মুন্সীগঞ্জ-২ আসনে সিনহা’র নীরবতার নেপথ্যে

বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী মিজানুর রহমান সিন্হার মাঠে না আসা নিয়ে নানা রহস্য দানা বেধেছে। এই নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা মুখে মুখে। হাট-বাজার, চায়ের দোকানসহ নানা আড্ডায় এই অনুপস্থিতি নিয়ে সাধারণের মধ্যে আলোচনার যেন শেষ নেই।

লৌহজংয়ের চায়ের দোকানে সাইদুর রহমান নামের এক মধ্যবয়সী বলছিলেন, নমিনেশন গ্রহণের আগেই শোনা গেছে টাকার কুমির সিনহা ২শ’ কোটি টাকা খরচা করে হলেও খালেদা জিয়াকে পদ্মা সেতুর এলাকা মুন্সীগঞ্জ-২ আসনটি উপহার দেবেন। কিন্তু নির্বাচনে তিনি একেবারেই প্রচারশূন্য। লৌহজংয়ের এই চায়ের দোকানে আলোচনা হচ্ছিল যে, সিনহা বিশেষ কারণে কার্যত নির্বাচন বর্জন করতে যাচ্ছেন। নয়ত প্রচারের শেষদিনেও কেন নেই? বলাবলি হচ্ছিল- নমিনেশন গ্রহণ করে যে সব প্রার্থী এলাকায় অনুপস্থিত রয়েছেন, এমন ২৫/৩০ জনের তালিকায় সিনহা অন্যতম।

লন্ডনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এদের যে কজনকে সম্ভব স্পেশাল কিলার দিয়ে যে কোন মুহূর্তে হত্যা করে আন্তর্জাতিকভাবে বিশ্বে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চলছে। আরও আলোচনা হচ্ছিল- ড. কামাল হোসেনকে হত্যার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে সঙ্গে নিজ দলের নেতারাই এখন হুমকির মুখে রয়েছেন গৃহবন্দী অবস্থায়। এদিকে অন্তঃকলহের আগুনে মিজানুর রহমান সিন্হা মনোনয়নপত্র জমা দিতে গিয়ে গত ২৮ নবেম্বর দলীয় নেতাকর্মীদের চরম বাধার সম্মুখীন হন। দুই গ্রুপের এই সংঘর্ষে ২০ জন আহত এবং তার দলীয় এক নেতা বাদী হয়ে মিজানুর রহমান সিন্হাকে প্রধান আসামি করায় মামলার ঘটনা জাতীয়ভাবে আলোচিত। এরপর আর তাকে এলাকায় দেখা যায়নি। মনোনয়নপত্র বাছাই, মার্কা গ্রহণ এবং প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়ে সিনহা প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন।

তবে গত ২৩ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ১২টায় টঙ্গীবাড়ি উপজেলার বাহেরপাড়ায় সিনহার দুটি গাড়ি ভাংচুর হয়। এতে সিনহাসহ ১১ জন আহত হন। টঙ্গীবাড়ি থানার ওসি শাহ্ আওলাদ হোসেন প্রাথমিকভাবে জানিয়েছেন, টাকা বিলি করতে এসেই গণরোষে পড়েন তিনি।

এই ঘটনায় সিনহা থানায় কোন অভিযোগ পর্যন্ত করেননি। এলাকায় ব্যানার-পোস্টার নেই সিনহার। একদিনের জন্যও এলাকায় প্রচার চালাননি। সে কারণে তিনি এলাকায় তৃণমূলে ব্যাপক ক্ষোভের মুখেও রয়েছেন। প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, মিজানুর রহমান সিন্হাকে আশ্বস্ত করা হলেও বার বার তারিখ দিয়েও কেন এলাকায় আসছেন না তা বোধগম্য নয়।

এসব বিষয়ে মিজানুর রহমান সিন্হাকে সেলফোনে কয়েক দফা ফোন করা হয়। কিন্তু ফোনটি রিসিভ করেননি। এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাই বলেন, তার জানেরও ভয় আছে। পরিবার নিয়ে আসার পথেও হামলার শিকার হন। তারপরও সিনহা চেষ্টা করবেন ভোটের আগের দিন অথবা ভোটের দিন আসার।

জনকন্ঠ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.