মুল সাইটে যাওয়ার জন্য ক্লিক করুন

পাঠক সংখ্যা

  • 9,744 জন

বিভাগ অনুযায়ী…

পুরনো খবর…

জমিদার পচু বেপারির ঐতিহাসিক সিংহদুয়ার ও হাওয়াখানা

আলীম আল রশিদ: ছবিতে যে পোড়ো বাড়ির একটা অংশ দেখা যাচ্ছে এইটা বিক্রমপুরের জমিদার পচু বেপারি সাহেবের ঐতিহাসিক হাওয়াখানা। এটার নীচেই জমিদার বাড়ির সিংহ দরোজা। এই সিংহদুয়ারের পাশ ধরে চারপাশে বিশাল আকারের উচু পাচিল। তার পাশ ঘিরে চলে গেছে রাজা বল্লাল সেনের রাজপথ ঐতিহাসিক কাচকির দরজা ছুঁয়ে রামপাল।

কাচকির দরজা নামেরও একটা ঐতিহাসিক ঘটনা রয়েছে। রাজা বল্লাল সেনের রাজ জ্যোতিষ মশাই ঠিকুজী গণনা করে দেখলেন যে রাজমাতার মৃত্যু হবে মাছের কাটা গলায় ফুটে। এ কথা শুনেই রাজা বল্লাল সেন ভীষণ চিন্তায় পড়ে গেলেন, ভাবলেন কিভাবে রাজমাতাকে রক্ষা করা যায়।

রাজার চিন্তিত ভাব দেখে মন্ত্রী ও আমত্যবর্গ এ সংকট উত্তরণে সবাই মিলেমিশে শলাপরামর্শ করে এক সিদ্ধান্তে উপনীত হয়ে রাজাকে সুধালেন, যেহেতু রাজমাতার জীবন আশংকা, অতএব একমত্র কাচকি মাছ ছাড়া অন্য কোন মাছ রাজধানীর কোন বাজারে উঠানো যাবেনা কিংবা কেউ ধরতে পারবেনা।

রাজা চিন্তা ভাবনা করে দেখলেন মৎস্য ভোজের চেয়ে মায়ের জীবনের মূল্য অধিক, তাই এ সিদ্ধান্তে অনুমতি দেয়ায় পর সারা রাজধানী জুড়ে ঢাক ঢোল শহরত করে সবাইকে সতর্ক করে দেয়া হলো যে কাচকি মাছ ব্যতীত অন্য মাছ বাজারে উঠানো যাবেনা ।

রাজধানীতে একমাত্র কাচকি মাছ আনার পথ ছিল রাজবাটী থেকে সোজা উত্তর দিকের ধলেশ্বরী নদী। তাই প্রতিনিয়ত কাচকি মাছের অসংখ্য খারি যেতো যেপথ দিয়ে সেটাই ছিল ঐতিহাসিক কাচকির দরজা রাজপথ।

পচু বেপারি এই কাচকি দরজার পাশে নিজ সিংহদুয়ারের আসনে বিকেলে বন্ধুদের নিয়ে আয়েস করে বসতেন আর পথচারীদের চলাচল দেখতেন। পাশাপাশি এখনে দক্ষিণা বা পুবাল হাওয়ার আমেজে মুগ্ধ হয়ে কখনো কখনো রাজহুকোতে তামাক সেবন করতেন। কিংবা বন্ধুদের সাথে গালগল্প করে সময় কাটাতেন।

সিংহদুয়ারের উপরে ছিল জমিদারের হাওয়াখানা। যখন কখনো কখনো হাওয়া পড়ে যেত কিংবা তাপের উষ্ণতায় অস্থির হয়ে উঠতেন। তখনই পচু বেপারি বন্ধুদের নিয়ে এই হাওয়াখানার উপর চলে আসতেন। এখানে হাওয়া খাওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সুগন্ধি মশলার পান দোক্তা কিংবা রাজহুকোতে রাজকীয় তামাক সেবন চলতো বিরামহীন গতিতে।

শুধু তাই নয় কখনো কখনো এই হাওয়াখানায় লৌক্ষ্ম থেকে বাঈজি আনা হতো মনোরঞ্জনের জন্য। মাঝেমাঝে ঠুমরী বা ক্লাসিকেল গানের সাথে চলতো সারারাত ব্যাপী নাচের নিক্কন।

Leave a Reply

You can use these HTML tags

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

  

  

  

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.