মিছিল ও জনসভায় মুখরিত মুন্সীগঞ্জ

মিছিল-মিটিংয়ে মুখরিত এখন মুন্সীগঞ্জ। প্রচারে মাঠ সরগরম। নির্বাচন সামনে রেখে মুখরিত এখন জেলার ছয় উপজেলা। মিছিল, মিটিং, জনসভা ও প্রার্থীর গণসংযোগ চলছে বিরামহীন। হাটে-মাঠে-ঘাটে-চায়ের দোকান সব জায়াগায় নির্বাচনী সুর বাজছে জোরেশোরে। হরেক রকম গানের সুরেও এবার চলছে প্রচারে। যা প্রচারে নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে। নৌকার প্রচার জয় বাংলার গান এখন বেশ জনপ্রিয়। ‘জয় বাংলা জিতবে আবার নৌকা…’ গানের সুর গ্রাম-গঞ্জের মানুষকে উদ্বেলিত করছে। নৌকার প্রচর অপেক্ষাকৃত বেশি। তবে প্রচারে বসে নেই বিএনপিও।

মঙ্গলবার বিএনপি প্রার্থী আব্দুল হাই শহরে মিছিল বের করে। বিএনপির এক ধরনের নীরবতার গুমোট হাওয়া জমাট বেঁধে রয়েছে। ভোটের মাঠে সেই গুমোট ভাবের প্রকাশ ঘটবে এমন মন্তব্য অনেকের। এছাড়া জাতীয় পার্টি, ইসলামী শাসনতন্ত্র, কমিউনিস্ট পার্টি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাকের পার্টি তাদের নিরুত্তাপ প্রচার চালাচ্ছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জের তিন আসনেই হাই প্রোফাইলের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

মুন্সীগঞ্জ-১ (শ্রীনগর ও সিরাজদিখান) আসনে এবার নৌকা নিয়ে মাঠ সরগরম করছেন বিকল্প ধারার মুখপাত্র মাহী বি চৌধুরী। ধানের শীষ নিয়ে তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছেন বিএনপির ভাইস প্রেসিডেন্ট জাতীয় পার্টির সাবেক উপ প্রধানমন্ত্রী শাহ্ মোয়াজ্জেম হোসেন।

মুন্সীগঞ্জ-২ (লৌহজং ও টঙ্গীবাড়ি) আসনে নৌকার কান্ডারি অধ্যাপিকা সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি এমপি ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছেন। পদ্মা তীরের শামুরবাড়ি থেকে তিন রাত অবধি প্রচার অংশ নিচ্ছেন। তবে এই আসনে বিএনপি প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহাকে মাঠে দেখা যাচ্ছে না। দেখা গেছে পোস্টার-ব্যনার। এই আসনে আওয়ামী লীগ বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন বলে ভোটারদের সঙ্গে আলোচনা করে জানা গেছে।

মুন্সীগঞ্জ-৩ (মুন্সীগঞ্জ সদর ও গজারিয়া) আসনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা সম্পাদক এ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস এমপি নৌকা নিয়ে ব্যপাক প্রচার চালাচ্ছেন।

নৌকার পালে যেন এখন হাওয়া লেগেছে। অন্যদিকে জেলা বিএনপির সভাপতি এবং খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুল হাইও বসে নেই। নানাভাবে প্রচার চালাচ্ছেন। মিছিল ছাড়াও ঘরে ঘরে গিয়ে জনসংযোগ চালাচ্ছেন। সোমবার সেনাবাহিনী মুন্সীগঞ্জের সব কটি উপজেলায় অবস্থান নিয়েছে। ছয় উপজেলায় প্রায় ৬০ জন করে সেনাবাহিনী দায়িত্ব পালন করছে। মুন্সীগঞ্জের মিরকাদিম, গজারিয়া, টঙ্গীবাড়ি, সিরাজদিখান ও লৌহজংয়ে সেনাবাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন হয়েছে।

জনকন্ঠ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.