কলেজছাত্র ওসমান গণির মৃত্যু : সড়ক দুর্ঘটনা নাকি হত্যা!

ওসমান গণি রাব্বি ওরফে বাবু (২৪) সরকারি হরগঙ্গা কলেজের রাষ্ট্র বিজ্ঞানের মাস্টার্স ১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ইমামপুর ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামে। বাবার নাম আবু বক্কর ছিদ্দিক প্রধান। চার ভাইয়ের মধ্যে ওসমান বড়। বাবা ছোট বেলায় মারা গেছে। দাদা সালামত প্রধান তাকে লালন পালন করেছেন এবং তার ৩ একর সম্পত্তি উইল করে দিয়েছেন। ওসমান গণির মেঝ ভাই হাবিবুর রহমান (২১) ডিগ্রীতে পড়াশুনা করছে। আরেক ভাই জাকির হোসেন (২০) ঢাকা কলেজে অনার্সে পড়াশুনা করে এবং ছোট ভাই ইব্রাহীম খলিল এইচ এস.সি পরীক্ষার্থী।

ওসমান গণি লেখাপড়ার পাশাপাশি টিউশনি করে সংসার চালিয়ে আসছিলেন। তাকে কেন্দ্র করে পুরো পরিবারটি শিক্ষার আলোতে আলোকিত হচ্ছিল।গত ২০ মার্চ বুধবার সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হন ওসমান গণি রাব্বি ওরফে বাবু। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরেরদিন মারা যান তিনি।

তবে সেটা সত্যি সড়ক দুর্ঘটনা ছিল নাকি পরিকল্পনা করে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছিল? সে নিয়ে নানা প্রশ্ন এখন জনমনে।

সরেজমিনে গিয়ে খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, এলাকার লোকমুখে চায়ের দোকান, রসুলপুর বাজার থেকে শুরু করে সকল জায়গায় এখন ওসমান গণির হত্যাকে কেন্দ্র করেই আলাপচারিতা করতে দেখা গেছে। ওসমান গণি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন এমন একটি খবর এলাকায় ছড়ানো হলেও কেউ কেউ বলছেন তাকে গভীর রাতে চট্টগ্রামের উদ্দেশে নিয়ে হত্যা করে সড়ক দুর্ঘটনার নাটক করা হয়েছে।

ওসমান গণির মা হাফিজা আক্তার ও দাদা সালামত প্রধান তার নাতির কথা বলতে বলতে বার বার মুষড়ে পড়ছিলেন। ওসমান গণির লাশ খুব গোপনে রসুলপুর বাজারের কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

জানা যায়, ওসমান গণি (রাব্বি) ১৯ তারিখ বিকেল ৩টায় ছোট খালা পারভিনকে ফোন করে বলে, “মাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন কাল প্লেনে করে কক্সবাজার যাবো। বোরহান দাদা হেদায়েতুল্লাহ হেদু দাদা, রেজাউল মেম্বার ও খোকনসহ চার জন এই সফরে কক্সবাজারে যাবে”।

ওসমান গণির খালা বলেন, পরের দিন রেজাউল মেম্বার ও খোকন যায়নি। চাকরি দেওয়ার কথা বলে সীতাকুণ্ড নিয়ে যায় হেদায়াতুল্লাহ হেদু। কিন্তু প্লেনের কথা বলে গাড়িতে করে কেন নিয়ে গেলো? এ ব্যাপারে আমাদের সন্দেহ আছে।

অন্যদিকে এলাকার সকলের প্রশ্ন হেদায়াতুল্লাহ হেদুর সিটের পার্শ্বে যদি ওসমান গণি বসা থাকে তবে ড্রাইভার হেদায়াতুল্লাহ হেদু কিভাবে বেঁচে গেল? ময়না তদন্ত ছাড়া কিভাবে ওসমান গণির লাশ দাফন করা হলো? এমনি কত শত প্রশ্ন এখন এলাকাবাসীর মুখে মুখে। কিন্তু হেদায়াতুল্লাহ হেদুরা এলাকায় এতটাই প্রভাবশালী যে, তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে রাজি হচ্ছেন না।

এ বিষয় গজারিয়া থানার ওসি মো. হারুন অর রশিদ জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করা হবে। তদন্ত করে বিষয়টি নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

খুব দ্রুত পুলিশ প্রশাসন বিষয়টি রহস্য উদঘাটন করবে এবং এই ঘটনার সাথে যারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসবেন এই কামনা করছে ইমামপুর ও রসুলপুর এলাকার সাধারণ জনগণ।

দৈনিক অধিকার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.