অল্পের জন্য প্রতারণার হাত হতে বাঁচলাম

অল্পের জন্য প্রতারণার হাত হতে বাঁচলাম! প্রতারকের দেয়া লোভনীয় খপ্পরে পা দিলেই নির্ঘাত আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতাম। অভিনব প্রতারণার মাধ্যম হিসেবে এবার সাংবাদিকদের টার্গেট করেছে একটি প্রতারক চক্র। এ চক্রের লোভনীয় অফারে পড়লেই খোয়াতে হবে টাকা-পয়সা।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারী সন্ধ্যা ৬টা ৪৭ মিনিটে আমার মোবাইলে ০১৭৪৪২৮৬৫০৬ এই নাম্বার হতে একটি কল আসে। অপর প্রান্ত থেকে ভদ্রলোক নিজের নাম জাকির হোসেন বলে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ এর একজন কর্মকতা বলে পরিচয় দিয়ে মুন্সীগঞ্জের ৩ জন এমপির নাম্বার চান। তিনি বলেন, রাত ৯টায় আমি আপনাকে কল দিবো। আমাকে মুন্সীগঞ্জের এমপিরে মোবাইল নাম্বারগুলো দিবেন। ইসলামী ব্যাংক মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন মসজিদ মাদ্রাসায় কিছু কার্পেট, ঘরি ও অন্যান্য ইসলামিক বই পত্র বিতরণ করবে। রাত্র ৯টায় ঠিকই তিনি ফোন দিলেন এবং এমপিদের নাম্বার চাইলেন। আমি এক এক করে নাম্বার দিলাম। এ সময় তাকে বললাম আপনি যেহেতু হেড অফিসে আছেন আমাকে কিছুটা সহযোগিতা করা যায় কীনা? আমার প্রেস ক্লাবে কিছু দিন পরে একটি অনুষ্ঠান আছে। একটা বিজ্ঞাপন দেয়া যায় কীনা? তিনি বললেন না বিজ্ঞাপন নায়, তবে আপনি যেহেতু সাংবাদিক আপনাকে ল্যাপটব দেয়া যেতে পারে। একটি ৬৫ হাজার টাকার ল্যাবটবের জন্য আপনি ৭ হাজার টাকা জমা দিলেই এটি নিতে পারবেন। আগামী শনিবার (২ মার্চ) আপনি হেড অফিসে আসেন।

শনিবার সকালে তাকে ফোন দিলাম আমি কি আজ আসবো? তিনি জানালেন, আপনার ল্যাপটবের জন্য আমি ফরম ফিলাপ করে স্যারের কাছে জমা দিয়েছি। তাছাড়া একটি পালসার মটর সাইকেলের কথাও বলেছি স্যারকে। সাংবাদিকের জন্য আমরা মাঝে মধ্যে এ রকম সহযোগিতা করে থাকি। ল্যাপটবের জন্য অপাতত আপনাকে ২৬৫০ টাকা ০১৮৮১৯৬৫৬৫১ নাম্বারে বিকাশ করে পাঠাতে হবে। এক ঘন্টার মধ্যে পাঠিয়ে দেন, কালই হেড অফিসে এসে বাকী টাকা জমা দিয়ে ল্যাবটব নিয়ে যাবেন। এই বলে সে কথা বলা শেষ করলো। আমার মাথায় তখন অনেক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। এক দিকে লোভনীয় অফার ৬৫ হাজার টাকার ল্যাপটব মাত্র ৭ হাজার টাকায়। আবার পালসার মোটর সাইকেলও! আবারও চিন্তা করছি প্রতারকের পাল্লায় পড়লামনাতো? অনেক ধরণের প্রতারণার কথাইতো এ পর্যন্ত নিজের প্রতিকায় লিখেছি,জেনেছি। এখন নিজেই কি প্রতারণার শিকার হতে চলেছি ? এই ভেবে আবারো সেই জাকির নামের ভদ্র লোককে ফোন দিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিলাম, আমি বিকাশে টাকা পাঠাচ্ছিনা। আমি সরাসরি হেড অফিসে এসে টাকা দিয়ে ল্যাপটব গ্রহন করতে চাই। তিনি বললেন আগামী কাল রবিবার (৩ মার্চ) হেড অফিসে আসুন। ল্যাপটবের ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। কথামত রবিবার সকালে কথিত জাকির সাহেবের নাম্বারে ফোন দিলাম, তিনি ফোন ধরলেননা। এভাবে কয়েক দফায় চেষ্টা করেও তাকে পেলামনা। অবশেষে ওয়েব সাইড থেকে ইসলামী ব্যাংক হেড অফিসের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন জসিমের মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করে তাঁর সাথে যোগাযোগ করি। তিনি জানালেন, এ নামের কেউ এখানে নেই। তাছাড়া ল্যাপটবতো দূরের কথা, এভাবে এমপিদের নাম্বার সংগ্রহ করে কার্পেট বা ইসলামী সামগ্রী বিতরণের কোন কর্মসূচীও নেই আমাদের।

আসল ব্যাপার আর বোঝতে বাকী রইলোনা। আমি প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়েছিলাম। যদি লোভেরবশে বিকাশে টাকা পাঠাতাম তবে আমার ওই টাকাই মাটি হয়ে যেতো। হয়তো নতুন কোন লোভ দিয়ে আরো টাকা পাঠাতে বলতো। তাই অল্পের জন্য প্রতারণার হাত হতে বাঁচলাম। মুন্সীগঞ্জের সাংবাদিকসহ দেশের সকল সাংবাদিকের প্রতি অনুরোধ এ ধরণের প্রতারণনায় পা দিবেননা।

—– মো: মাসুদ খান

আলোকিত মুন্সীগঞ্জ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.