মুল সাইটে যাওয়ার জন্য ক্লিক করুন

পাঠক সংখ্যা

  • 9,802 জন

বিভাগ অনুযায়ী…

পুরনো খবর…

‘মুন্সীগঞ্জে পিরামিড আকৃতির সমাধি মিলেছে’

মুন্সীগঞ্জের রঘুরামপুর ও নাটেশ্বরে প্রত্নতাত্ত্বিক খননকাজের সময় পিরামিড আকৃতির সমাধি পাওয়া গেছে। জাহাঙ্গীনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক এবং বিক্রমপুর অঞ্চলে প্রত্নতাত্ত্বিক খনন ও গবেষণা কর্মসূচির গবেষণা পরিচালক ড. সুফি মোস্তাফিজুর রহমান এই তথ্য জানিয়েছেন। রঘুরামপুর ও নাটেশ্বরে প্রত্নতাত্ত্বিক খননকাজে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে এম খালেদ। মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে নাটেশ্বর দেউল গ্রামে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব তথ্য জানান।

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে এম খালেদ বলেন, ‘রঘুরামপুর ও নাটেশ্বরে প্রত্নতাত্ত্বিক খননকাজের মাধ্যমে ঐতিহ্য সমৃদ্ধ হবে। খনন কাজে সরকারের সহযোগিতা থাকবে। খনন করে যে সব প্রত্নসম্পদ পাওয়া গেছে তা যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। এতে এখানে পর্যটকদের আগমন বাড়বে।’ উল্লেখ্য, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের সহযোগিতায় রঘুরামপুর ও নাটেশ্বরে প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান চলছে।

ড. সুফি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘এ বছরের খননকাজের সবচেয়ে বড় আবিষ্কার হলো পিরামিড আকৃতির স্তূপ। যা দেশের এধরনের সবচেয়ে বড় স্তূপ। যার একটি বাহুর দৈর্ঘ্য ৪৩.৫ মিটার। অনুমান করে জানা যায়, এর উচ্চতাও ৪৩.৫ মিটার। এই স্তূপ হলো মূলত বৌদ্ধ ধর্মের সমাধি এবং বৌদ্ধ ধর্মচর্চার কেন্দ্র। রঘুরামপুরে যে খননকাজ হচ্ছে এটি হচ্ছে বিক্রমপুরী বৌদ্ধবিহার। এর অংশবিশেষ খনন করে এই স্তূপ আবিষ্কার করেছি। দুই বছরের মধ্যে এখানে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠবে।’

সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানা যায়, ২০১০-১৩ সাল পর্যন্ত ৯টি প্রত্নস্থানে পরীক্ষামূলক খনন কাজ পরিচালিত হয়। রামপাল ইউনিয়নের রঘুরামপুর গ্রামে ছয়টি ভিক্ষু কক্ষ, একটি মণ্ডপ ও পঞ্চস্তূপ আবিষ্কৃত হয়। ২০১৩ সাল থেকে নাটেশ্বর দেউলে প্রত্নতাত্ত্বিক খননে বৌদ্ধ মন্দির, অষ্টকোণাকৃতি স্তূপ, ইট নির্মিত রাস্তা, ইট নির্মিত নালা আবিষ্কৃত হয়। ২০১৩-২০১৮ সাল পর্যন্ত খননে পাঁচ হাজার বর্গমিটারের বেশি এলাকা উন্মোচিত হয়। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে পরীক্ষামূলক খননে বল্লালবাড়ী থেকে প্রাচীন বসতির আলামত পাওয়া গেছে। নাটেশ্বরে পূর্ব-পশ্চিম প্রলম্বিত উত্তর বাহুটি ৪৩ দশমিক পাঁচ মিটার পাওয়া গেছে। নাটেশ্বর পিরামিড আকৃতির বাংলাদেশের বৃহত্তর বৌদ্ধ স্তূপটি ভারতবর্ষের বড় বড় স্তূপ যেমন–সাঁচি, ভারহুত, অমরাবতী এসবের সমগোত্রীয়। বৌদ্ধ স্তূপ বৌদ্ধধর্ম চর্চার কেন্দ্র।

আজ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার আশফাকুজ্জামান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারুখ আহম্মেদ, টংগিবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসিনা আক্তার, দৈনিক সভ্যতার আলো পত্রিকার সম্পাদক মীর নাসির উদ্দিন উজ্জ্বল, মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ভবতোষ চৌধুরী নূপুর প্রমুখ।

বাংলা ট্রিবিউন

Leave a Reply

You can use these HTML tags

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

  

  

  

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.