধ্যে রাজিব মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার শহর কমিটি কোন সম্মেলন ছাড়াই এক তরফাভাবে ঘোষণা করে ছিলেন। সেই কমিটি সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুসারে হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। ঐ কমিটিতে যারা পদ প্রাপ্তীতে বঞ্চিত হয়েছেন, তাঁরা ঐ অভিযোগ নিয়ে কেন্দ্রে ছুটে যান বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।

আর তাঁর পরিপ্রেক্ষিতেই এ বহিস্কার আদেশ জারি হয় বলে শোনা যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে রাজিবের ঘোষিত শহর কমিটির বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

ইতোমধ্যে যেসব কমিটি এক তরফাভাবে বা সম্মেলন ছাড়াই ঘোষণা করা হয়েছে, সেইসব কমিটি বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মুন্সিগঞ্জ জেলা যুবলীগের সহ সভাপতি মো: মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, জেলা যুবলীগের কার্যক্রম দীর্ঘ বছর ধরেই নিক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। এখানে কেন্দ্রিয় কোন কর্মসূচিই পালন হচ্ছিলো না। তাই কেন্দ্রিয় কমিটি হার্ট লাইনে যেতে বাধ্য হয়েছে।

মুন্সিগঞ্জ নিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.